চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও দর্শনার্থীবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার প্রতিরূপ নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে ‘মিনি বাংলাদেশ’। ফলে এটি শুধু বিনোদনের স্থান নয়, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে মানুষের ধারণা দেওয়ারও একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দর্শনার্থীবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এখানে সময় কাটাতে পারেন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানটির পরিবেশ উন্নত করার ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কালুরঘাটের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও আগ্রহ জড়িয়ে রয়েছে। এ কারণে জায়গাটিকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধব করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে কালুরঘাটেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে কালুরঘাটের নাম জড়িয়ে আছে। ফলে এ এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বিবেচনায় রেখে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনের সময় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদউল্লাহ বলেন, শুধু দেশ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করলেই হবে না, মানুষের মনও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদেরও নিজেদের জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা, সরকারি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা করা এবং দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে দর্শনার্থীবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে জায়গাটিতে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতিরূপ দেখার সুযোগ থাকায় এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি চট্টগ্রামে আসা দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে।
তবে একটি দর্শনীয় স্থানকে দীর্ঘমেয়াদে আকর্ষণীয় রাখতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের সচেতন অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আরও সুন্দর ও মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।



























