ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কবে কাটবে? স্বস্তি মিলবে কবে, জানাল সরকার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি অব্যাহত, পরিস্থিতির উন্নতিতে কাজ করছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত।

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে আশা করছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হতে পারে।
তার দাবি, জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট দিন এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

সাম্প্রতিক সংকটের বড় কারণ ছিল মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটি।
গত ২১ জুলাই ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর প্রায় তিন সপ্তাহ গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
মেরামত শেষে ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলেও সরবরাহ ব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হয়নি।
সরকার আশা করছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ভাগেই গ্যাস সরবরাহ আরও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।

গ্যাসের সংকট সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব ফেলেছে।
দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
একদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, অন্যদিকে শিল্প ও বাসাবাড়িতে গ্যাস দিতে গিয়ে সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে।
ফলে অনেক এলাকায় এখনও লোডশেডিং এবং গ্যাসের স্বল্পচাপের অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের আরেকটি কারণ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারা।
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে।
মাতারবাড়ীর একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পূর্ণ উৎপাদনে নেই।
সরকার এসব ইউনিট দ্রুত চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুযায়ী পুরো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ।
চুক্তিতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও দিনে প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে।
এতে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান আরও বেড়েছে।
এর সঙ্গে নেপালের বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ায় পরিস্থিতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ খাতে বকেয়া পরিশোধসহ উৎপাদন সচল রাখতে সরকার প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রয়োজনে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু সাময়িকভাবে এলএনজি বা তেলভিত্তিক উৎপাদন বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।
BERC চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সমন্বিত বিনিয়োগ প্রয়োজন।
সরকারও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির পথে থাকলেও ভোগান্তি পুরোপুরি শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে।
সরকারের লক্ষ্য সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আনা এবং বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফেরানো।
গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কতটা বাড়ানো যায়, সেটিই এখন সংকট কাটার মূল বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কবে কাটবে? স্বস্তি মিলবে কবে, জানাল সরকার

Update Time : ১১:১৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে আশা করছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হতে পারে।
তার দাবি, জ্বালানি সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট দিন এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

সাম্প্রতিক সংকটের বড় কারণ ছিল মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটি।
গত ২১ জুলাই ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর প্রায় তিন সপ্তাহ গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
মেরামত শেষে ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলেও সরবরাহ ব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হয়নি।
সরকার আশা করছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ভাগেই গ্যাস সরবরাহ আরও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।

আরও পড়ুন  গ্যাস সরবরাহ আরও কমেছে, ঢাকায়ও শুরু লোডশেডিং

গ্যাসের সংকট সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব ফেলেছে।
দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
একদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, অন্যদিকে শিল্প ও বাসাবাড়িতে গ্যাস দিতে গিয়ে সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে।
ফলে অনেক এলাকায় এখনও লোডশেডিং এবং গ্যাসের স্বল্পচাপের অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের আরেকটি কারণ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারা।
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে।
মাতারবাড়ীর একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পূর্ণ উৎপাদনে নেই।
সরকার এসব ইউনিট দ্রুত চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুযায়ী পুরো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ।
চুক্তিতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও দিনে প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে।
এতে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান আরও বেড়েছে।
এর সঙ্গে নেপালের বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ায় পরিস্থিতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  রাজশাহীর যেসব এলাকায় শনিবার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

পরিস্থিতি সামাল দিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ খাতে বকেয়া পরিশোধসহ উৎপাদন সচল রাখতে সরকার প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
বর্তমানে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রয়োজনে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু সাময়িকভাবে এলএনজি বা তেলভিত্তিক উৎপাদন বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।
BERC চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি অবকাঠামো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সমন্বিত বিনিয়োগ প্রয়োজন।
সরকারও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  গ্যাস সংকটে বন্ধ নিত্যপণ্যের কারখানা, বাড়ছে সরবরাহের শঙ্কা!

সব মিলিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির পথে থাকলেও ভোগান্তি পুরোপুরি শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে।
সরকারের লক্ষ্য সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আনা এবং বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফেরানো।
গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কতটা বাড়ানো যায়, সেটিই এখন সংকট কাটার মূল বিষয়।