ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে রহমানিয়া আহমদীয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠিত Logo কৃতি শ্যাননের রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কঙ্গনা রনৌত। Logo হার্ট অ্যাটাক এড়াতে কোলেস্টেরলের চেয়েও জরুরি যা Logo ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে মনে হয় ক্রাইম প্যাট্রল দেখতেছি! Logo ‘মির্জাপুর’-এর জরিনা হয়ে কী ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল অনংশার? Logo একরামুল হত্যা মামলায় বদি ও তিন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার Logo ফিরছে ‘কফি উইথ করণ ৯’দীপাবলিতে,কফি কাউচে একা সালমান খান! Logo ফ্যাশন-ব্যবসা থেকে আইনি লড়াই, ব্লেক লাইভলির অন্য গল্প Logo রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাধা, বদলে গেছে রাখাইনের বাস্তবতা Logo বিশ্বাস, সন্দেহ আর প্রতারণার খেলায় দ্য ট্রেইটর্স ২ এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

‘মির্জাপুর’-এর জরিনা হয়ে কী ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল অনংশার?

জরিনা চরিত্রের পর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অনংশা বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত।

অনংশা বিশ্বাস ‘মির্জাপুর’-এর জরিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। কিন্তু পর্দায় একটি গ্রে-শেডের চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার পর সেই চরিত্রের সঙ্গে তাঁকে বাস্তব জীবনেও এক করে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে হতবাক করেছে। অভিনেত্রীর দাবি, প্রথম মৌসুমের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইমেইলে একের পর এক আপত্তিকর বার্তা আসতে থাকে। এমনকি তাঁকে সরাসরি কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি হিন্দি রাশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনংশা বিশ্বাস এসব অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। ‘মির্জাপুর’-এর প্রথম মৌসুমে জরিনা চরিত্রে তাঁকে এমন একজন নারী হিসেবে দেখা যায়, যিনি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শারীরিক আকর্ষণকে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। চরিত্রটির উপস্থাপন দর্শকের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে সেই জনপ্রিয়তার নেতিবাচক প্রভাব অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবনেও পৌঁছে যায় বলে জানান তিনি।

অনংশার ভাষ্য অনুযায়ী, সিরিজটি জনপ্রিয় হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত ইনবক্স ও ইমেইলে বিভিন্ন ধরনের অশালীন বার্তা আসতে শুরু করে। কেউ কেউ তাঁর কাছে এক রাতের জন্য অর্থের বিনিময়ে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেন। আবার কেউ তাঁকে বিদেশে ভ্রমণের প্রস্তাবও পাঠান। অভিনয়ের একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে বাস্তব জীবনে এমন আচরণ আসতে পারে, তা তাঁকে বিস্মিত করেছিল। তাঁর মতে, একজন অভিনয়শিল্পী পর্দায় যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটিকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়।

অভিনেত্রীর এই অভিজ্ঞতা মূলত অভিনয়শিল্পীদের সামনে থাকা একটি বড় বাস্তবতাও তুলে ধরে। একজন শিল্পীকে কখনো কখনো সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তিত্বের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। দর্শকের কাছে চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই তখন তাঁর প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু চরিত্রের আচরণকে শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেললে তৈরি হতে পারে ভুল ধারণা। অনংশার ক্ষেত্রে ‘জরিনা’ চরিত্রের জনপ্রিয়তার পর সেই সীমারেখা অনেক দর্শক অতিক্রম করেছিলেন বলেই তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

এদিকে ‘মির্জাপুর’ এবার ওয়েব সিরিজের গণ্ডি পেরিয়ে বড় পর্দায় আসছে। ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’তে আবারও জরিনা চরিত্রে ফিরছেন অনংশা বিশ্বাস। একই সঙ্গে কালীন ভাইয়া চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠী, গুড্ডু পণ্ডিত চরিত্রে আলী ফজল, মুন্না ভাইয়া চরিত্রে দিব্যেন্দু এবং রসিকা দুগলও তাঁদের পরিচিত চরিত্রে ফিরছেন। সিনেমাটিকে ঘিরে পুরোনো দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সহ-প্রযোজক ফারহান আখতার জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তদের দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও দাবির কারণেই জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজটিকে সিনেমার আকারে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জরিনা চরিত্রে অভিনয়ের সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতা সামনে এনে অনংশা নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা পরিষ্কার—পর্দার চরিত্র যতই বাস্তব মনে হোক, একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত পরিচয় তার অভিনীত চরিত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেই পার্থক্যকে সম্মান করাই দর্শকের দায়িত্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে রহমানিয়া আহমদীয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠিত

‘মির্জাপুর’-এর জরিনা হয়ে কী ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল অনংশার?

