জার্মান কাপের উচ্চ-ঝুঁকির ম্যাচে পুলিশ ও সমর্থকদের সংঘর্ষে মোট ৮৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩৫ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। ভালসহফ ম্যানহাইম ও কাইজারস্লাউটার্নের মধ্যকার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ফুটবলীয় উত্তেজনা ছাড়িয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়।
শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিকে আগেই উচ্চ-ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত করেছিল জার্মান কর্তৃপক্ষ। দুই শহরের দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটার হওয়ায় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা রয়েছে। ফলে ম্যাচ শুরুর আগেই বাড়ানো হয়েছিল নিরাপত্তাব্যবস্থা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, কাইজারস্লাউটার্নের সমর্থকেরা মূল স্ট্যান্ডের দিকে ফ্লেয়ার ছুড়লে ম্যানহাইমের সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে মাঠে ঢুকে পড়েন। এরপর গ্যালারি ও মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশৃঙ্খলা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ দাঙ্গা পুলিশ মাঠে নামে। তারা সমর্থকদের গ্যালারিতে ফেরানোর চেষ্টা করে। সংঘর্ষের কারণে প্রায় আধঘণ্টা খেলা বন্ধ রাখতে হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে আবার ম্যাচ শুরু করা হয়।
খেলা পুনরায় শুরুর পরও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১২০তম মিনিটে গোল করে জয় নিশ্চিত করে কাইজারস্লাউটার্ন। তবে মাঠের এই রোমাঞ্চকর ফলাফলকে ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে ম্যাচ ঘিরে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনা।
ম্যানহাইম পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, সংঘর্ষে ৩৩ জন ফেডারেল পুলিশ সদস্য এবং ২ জন রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ৮৫ জনকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ৮ জনকে পরে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর জার্মান কর্তৃপক্ষ একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের ওপর হামলা, স্টেডিয়ামের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি, শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিস্ফোরক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের ম্যাচ ঘিরে এমন সহিংসতায় জার্মান ফুটবলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সমর্থকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চ-ঝুঁকির ম্যাচে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।




























