ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে—সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এক নারীর অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে

সংগীতজগতের কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে—যার কণ্ঠে অসংখ্য হিট গান, সাফল্যের শীর্ষে থাকা এই তারকার জীবনের শুরুটা ছিল মোটেও সহজ নয়। আলোঝলমলে ক্যারিয়ারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক দীর্ঘ সংগ্রাম আর কষ্টের গল্প।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন তিনি। বয়সে প্রায় ২০ বছরের বড় গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে এই সম্পর্ক তাঁর জীবনে সুখের চেয়ে বেশি কষ্টই বয়ে আনে। এই বিয়ে শুধু পরিবার থেকে দূরত্ব তৈরি করেনি, বরং বড় বোন লতা মঙ্গেশকর–এর সঙ্গেও দীর্ঘদিন সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।

 

বিয়ের পর শুরু হয় বাস্তব জীবনের কঠিন অধ্যায়

বিয়ের পরই শুরু হয় আশার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। স্বামীর অল্প আয়ে সংসার চালানো ছিল প্রায় অসম্ভব। মাসে মাত্র ১০০ টাকার আয় দিয়ে বড় পরিবার চালানো ছিল ভীষণ কষ্টের।

খুব অল্প বয়সেই সংসারের পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁকে। গানের কাজের পাশাপাশি ঘরের কাজ, সন্তান লালন—সব কিছু একসঙ্গে সামলাতে হতো।

 

মাতৃত্বের মাঝেও থামেননি

এই কঠিন সময়েই তিনি প্রথম সন্তানের মা হন। কিন্তু মাতৃত্বের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগও খুব একটা পাননি। এক মাসের শিশুকে বাড়িতে রেখে বেরিয়ে যেতে হতো কাজের জন্য।

ভোরে উঠে রেওয়াজ, তারপর সংসারের কাজ, এরপর গান—এভাবেই চলত তাঁর প্রতিদিনের জীবন। কাজের অনিশ্চয়তা ছিল সবসময়, কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি।

 

দাম্পত্য জীবনের অন্ধকার দিক

আশা ভোঁসলে নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর প্রথম দাম্পত্য জীবন ছিল নির্যাতন ও অবহেলায় ভরা। শ্বশুরবাড়ির মানুষজন একজন গায়িকাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি।

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, তৃতীয় সন্তানের গর্ভে থাকাকালীন তাঁকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়। তখন আর কোনো উপায় না দেখে তিনি ফিরে আসেন নিজের পরিবারের কাছে।

 

একা হাতে তিন সন্তানের দায়িত্ব

এরপর শুরু হয় এক নতুন লড়াই—একজন একক মা হিসেবে তিন সন্তানকে বড় করে তোলা। এই সময় তাঁর পাশে কেউ ছিল না, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।

সংগ্রামের মধ্যেই ধীরে ধীরে সংগীতজগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন। অনেক সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে, বিশেষ করে ‘বোল্ড’ গান গাওয়ার জন্য।

 

সমালোচনার জবাব

এই সমালোচনার জবাবও তিনি দিয়েছেন খুব স্পষ্টভাবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি আনন্দের জন্য গান গাইনি, সংসার চালানোর জন্যই কাজ করেছি।’

এই কথাগুলোই প্রমাণ করে—তাঁর জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে নেওয়া।

 

নতুন অধ্যায়, নতুন জীবন

১৯৬০ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তাঁর। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি বিয়ে করেন কিংবদন্তি সুরকার আর ডি বর্মন–কে।

এই সম্পর্ক তাঁর জীবনে নতুন এক অধ্যায় নিয়ে আসে। যদিও এই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি—১৯৯৪ সালে মারা যান আর ডি বর্মন।

 

অনুপ্রেরণার এক নাম

সবকিছু মিলিয়ে আশা ভোঁসলে শুধু একজন সফল গায়িকা নন, বরং এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর জীবন শেখায়—যত বাধাই আসুক, থেমে না থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে—সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এক নারীর অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প

