দ্য ট্রেইটর্স ২ শুধু পুরস্কারের অর্থ জেতার প্রতিযোগিতা নয়, বরং বিশ্বাস, সন্দেহ ও প্রতারণার জটিল মানসিক খেলা। ১৩ আগস্ট প্রাইম ভিডিওতে শুরু হওয়া দ্বিতীয় মৌসুমে ২১ জন পরিচিত মুখ অংশ নিয়েছেন। করণ জোহরের সঞ্চালনায় সাজানো এই আয়োজনে কে সত্যি বলছেন আর কে বন্ধুর মুখোশ পরে গোপনে প্রতিপক্ষের হয়ে খেলছেন, সেটিই হয়ে উঠেছে মূল আকর্ষণ। প্রথম মৌসুমের সাফল্যের পর এবারও দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিযোগীদের কৌশল ও পারস্পরিক সন্দেহ।
শোয়ের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিযোগীদের একটি অংশ গোপনে ‘ট্রেইটর’ হিসেবে নির্বাচিত হন। অন্যরা থাকেন ‘ইনোসেন্ট’ হিসেবে। ইনোসেন্টদের লক্ষ্য ট্রেইটরদের শনাক্ত করে বাদ দেওয়া। অন্যদিকে ট্রেইটরদের কাজ নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রেখে একে একে ইনোসেন্টদের সরিয়ে দেওয়া। ‘সার্কেল অব শক’-এ আলোচনার পর ভোটের মাধ্যমে প্রতিযোগী বাদ পড়েন। ফলে এখানে শুধু ভালো খেলাই যথেষ্ট নয়; নিজের আচরণও এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, যাতে অন্যরা সন্দেহ না করে।
দ্বিতীয় মৌসুমের শুরুতেই মুনাওয়ার ফারুকিকে ঘিরে বড় ধাক্কা আসে। প্রথম ‘সার্কেল অব শক’-এ তিনি মল্লিকা শেরাওয়াতকে ট্রেইটর হিসেবে সন্দেহ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের আচরণই অন্যদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয় এবং মুনাওয়ার প্রথম বাদ পড়েন। পরে তিনি প্রতিক্রিয়ায় অন্য প্রতিযোগীদের ‘ইনসিকিউর’ বলেও সমালোচনা করেন। এই ঘটনা শোটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাই সামনে আনে—অন্যকে সন্দেহ করতে গিয়ে কখনো কখনো নিজেকেই সন্দেহের কেন্দ্রে নিয়ে আসা যায়।
এরপর পারুল গুলাটিকে ঘিরে তৈরি হয় আরও বড় বিতর্ক। ট্রেইটর শনাক্ত করার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। হারমান সিংহাকে নিয়ে তাঁর সন্দেহ সঠিক প্রমাণিত হয় এবং পরে কৃষ্ণা দ’সুজাকেও সন্দেহের তালিকায় রাখেন। কিন্তু নিজে বাদ পড়ার পর পারুল তাঁর সিদ্ধান্তকে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেন। এরপর কৃষ্ণা ও শাহনিল গিলের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে খেলার বাইরে থেকে তথ্য পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি ট্রেইটরদের পরিচয় জানার জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য; প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মল্লিকা শেরাওয়াত ও শালিনী পাসিকে ঘিরেও আলোচনার শেষ নেই। একটি পোশাকের ব্র্যান্ড ও সত্যতা নিয়ে শালিনী প্রশ্ন তোলার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মল্লিকা পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটিকে ঈর্ষার সঙ্গে যুক্ত করেন। এর আগে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করেও মল্লিকাকে নাকি মঞ্চে অপমান করা হয়েছিল—এমন আলোচনা হয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ ঘটনা না দেখে ছোট একটি ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নও রয়েছে।
সবশেষে, দ্য ট্রেইটর্স ২-এর বিতর্কগুলো দেখাচ্ছে যে এই রিয়েলিটি শোর খেলা পর্দার বাইরেও চলে যাচ্ছে। মল্লিকা, মুনাওয়ার, পারুল বা শালিনী—প্রতিটি ঘটনা দর্শকের মধ্যে নতুন পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি করছে। করণ জোহরের সঞ্চালনায় প্রতিযোগীদের মানসিক চাপ ও সন্দেহ আরও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিটি ক্লিপ নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। তাই এই শোতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু কে ট্রেইটর, তা নয়; বরং কার ওপর শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করা যায়। আর সেই কারণেই দ্য ট্রেইটর্স ২ এখন একটি রিয়েলিটি শোর পাশাপাশি দর্শকদের জন্যও এক ধরনের বিশ্বাসের পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।























