ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুমার দিনে মুমিনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

জুমার দিনের আমল পালনে মসজিদে মুসল্লিদের সমাগম | ছবি: সংগৃহীত

জুমার দিনের আমল একজন মুমিনের জন্য সাপ্তাহিক ইবাদতের বিশেষ সুযোগ। শুক্রবারকে ইসলামি সংস্কৃতিতে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়। এ দিনে পরিচ্ছন্নতা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা যায়। জুমার দিনকে আরও বরকতময় করতে মুমিনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো—

১. নখ কাটা ও শরীর পরিচ্ছন্ন রাখা: জুমার দিনের প্রস্তুতি পরিচ্ছন্নতা দিয়ে শুরু করা উত্তম। নখ কাটা, শরীরের প্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা এবং নিজেকে পরিপাটি রাখা ফিতরাতের আমলের অন্তর্ভুক্ত। জুমার দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত।

২. ভালোভাবে গোসল করা: জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমল হলো গোসল করা। মহানবী (সা.) জুমার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করতে উৎসাহ দিয়েছেন। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং মসজিদে অন্য মুসল্লিদের জন্যও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় থাকে।

৩. পরিষ্কার পোশাক, মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার: জুমার দিন পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা, মিসওয়াক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। এতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মসজিদের পরিবেশও সুন্দর থাকে।

৪. সুরা কাহফ পাঠ করা: জুমার দিনের আমলের মধ্যে সুরা কাহফ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠের মাধ্যমে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোর দ্যুতি পাওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। তাই শুক্রবারে সময় করে সুরাটি পাঠ করা যেতে পারে।

৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা: শুক্রবার মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। হাদিসে জুমার দিনকে শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে এ দিনে বেশি দরুদ পাঠ করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

৬. মসজিদে আগেভাগে যাওয়া: জুমার নামাজের জন্য শেষ মুহূর্তে না গিয়ে আগে থেকেই মসজিদে পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত। হাদিসে জুমার দিন আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষ সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। তাই সম্ভব হলে কাজের সময় এমনভাবে সাজানো ভালো, যাতে খুতবার আগেই মসজিদে পৌঁছানো যায়।

৭. হেঁটে মসজিদে যাওয়া: মসজিদ খুব দূরে না হলে হেঁটে যাওয়াও সওয়াবের আমল। সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, মসজিদের দিকে প্রতিটি পদক্ষেপে একটি পাপ মুছে যায় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তাই সুযোগ থাকলে যানবাহনের পরিবর্তে হেঁটে মসজিদে যাওয়া যেতে পারে।

৮. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা: জুমার খুতবা চলাকালে সম্পূর্ণ নীরব থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা জরুরি। খুতবার সময় কথা বলা বা অন্যকে কথা বলতে বলা থেকেও বিরত থাকতে হবে। এ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার ও অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়াও এড়িয়ে চলা উচিত।

৯. জুমার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা: জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। কোরআনে জুমার নামাজের আহ্বান হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজ ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই জুমার নামাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

১০. দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খোঁজা: জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় রয়েছে বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এ সময় আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত। বিশেষ করে আসরের নামাজের পর সূর্যাস্তের আগের সময়টিতে বেশি বেশি দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফার করা যেতে পারে।

এই ১০টি জুমার দিনের আমল নিয়মিত পালনের চেষ্টা করলে শুক্রবার শুধু একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন না থেকে আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের বিশেষ দিনে পরিণত হতে পারে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী এসব আমল পালন করে আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের চেষ্টা করা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুমার দিনে মুমিনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

Update Time : ১০:৪৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

জুমার দিনের আমল একজন মুমিনের জন্য সাপ্তাহিক ইবাদতের বিশেষ সুযোগ। শুক্রবারকে ইসলামি সংস্কৃতিতে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়। এ দিনে পরিচ্ছন্নতা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা যায়। জুমার দিনকে আরও বরকতময় করতে মুমিনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো—

১. নখ কাটা ও শরীর পরিচ্ছন্ন রাখা: জুমার দিনের প্রস্তুতি পরিচ্ছন্নতা দিয়ে শুরু করা উত্তম। নখ কাটা, শরীরের প্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা এবং নিজেকে পরিপাটি রাখা ফিতরাতের আমলের অন্তর্ভুক্ত। জুমার দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত।

২. ভালোভাবে গোসল করা: জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতি আমল হলো গোসল করা। মহানবী (সা.) জুমার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করতে উৎসাহ দিয়েছেন। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং মসজিদে অন্য মুসল্লিদের জন্যও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় থাকে।

৩. পরিষ্কার পোশাক, মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার: জুমার দিন পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা, মিসওয়াক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। এতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মসজিদের পরিবেশও সুন্দর থাকে।

আরও পড়ুন  মুমিনের আত্মায় ঝরে তওবার বৃষ্টি

৪. সুরা কাহফ পাঠ করা: জুমার দিনের আমলের মধ্যে সুরা কাহফ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠের মাধ্যমে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোর দ্যুতি পাওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। তাই শুক্রবারে সময় করে সুরাটি পাঠ করা যেতে পারে।

৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা: শুক্রবার মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। হাদিসে জুমার দিনকে শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে এ দিনে বেশি দরুদ পাঠ করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

৬. মসজিদে আগেভাগে যাওয়া: জুমার নামাজের জন্য শেষ মুহূর্তে না গিয়ে আগে থেকেই মসজিদে পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত। হাদিসে জুমার দিন আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষ সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। তাই সম্ভব হলে কাজের সময় এমনভাবে সাজানো ভালো, যাতে খুতবার আগেই মসজিদে পৌঁছানো যায়।

আরও পড়ুন  মিশরে ৭০০ পবিত্র কোরআন বিতরণ করলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

৭. হেঁটে মসজিদে যাওয়া: মসজিদ খুব দূরে না হলে হেঁটে যাওয়াও সওয়াবের আমল। সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, মসজিদের দিকে প্রতিটি পদক্ষেপে একটি পাপ মুছে যায় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তাই সুযোগ থাকলে যানবাহনের পরিবর্তে হেঁটে মসজিদে যাওয়া যেতে পারে।

৮. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা: জুমার খুতবা চলাকালে সম্পূর্ণ নীরব থাকা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা জরুরি। খুতবার সময় কথা বলা বা অন্যকে কথা বলতে বলা থেকেও বিরত থাকতে হবে। এ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার ও অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়াও এড়িয়ে চলা উচিত।

৯. জুমার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা: জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। কোরআনে জুমার নামাজের আহ্বান হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজ ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই জুমার নামাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন  বৃষ্টির সময় যে দোয়া পড়বেন, জেনে নিন সুন্নাহর আমল

১০. দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খোঁজা: জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় রয়েছে বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এ সময় আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত। বিশেষ করে আসরের নামাজের পর সূর্যাস্তের আগের সময়টিতে বেশি বেশি দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফার করা যেতে পারে।

এই ১০টি জুমার দিনের আমল নিয়মিত পালনের চেষ্টা করলে শুক্রবার শুধু একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন না থেকে আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের বিশেষ দিনে পরিণত হতে পারে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী এসব আমল পালন করে আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের চেষ্টা করা উচিত।