ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুদের কাশির ওষুধ নিয়ে সতর্কবার্তা, যা জানা জরুরি

জেনে নিন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ঝুঁকি এবং নিরাপদ বিকল্প সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।ছবি- সংগ্রহীত

শিশুর সর্দি-কাশি হলে অনেক অভিভাবক দ্রুত আরাম দিতে কাশির সিরাপ ব্যবহার করেন। তবে সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—এই সিরাপগুলো শিশুদের জন্য কতটা নিরাপদ?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কাশির সিরাপ সবসময় নিরাপদ নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, খিঁচুনি, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা এবং কিডনি বা লিভারের সমস্যা। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।

Centers for Disease Control and Prevention (CDC)-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু কাশির সিরাপে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বিশেষ করে ডাইথিলিন গ্লাইকল বা ইথিলিন গ্লাইকলের মতো উপাদান কিডনির গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।

এ বিষয়ে World Health Organization-এর মহাপরিচালক Tedros Adhanom Ghebreyesus সতর্ক করে বলেছেন, কিছু নির্দিষ্ট কাশির সিরাপ শিশুদের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এসব সিরাপের ব্যবহার অনেক দেশে সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, কাশির সিরাপ ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন দেশে বহু শিশুর মৃত্যু এবং অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে Food and Drug Administration (FDA) দুই বছরের নিচের শিশুদের জন্য প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাশির সিরাপ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। কানাডায় এই বয়সসীমা আরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সিরাপে থাকা হাইড্রোকার্বন, গুয়াইফেনেসিন, সিউডোএফিড্রিন, ডেক্সট্রোমেথরফানসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান শিশুর শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওষুধ কেনার আগে উপাদান তালিকা ভালোভাবে দেখা জরুরি।

শিশুর সর্দি-কাশিতে বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ হতে পারে। যেমন—মধু, গরম পানি বা দুধ, ভেষজ উপাদান (তুলসি, বাসক পাতার রস) ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনে কাশির সিরাপ না দিয়ে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সচেতনতা ও সঠিক সিদ্ধান্তই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের কাশির ওষুধ নিয়ে সতর্কবার্তা, যা জানা জরুরি

Update Time : ১০:৪৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

শিশুর সর্দি-কাশি হলে অনেক অভিভাবক দ্রুত আরাম দিতে কাশির সিরাপ ব্যবহার করেন। তবে সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—এই সিরাপগুলো শিশুদের জন্য কতটা নিরাপদ?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কাশির সিরাপ সবসময় নিরাপদ নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, খিঁচুনি, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা এবং কিডনি বা লিভারের সমস্যা। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।

Centers for Disease Control and Prevention (CDC)-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু কাশির সিরাপে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বিশেষ করে ডাইথিলিন গ্লাইকল বা ইথিলিন গ্লাইকলের মতো উপাদান কিডনির গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।

আরও পড়ুন  ভুঁড়ি বাড়লে পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, জানুন কারণ ও প্রতিকার

এ বিষয়ে World Health Organization-এর মহাপরিচালক Tedros Adhanom Ghebreyesus সতর্ক করে বলেছেন, কিছু নির্দিষ্ট কাশির সিরাপ শিশুদের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এসব সিরাপের ব্যবহার অনেক দেশে সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, কাশির সিরাপ ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন দেশে বহু শিশুর মৃত্যু এবং অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে Food and Drug Administration (FDA) দুই বছরের নিচের শিশুদের জন্য প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাশির সিরাপ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। কানাডায় এই বয়সসীমা আরও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে? গবেষণায় নতুন তথ্য

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সিরাপে থাকা হাইড্রোকার্বন, গুয়াইফেনেসিন, সিউডোএফিড্রিন, ডেক্সট্রোমেথরফানসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান শিশুর শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওষুধ কেনার আগে উপাদান তালিকা ভালোভাবে দেখা জরুরি।

শিশুর সর্দি-কাশিতে বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ হতে পারে। যেমন—মধু, গরম পানি বা দুধ, ভেষজ উপাদান (তুলসি, বাসক পাতার রস) ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)।

আরও পড়ুন  স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনে কাশির সিরাপ না দিয়ে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সচেতনতা ও সঠিক সিদ্ধান্তই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে।