আমির খানকে ঘিরে বলিউডে যত আলোচনা, তাঁর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনও কম আলোচিত নয়। একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদের পরও সাবেক স্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেননি এই অভিনেতা। বরং রিনা দত্ত ও কিরণ রাওয়ের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তিনি। এবার আমিরের সম্পর্কের ধরন ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা বলেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিনেতা আমিন হাজি এবং তাঁর স্ত্রী শার্লট। তাঁদের বক্তব্যেই উঠে এসেছে, কেন আমিরকে মজা করে ‘ভালো স্বামীর চেয়েও ভালো প্রাক্তন স্বামী’ বলা হয়।
সিদ্ধার্থ কান্নানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আমিন হাজি জানান, সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমিরের কাছে বিশ্বস্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারও কোনো একটি আচরণে তিনি কষ্ট পেলেও সেটিকে কেন্দ্র করে পুরো সম্পর্ককে বিচার করেন না। আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, আমির একবার রসিকতা করে বলেছিলেন, তিনি নাকি ‘ভালো স্বামীর চেয়েও ভালো প্রাক্তন স্বামী’। কথাটি মজার হলেও এর মধ্যে অভিনেতার সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে বলে মনে করেন তাঁর বন্ধু। অর্থাৎ সম্পর্ক শেষ হলেও পারস্পরিক সম্মান ও মানবিকতার জায়গাটি ধরে রাখার চেষ্টা করেন আমির।
মানুষের ভুলকে দেখার ক্ষেত্রেও আমির বেশ উদার বলে জানিয়েছেন আমিন। তাঁর মতে, পৃথিবীর কোনো মানুষই পুরোপুরি নিখুঁত নন। প্রত্যেকেরই ভুল থাকতে পারে। তাই কারও একটি ভুলের কারণে তার সব ভালো দিককে অস্বীকার করা উচিত নয়। বরং একজন মানুষ কী ভালো করেছেন, তাঁর ইতিবাচক দিকগুলো কী—সেসবও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। আমিরের ব্যক্তিত্বের এই দিকটিই হয়তো বিচ্ছেদের পরও তাঁর পুরোনো সম্পর্কগুলোতে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন ঘনিষ্ঠরা।
রিনা দত্তের সঙ্গে আমিরের সম্পর্কের প্রসঙ্গেও এমন মানসিকতার উদাহরণ দিয়েছেন আমিন ও শার্লট। তাঁদের দাবি, বিয়ের পরও রিনা নিজের নাম ও ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করেননি। আমিরও তাঁকে নিজের পরিচয় বদলানোর জন্য কোনো চাপ দেননি। শার্লটের বক্তব্য অনুযায়ী, রিনা ‘রিনা দত্ত’ নামেই থেকেছেন এবং তাঁর সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছেন আমির। সন্তানদের নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও রিনার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। জুনায়েদ ও আইরার জন্মের সময়কার কিছু ঘটনাও কাছ থেকে দেখেছেন বলে জানান শার্লট।
শুধু সাবেক স্ত্রীদের ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিকভাবেও আমির মানুষকে ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করেন বলে মনে করেন শার্লট। তারকা হিসেবে নানা ধরনের চাপ ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও অন্য মানুষের ভালো দিক খুঁজে নেওয়ার অভ্যাস তাঁর রয়েছে বলে জানান তিনি। ‘লাল সিং চাড্ডা’ মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমিরকে ব্যাপক সমালোচনা ও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে শার্লট বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকাদের খুব সহজেই নেতিবাচক মন্তব্যের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। তবে এমন অভিজ্ঞতা আমিরকে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে নেয়নি। বরং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছেন এবং সম্পর্কের জায়গাগুলো ধরে রেখেছেন।
আমির খানের ব্যক্তিজীবনে একাধিক সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। রিনা দত্তের সঙ্গে তাঁর দুই সন্তান জুনায়েদ ও আইরা। ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের ছেলে আজাদের জন্ম হয়। ২০২১ সালে দুজন বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। বর্তমানে আমির গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে রয়েছেন। তবে অতীতের সম্পর্ককে পুরোপুরি মুছে না ফেলে সম্মান ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার যে মানসিকতা তাঁর মধ্যে রয়েছে, সেটিই আবার আলোচনায় এসেছে। ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পর্কের সমাপ্তি মানেই শত্রুতা নয়—বরং সম্মান, বোঝাপড়া ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে পুরোনো সম্পর্কও ভিন্ন এক বন্ধনে টিকে থাকতে পারে।





























