কেন ওমরাহ করেছেন নবীজি হজের মাসে—এই প্রশ্নটি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মহানবী মুহাম্মদ (সা.) হিজরতের পর মোট চারবার ওমরাহ পালন করেন এবং প্রতিবারই তা হজের মাস জিলকদে সম্পন্ন হয়।
হাদিস বিশারদদের মতে, এটি ছিল কেবল ইবাদত নয়, বরং একটি সামাজিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপও। জাহেলি যুগে আরবরা বিশ্বাস করত হজের মাসে ওমরাহ করা গুনাহ। নবীজি (সা.) এই ভুল ধারণা ভেঙে দিতে সচেতনভাবে এই সময় নির্বাচন করেন।এ কারণে কেন ওমরাহ করেছেন নবীজি হজের মাসে—এর উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা দেখতে পাই এটি ছিল সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা এবং কুসংস্কার দূর করার একটি বাস্তব উদাহরণ।
নবীজির চারটি ওমরাহর ইতিহাস
প্রথমটি ছিল, হোদাইবিয়ার ওমরাহ। ষষ্ঠ হিজরির জিলকদ মাসে তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন, কিন্তু হুদায়বিয়া এলাকায় বাধার সম্মুখীন হন। দ্বিতীয়টি ছিল, ওমরাতুল কাজা, যা সপ্তম হিজরির জিলকদ মাসে সম্পন্ন হয়। তৃতীয়টি জিঈররানা থেকে, যেখানে জিইররানা থেকে ইহরাম বেঁধে ওমরাহ আদায় করা হয়। চতুর্থটি ছিল, বিদায় হজের সময় সম্পন্ন ওমরাহ।সবগুলো ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায়, হজের মাসেই ওমরাহ সম্পন্ন হয়েছে।
ইহরামের নিয়ম ও বিশেষ ঘটনা
কেন ওমরাহ করেছেন নবীজি হজের মাসে—এই প্রশ্নের আরেকটি দিক হলো ইহরামের পদ্ধতি।নবীজি (সা.) সবসময় মিকাত থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কায় প্রবেশ করতেন। তিনি সাধারণভাবে মক্কার ভেতর থেকে বারবার ওমরাহ করার প্রথা চালু করেননি।তবে বিশেষ কারণে তাঁর স্ত্রী আয়েশা (রা.) তানয়িম থেকে ওমরাহ করেছিলেন। এটি ছিল ব্যতিক্রমী ঘটনা।
জিলকদ মাসের ধর্মীয় তাৎপর্য
কেন ওমরাহ করেছেন নবীজি হজের মাসে—এর পেছনে বড় শিক্ষা রয়েছে।জাহেলি যুগের কুসংস্কার ভেঙে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে আল্লাহর ইবাদতের জন্য কোনো সময় অশুভ নয়।ইসলামি স্কলারদের মতে, জিলকদ মাসে ওমরাহ পালন করা সুন্নাহ অনুসরণের একটি সুন্দর উপায়।



























