মাইকেল জ্যাকসনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত অভিযোগ এবার তাঁর বায়োপিকের সম্ভাব্য সিক্যুয়েলে আরও গভীরভাবে উঠে আসতে পারে। প্রয়াত পপ তারকার চরিত্রে অভিনয় করা জাফর জ্যাকসন জানিয়েছেন, দ্বিতীয় সিনেমায় দর্শক মাইকেল জ্যাকসনের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার সুযোগ পেতে পারেন। তবে সিক্যুয়েলের চূড়ান্ত চিত্রনাট্যে কোন বিষয়গুলো থাকবে, সে সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। ফলে বহুল আলোচিত এই সিনেমার পরবর্তী কিস্তি নিয়ে ইতোমধ্যেই দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘মাইকেল’ সিনেমায় মূলত পপ তারকার শৈশব, জ্যাকসন ফাইভের সময় থেকে শুরু করে একক ক্যারিয়ারে উত্থানের গল্প দেখানো হয়েছে। তাঁর সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো তুলে ধরে সিনেমাটি ১৯৮৭ সালের ‘ব্যাড’ অ্যালবামের সময় পর্যন্ত এগিয়েছে। ফলে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের পরবর্তী সময়ের অনেক বিতর্কিত অধ্যায় প্রথম সিনেমায় দেখানো হয়নি। বিশেষ করে ১৯৯৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্য শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার আগেই প্রথম সিনেমার গল্প শেষ হয়ে যায়।
জাফরের মতে, প্রথম সিনেমায় দর্শকদের আগে মাইকেলকে একজন মানুষ হিসেবে বোঝার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর শৈশব, পরিবার, সংগীতজীবনের শুরু এবং তারকা হয়ে ওঠার পেছনের যাত্রাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরের গল্প আরও জটিল এবং বিতর্কিত হওয়ায় সেটি দ্বিতীয় সিনেমায় বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। জাফর মনে করেন, পরবর্তী কিস্তিতে মাইকেলের নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ অভিযোগগুলো মূলত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সামনে এসেছে—এমনটাই তাঁর বক্তব্য।
প্রথম সিনেমা থেকে বিতর্কিত অভিযোগের অংশ বাদ পড়ার পেছনেও রয়েছে আইনি জটিলতা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, সিনেমাটির আগের পরিকল্পনায় ১৯৯৩ সালের অভিযোগের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী একজনের বিষয়ে একটি নিষ্পত্তি চুক্তিতে সিনেমায় তাঁর নাম বা তাঁকে চিত্রিত করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছিল। বিষয়টি জ্যাকসন পরিবারের আইনজীবীদের নজরে আসার পর নির্মাণ পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনা হয়। এর পর চিত্রনাট্যে ব্যাপক সংশোধন এবং বেশ কিছু দৃশ্য নতুন করে ধারণ করা হয়। ফলে প্রথম সিনেমার গল্প অনেকটাই মাইকেলের ক্যারিয়ারের শুরুর দিককে কেন্দ্র করে রাখা হয়।
এদিকে প্রথম ‘মাইকেল’ সিনেমার সাফল্যও সিক্যুয়েল তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। অ্যান্টোয়ান ফুকোয়া পরিচালিত এবং জাফর জ্যাকসন অভিনীত ছবিটি বিশ্বব্যাপী এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছে। এর মাধ্যমে এটি এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছোঁয়া প্রথম বায়োপিক হিসেবে বিশেষ রেকর্ড তৈরি করেছে। ফলে দর্শকের আগ্রহ এবং বক্স অফিস সাফল্য—দুই দিক থেকেই দ্বিতীয় কিস্তির জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে এবার গল্পের পরিধি আরও সংবেদনশীল হওয়ায় নির্মাতাদের সামনে চ্যালেঞ্জও বেশি।
সিক্যুয়েল নিয়ে সবচেয়ে বড় কৌতূহল তাই শুধু মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের পরবর্তী অধ্যায় নয়, বরং সেই অধ্যায়কে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হবে তা নিয়ে। জাফর জ্যাকসনের বক্তব্যে মাইকেলের নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে দর্শক ও সমালোচকদের বড় একটি অংশ চাইবেন, বিতর্কিত বিষয়গুলোও যেন ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়। এখনো মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত না হলেও সিনেমাটির প্রস্তুতি এগোচ্ছে। ফলে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলো পর্দায় কীভাবে উঠে আসে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সিক্যুয়েলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।



























