ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ Logo মার্তিনেজকে দলে চায় জুভেন্তাস, বিশ্বকাপের আগে জোর গুঞ্জন Logo অনার্স কোর্স: উচ্চশিক্ষায় নতুন সংস্কার পরিকল্পনা Logo ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল এখন কোথায়? Logo বিশ্ববাজারে নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে Logo আদিতমারীতে কিশোর মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য Logo ব্রাজিলের খারাপ সময়ও অনেক দলের সেরা সময়ের চেয়ে বড় Logo জুলাইয়ের আহতদের পাশে প্রশাসন, পুনর্বাসনের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের Logo তারকা জুটির বিলাসবহুল বিয়ে ঘিরে ক্ষোভ, ইতালির শহরে প্রতিবাদে নামলেন বাসিন্দারা Logo স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায়, আপিলে শুনানি কাল

হঠাৎ রেগে যাচ্ছেন? এটি হতে পারে মারাত্মক মানসিক রোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:১৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩০

অতিরিক্ত রাগ বা হঠাৎ বিস্ফোরক আচরণ একটি মানসিক রোগ হতে পারে।ছবি- সংগ্রহীত

অতিরিক্ত রাগ বা হঠাৎ বিস্ফোরক আচরণ অনেক সময় শুধু ব্যক্তিত্বের সমস্যা নয়—এটি একটি মানসিক ব্যাধিও হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে Intermittent Explosive Disorder (আইইডি) বলা হয়।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামান্য কারণেই তীব্র রাগে প্রতিক্রিয়া দেখান, যা পরিস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ সময় স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করেই রাগের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেন। এতে তারা চিৎকার, আক্রমণাত্মক আচরণ বা সহিংসতা প্রদর্শন করতে পারেন।

Lebanese American University Medical Center-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ Jocelyne Azar বলেন, এই রোগ অনেক সময় অন্যান্য মানসিক সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, যেমন বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যা।

এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত উত্তেজনা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর কাঁপা এবং হঠাৎ রাগের বিস্ফোরণ। রাগের পর রোগীরা সাধারণত ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং পরে নিজেদের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তিন মাস ধরে নিয়মিত রাগের এমন বিস্ফোরণ ঘটে বা বছরে অন্তত তিনবার গুরুতর আক্রমণ দেখা যায়, তবে এটি আইইডির লক্ষণ হতে পারে।

এই রোগের পেছনে শৈশবের মানসিক আঘাত, পারিবারিক সমস্যা, নির্যাতন বা জেনেটিক কারণ কাজ করতে পারে। মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ Amygdala অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়লে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের কৌশল এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ

হঠাৎ রেগে যাচ্ছেন? এটি হতে পারে মারাত্মক মানসিক রোগ

Update Time : ০৬:১৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

অতিরিক্ত রাগ বা হঠাৎ বিস্ফোরক আচরণ অনেক সময় শুধু ব্যক্তিত্বের সমস্যা নয়—এটি একটি মানসিক ব্যাধিও হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে Intermittent Explosive Disorder (আইইডি) বলা হয়।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামান্য কারণেই তীব্র রাগে প্রতিক্রিয়া দেখান, যা পরিস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন।

আরও পড়ুন  দুপুরের ঘুম শিশু বিকাশে কেন জরুরি

বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ সময় স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করেই রাগের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেন। এতে তারা চিৎকার, আক্রমণাত্মক আচরণ বা সহিংসতা প্রদর্শন করতে পারেন।

Lebanese American University Medical Center-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ Jocelyne Azar বলেন, এই রোগ অনেক সময় অন্যান্য মানসিক সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, যেমন বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যা।

আরও পড়ুন  সম্পর্কের রেড ফ্ল্যাগ চিনবেন কীভাবে ?

এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত উত্তেজনা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর কাঁপা এবং হঠাৎ রাগের বিস্ফোরণ। রাগের পর রোগীরা সাধারণত ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং পরে নিজেদের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তিন মাস ধরে নিয়মিত রাগের এমন বিস্ফোরণ ঘটে বা বছরে অন্তত তিনবার গুরুতর আক্রমণ দেখা যায়, তবে এটি আইইডির লক্ষণ হতে পারে।

আরও পড়ুন  সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এড়িয়ে চলুন আচরণ

এই রোগের পেছনে শৈশবের মানসিক আঘাত, পারিবারিক সমস্যা, নির্যাতন বা জেনেটিক কারণ কাজ করতে পারে। মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ Amygdala অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়লে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের কৌশল এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।