আমির খান আবারও নিজের শারীরিক রূপান্তর দিয়ে দর্শকদের চমকে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ৬১ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে এবার পর্দায় দেখা যাবে ২৫ বছরের এক তরুণ ক্রিকেটারের ভূমিকায়। তাঁর পরবর্তী সিনেমা ‘ললকারা’য় ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি লালা অমরনাথের তরুণ বয়সের চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি। চরিত্রটির জন্য শুধু মেকআপ বা ভিএফএক্সের ওপর নির্ভর না করে নিজের শরীরেও বড় পরিবর্তন আনছেন অভিনেতা। ওজন কমানো থেকে শুরু করে ক্রিকেটারের মতো শারীরিক গড়ন তৈরি—সব মিলিয়ে শুরু হয়েছে কঠোর প্রস্তুতি। তাই নতুন সিনেমায় আমিরের রূপান্তর এখনই বলিউডপ্রেমীদের কৌতূহলের বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
‘ললকারা’ পরিচালনা করছেন আশুতোষ গোয়ারিকর। দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবার এই পরিচালক ও অভিনেতাকে একসঙ্গে দেখা যাবে। এর আগে তাঁদের জুটির সবচেয়ে আলোচিত কাজ ছিল ‘লগান’। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া সেই সিনেমা ভারতীয় চলচ্চিত্রে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল এবং অস্কারের সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়নও পেয়েছিল। এবারও তাঁদের নতুন ছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ক্রিকেট। তবে ‘লগান’-এর মতো কাল্পনিক সময়ের গল্প নয়, এবার পর্দায় উঠে আসবে বাস্তবের কিংবদন্তি ক্রিকেটার লালা অমরনাথের জীবন। ফলে পুরোনো জুটির পুনর্মিলনের সঙ্গে যোগ হয়েছে বাস্তব ইতিহাসের গল্প।
ছবিটির গল্পে লালা অমরনাথের তরুণ বয়সকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেই কারণেই আমিরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বয়সের পার্থক্য পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। বাস্তবে ৬১ বছরের একজন অভিনেতাকে ২৫ বছরের তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে দর্শকের সামনে হাজির করা সহজ কাজ নয়। এজন্য ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরের গঠনেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। ছবিসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আমির ইতিমধ্যেই বিশেষ খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার পরিকল্পনা শুরু করেছেন। তাঁর ওয়ার্কআউটের ধরনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—ক্যামেরার সামনে যেন তাঁকে সত্যিই তরুণ ক্রিকেটার বলে মনে হয়।
শুধু শরীরের গড়ন বদলালেই অবশ্য চরিত্রটি সম্পূর্ণ হবে না। একজন পেশাদার ক্রিকেটারের শরীরী ভাষা, মাঠে চলাফেরা, ব্যাট ধরার ধরন এবং খেলার সময়ের স্বাভাবিক অভিব্যক্তিও আয়ত্ত করতে হবে আমিরকে। কারণ লালা অমরনাথ শুধু একটি চরিত্র নন; ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও খেলার ধরন পর্দায় সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য অভিনেতাকে ক্রিকেটের নানা সূক্ষ্ম বিষয়ও অনুশীলন করতে হবে। তাই ‘ললকারা’র প্রস্তুতিতে অভিনয়ের পাশাপাশি ক্রিকেট প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
চরিত্রের প্রয়োজনে শারীরিক পরিবর্তন আমিরের জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। ‘গজনি’র সময় তিনি পেশিবহুল শরীর তৈরি করে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ‘দঙ্গল’-এ একই সিনেমায় তাঁকে কখনো অতিরিক্ত ওজনের মধ্যবয়স্ক কুস্তিগির, আবার কখনো তুলনামূলক ফিট ও তরুণ চেহারায় দেখা গেছে। ‘লাল সিং চাড্ডা’তেও চরিত্রের বিভিন্ন বয়স ফুটিয়ে তুলতে নিজের চেহারা ও শারীরিক গড়নে পরিবর্তন এনেছিলেন। তবে এবার চ্যালেঞ্জটি আরও আলাদা। কারণ তাঁকে শুধু বয়সে তরুণ দেখালেই হবে না, একই সঙ্গে একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের শারীরিক উপস্থিতিও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে।
‘ললকারা’ নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো আমির ও আশুতোষের পুনর্মিলন। ১৯৯৫ সালের ‘বাজি’তে আশুতোষের পরিচালনায় অভিনয় করেছিলেন আমির। এরপর ২০০১ সালে আসে ‘লগান’, যেখানে পরিচালক হিসেবে আশুতোষ এবং অভিনেতা ও প্রযোজক হিসেবে আমির একসঙ্গে কাজ করেন। সেই সিনেমার সাফল্য তাঁদের জুটিকে ভারতীয় সিনেমায় বিশেষ মর্যাদা দেয়। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তাঁরা ফিরছেন ক্রিকেটকেন্দ্রিক গল্প নিয়ে। এবার তাঁদের লক্ষ্য একজন বাস্তব ক্রিকেট কিংবদন্তির জীবনকে বড় পর্দায় তুলে ধরা। ছবিতে আমিরের সঙ্গে ফারহান আখতারের অভিনয়ের কথা থাকলেও পরে তিনি সরে দাঁড়ান। তাঁর জায়গায় যুক্ত হয়েছেন অভিনেতা সিদ্ধান্ত গুপ্তা।
এখন ‘ললকারা’ নিয়ে দর্শকের সবচেয়ে বড় কৌতূহল আমিরের নতুন রূপ। ৬১ বছর বয়সে তিনি কীভাবে নিজেকে ২৫ বছরের ক্রিকেটার হিসেবে উপস্থাপন করেন, সেটিই হতে পারে সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ। ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হিসেবে পরিচিত আমির এর আগেও চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের শরীর ও চেহারায় বড় পরিবর্তন এনে নজির তৈরি করেছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হতে যাচ্ছে লালা অমরনাথ। সিনেমাটি মুক্তির পর তাঁর রূপান্তর কতটা বিশ্বাসযোগ্য হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে প্রস্তুতির ধরন দেখে এরই মধ্যে বোঝা যাচ্ছে—নতুন চরিত্রে দর্শককে আবারও চমকে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছেন আমির খান।



























