ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের সমালোচনা করা যাবে, তবে রাষ্ট্রবিরোধী ন্যারেটিভে ছাড় নয়: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০১

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী | ছবি: সংগৃহীত

সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে, তবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা বা সরকারের সমালোচনা করা নাগরিকদের অধিকার। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ন্যারেটিভ তৈরি হলেও শুধু সে কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কঠোর হবে বলে জানান তিনি।

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের বিষয়েও সরকারের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, আইনটি কীভাবে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণ এবং রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন আইন করার ক্ষেত্রে যেন এর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, আইন চূড়ান্ত করার আগে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হবে। ব্যাপক জনপরামর্শের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ থাকবে।

সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, মানহানিকর প্রচার কিংবা নারীদের নিয়ে অপপ্রচারের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত আইনে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ঠেকাতে শুধু আইন করাই যথেষ্ট নয় বলেও মনে করেন তিনি। এ জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও ও রিলস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সচেতনতামূলক কনটেন্ট স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার করা হবে। পাশাপাশি তথ্য অফিস ও সাংবাদিকদের মাধ্যমেও এসব বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সেখানে ভুল তথ্য, অপপ্রচার কিংবা হয়রানির ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় একদিকে যেমন নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের সাইবার সুরক্ষাও নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকারের নতুন উদ্যোগে এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের সমালোচনা করা যাবে, তবে রাষ্ট্রবিরোধী ন্যারেটিভে ছাড় নয়: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ১১:৩৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে, তবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা বা সরকারের সমালোচনা করা নাগরিকদের অধিকার। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ন্যারেটিভ তৈরি হলেও শুধু সে কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কঠোর হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  চতুর্থ সন্তানের বাবা হলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের বিষয়েও সরকারের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, আইনটি কীভাবে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণ এবং রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন আইন করার ক্ষেত্রে যেন এর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, আইন চূড়ান্ত করার আগে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হবে। ব্যাপক জনপরামর্শের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ থাকবে।

আরও পড়ুন  আহাদ-দানানির গুঞ্জন নাটক

সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, মানহানিকর প্রচার কিংবা নারীদের নিয়ে অপপ্রচারের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত আইনে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ঠেকাতে শুধু আইন করাই যথেষ্ট নয় বলেও মনে করেন তিনি। এ জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও ও রিলস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও পড়ুন  পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প পাস, ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সচেতনতামূলক কনটেন্ট স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার করা হবে। পাশাপাশি তথ্য অফিস ও সাংবাদিকদের মাধ্যমেও এসব বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সেখানে ভুল তথ্য, অপপ্রচার কিংবা হয়রানির ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় একদিকে যেমন নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের সাইবার সুরক্ষাও নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকারের নতুন উদ্যোগে এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।