Update Time : ১০:৪১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সংগীতজগতের কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে—যার কণ্ঠে অসংখ্য হিট গান, সাফল্যের শীর্ষে থাকা এই তারকার জীবনের শুরুটা ছিল মোটেও সহজ নয়। আলোঝলমলে ক্যারিয়ারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক দীর্ঘ সংগ্রাম আর কষ্টের গল্প।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পরিবারের অমতে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন তিনি। বয়সে প্রায় ২০ বছরের বড় গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে এই সম্পর্ক তাঁর জীবনে সুখের চেয়ে বেশি কষ্টই বয়ে আনে। এই বিয়ে শুধু পরিবার থেকে দূরত্ব তৈরি করেনি, বরং বড় বোন লতা মঙ্গেশকর–এর সঙ্গেও দীর্ঘদিন সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।

 

বিয়ের পর শুরু হয় বাস্তব জীবনের কঠিন অধ্যায়

বিয়ের পরই শুরু হয় আশার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। স্বামীর অল্প আয়ে সংসার চালানো ছিল প্রায় অসম্ভব। মাসে মাত্র ১০০ টাকার আয় দিয়ে বড় পরিবার চালানো ছিল ভীষণ কষ্টের।

আরও পড়ুন  ঈদের নতুন বাংলা মিউজিক ভিডিও ‘পেন্সিল হিল’ নিয়ে আসছে সাদিয়া ইসলাম মৌ

খুব অল্প বয়সেই সংসারের পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁকে। গানের কাজের পাশাপাশি ঘরের কাজ, সন্তান লালন—সব কিছু একসঙ্গে সামলাতে হতো।

 

মাতৃত্বের মাঝেও থামেননি

এই কঠিন সময়েই তিনি প্রথম সন্তানের মা হন। কিন্তু মাতৃত্বের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগও খুব একটা পাননি। এক মাসের শিশুকে বাড়িতে রেখে বেরিয়ে যেতে হতো কাজের জন্য।

ভোরে উঠে রেওয়াজ, তারপর সংসারের কাজ, এরপর গান—এভাবেই চলত তাঁর প্রতিদিনের জীবন। কাজের অনিশ্চয়তা ছিল সবসময়, কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি।

 

দাম্পত্য জীবনের অন্ধকার দিক

আশা ভোঁসলে নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর প্রথম দাম্পত্য জীবন ছিল নির্যাতন ও অবহেলায় ভরা। শ্বশুরবাড়ির মানুষজন একজন গায়িকাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় সৈয়দ আব্দুল হাদী, শিল্পকলা একাডেমির বিশেষ আয়োজন

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, তৃতীয় সন্তানের গর্ভে থাকাকালীন তাঁকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়। তখন আর কোনো উপায় না দেখে তিনি ফিরে আসেন নিজের পরিবারের কাছে।

 

একা হাতে তিন সন্তানের দায়িত্ব

এরপর শুরু হয় এক নতুন লড়াই—একজন একক মা হিসেবে তিন সন্তানকে বড় করে তোলা। এই সময় তাঁর পাশে কেউ ছিল না, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।

সংগ্রামের মধ্যেই ধীরে ধীরে সংগীতজগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন। অনেক সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে, বিশেষ করে ‘বোল্ড’ গান গাওয়ার জন্য।

 

সমালোচনার জবাব

এই সমালোচনার জবাবও তিনি দিয়েছেন খুব স্পষ্টভাবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি আনন্দের জন্য গান গাইনি, সংসার চালানোর জন্যই কাজ করেছি।’

আরও পড়ুন  মুক্তির আগেই বড় ধাক্কা—ফাঁস হলো ‘জন নায়গন’ বিপাকে থালাপতি বিজয়

এই কথাগুলোই প্রমাণ করে—তাঁর জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে নেওয়া।

 

নতুন অধ্যায়, নতুন জীবন

১৯৬০ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে তাঁর। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি বিয়ে করেন কিংবদন্তি সুরকার আর ডি বর্মন–কে।

এই সম্পর্ক তাঁর জীবনে নতুন এক অধ্যায় নিয়ে আসে। যদিও এই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি—১৯৯৪ সালে মারা যান আর ডি বর্মন।

 

অনুপ্রেরণার এক নাম

সবকিছু মিলিয়ে আশা ভোঁসলে শুধু একজন সফল গায়িকা নন, বরং এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর জীবন শেখায়—যত বাধাই আসুক, থেমে না থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।