সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে কেউ কেউ অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এই আইনে আনা সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে বৃদ্ধ মা-বাবার সুরক্ষা দেওয়া। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আয়োজিত চাকরি মেলার সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিতর্ক সৃষ্টি করার প্রয়োজন নেই। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের লক্ষ্য মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। বিশেষ করে বয়সের ভারে যেসব মা-বাবা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে প্রবীণ মা-বাবার নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা পরিবারের পাশাপাশি রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ বা অনিশ্চয়তার কারণে যাতে বয়স্ক বাবা-মাকে অসহায় পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তাই সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে যেকোনো আলোচনা করার ক্ষেত্রে এর উদ্দেশ্য ও মানুষের স্বার্থকে সামনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ক্ষুদ্রঋণ খাতের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশের অনেক মানুষকে আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে ক্ষুদ্রঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে এই খাতের অবদান রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ক্ষুদ্রঋণ খাতকে সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এ খাতের কার্যক্রম আরও কার্যকর হলে অর্থনীতিতে এর সুফল বিস্তৃত হতে পারে।
যশোরে আয়োজিত চাকরি মেলার সেমিনারে দেওয়া আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ খাত আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।



