Update Time : ০২:২০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

অনংশা বিশ্বাস ‘মির্জাপুর’-এর জরিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। কিন্তু পর্দায় একটি গ্রে-শেডের চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার পর সেই চরিত্রের সঙ্গে তাঁকে বাস্তব জীবনেও এক করে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে হতবাক করেছে। অভিনেত্রীর দাবি, প্রথম মৌসুমের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইমেইলে একের পর এক আপত্তিকর বার্তা আসতে থাকে। এমনকি তাঁকে সরাসরি কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি হিন্দি রাশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনংশা বিশ্বাস এসব অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। ‘মির্জাপুর’-এর প্রথম মৌসুমে জরিনা চরিত্রে তাঁকে এমন একজন নারী হিসেবে দেখা যায়, যিনি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শারীরিক আকর্ষণকে রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। চরিত্রটির উপস্থাপন দর্শকের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে সেই জনপ্রিয়তার নেতিবাচক প্রভাব অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবনেও পৌঁছে যায় বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  শরীফুল রাজ ও সুনেরাহ্ বন্ধুত্ব নিয়ে আবেগঘন খোলামেলা মন্তব্য

অনংশার ভাষ্য অনুযায়ী, সিরিজটি জনপ্রিয় হওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত ইনবক্স ও ইমেইলে বিভিন্ন ধরনের অশালীন বার্তা আসতে শুরু করে। কেউ কেউ তাঁর কাছে এক রাতের জন্য অর্থের বিনিময়ে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেন। আবার কেউ তাঁকে বিদেশে ভ্রমণের প্রস্তাবও পাঠান। অভিনয়ের একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে বাস্তব জীবনে এমন আচরণ আসতে পারে, তা তাঁকে বিস্মিত করেছিল। তাঁর মতে, একজন অভিনয়শিল্পী পর্দায় যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটিকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন  এ আর রহমান স্টোরিতে বাংলাদেশের শিল্পী! গর্বের স্বীকৃতি পেলেন শুভ-নন্দিতা

অভিনেত্রীর এই অভিজ্ঞতা মূলত অভিনয়শিল্পীদের সামনে থাকা একটি বড় বাস্তবতাও তুলে ধরে। একজন শিল্পীকে কখনো কখনো সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তিত্বের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। দর্শকের কাছে চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই তখন তাঁর প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু চরিত্রের আচরণকে শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেললে তৈরি হতে পারে ভুল ধারণা। অনংশার ক্ষেত্রে ‘জরিনা’ চরিত্রের জনপ্রিয়তার পর সেই সীমারেখা অনেক দর্শক অতিক্রম করেছিলেন বলেই তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

এদিকে ‘মির্জাপুর’ এবার ওয়েব সিরিজের গণ্ডি পেরিয়ে বড় পর্দায় আসছে। ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’তে আবারও জরিনা চরিত্রে ফিরছেন অনংশা বিশ্বাস। একই সঙ্গে কালীন ভাইয়া চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠী, গুড্ডু পণ্ডিত চরিত্রে আলী ফজল, মুন্না ভাইয়া চরিত্রে দিব্যেন্দু এবং রসিকা দুগলও তাঁদের পরিচিত চরিত্রে ফিরছেন। সিনেমাটিকে ঘিরে পুরোনো দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  আইইউর প্রেম বিচ্ছেদ: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আলাদা হলেন আইইউ ও লি জং-সক

ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সহ-প্রযোজক ফারহান আখতার জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তদের দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও দাবির কারণেই জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজটিকে সিনেমার আকারে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জরিনা চরিত্রে অভিনয়ের সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতা সামনে এনে অনংশা নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা পরিষ্কার—পর্দার চরিত্র যতই বাস্তব মনে হোক, একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত পরিচয় তার অভিনীত চরিত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেই পার্থক্যকে সম্মান করাই দর্শকের দায়িত্ব।