ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কিনা, যা বললেন স্পিকার Logo বিয়ের আগে বর কনের যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা অবশ্যই করানো উচিত Logo জিপিএফে জমা যত কম, মুনাফা তত বেশি—সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ Logo তারেক রহমানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার বৈঠক Logo বিএনপি আগে ব্যর্থ বিরোধী দল, এখন ব্যর্থ সরকার: আতাউল্লাহ আমীন Logo রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আর নেই Logo রেফারিং নিয়ে বিতর্কের পরও শাস্তি থেকে রক্ষা পেলেন মরিনিও Logo শচিনকে ছাড়িয়ে ২৩ হাজার আন্তর্জাতিক রানের ক্লাবে জো রুট Logo তেলের ডিপোতে চাঁদা দাবি, কৃষক দলের নেতা গ্রেফতার হয়ে বহিষ্কার Logo মেরুদণ্ডে এখনও ৫ আগস্টের গুলির স্প্লিন্টার গেঁথে আছে: নবী হোসেন

জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠের ফজিলত ও গুরুত্ব

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩৩

জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত। (ছবিটি: সংগৃহীত)

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে নামাজ, দোয়া, দরুদ পাঠ ও কোরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন নেক আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব আমলের মধ্যে অন্যতম হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত। সহিহ হাদিসে জুমার দিনে এ সুরা পাঠের একাধিক ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। ইসলামি স্কলারদের মতে, নিয়মিত এ আমল একজন মুসলমানকে কোরআনের শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার পাশাপাশি দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার সুসংবাদও বহন করে।

  • জুমার দিন ইসলামে কেন বিশেষ
    হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে শুক্রবারই সর্বোত্তম। এ দিনেই হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং পরবর্তীতে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। কিয়ামতও শুক্রবারেই সংঘটিত হবে বলে সহিহ মুসলিমে উল্লেখ রয়েছে।
  • সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের সুন্নত
    জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমলগুলোর একটি হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। পুরো সুরা পাঠ করা উত্তম। তবে কেউ সম্পূর্ণ তেলাওয়াত করতে না পারলে প্রথম বা শেষ ১০ আয়াত পাঠ করলেও হাদিসে বর্ণিত আমলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করা যায়।
  • দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার সুসংবাদ
    সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, আল্লাহ তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখবেন। এ কারণে ইসলামী চিন্তাবিদরা নিয়মিত এসব আয়াত মুখস্থ ও তেলাওয়াতের প্রতি গুরুত্ব দেন।
  • নূরের সুসংবাদ
    হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূরের ব্যবস্থা করা হবে। এ ফজিলতের বর্ণনা মিশকাতুল মাসাবিহসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।
  • সুরাটির শিক্ষামূলক দিক
    সুরা কাহাফে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে—আসহাবে কাহাফ, দুই বাগানের মালিক, হযরত মুসা (আ.) ও খিজির (আ.), এবং যুলকারনাইনের ঘটনা। এসব কাহিনি ঈমান, ধৈর্য, বিনয়, জ্ঞান ও আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা দেয়।
  • কোরআন তেলাওয়াতে নাজিল হয় প্রশান্তি
    সহিহ মুসলিমে বারা ইবনু আযিব (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করার সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সাকিনা’ বা প্রশান্তি নাজিল হয়েছিল। এ ঘটনা কোরআন তেলাওয়াতের বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
  • কখন তেলাওয়াত করা উত্তম
    ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত যে কোনো সময় সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করলে জুমার দিনের এই সুন্নতের ওপর আমল করা হয়।
  • আমলের মূল উদ্দেশ্য
    আলেমদের মতে, সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের উদ্দেশ্য শুধু ফজিলত অর্জন নয়; বরং কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই একজন মুমিনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কিনা, যা বললেন স্পিকার

জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠের ফজিলত ও গুরুত্ব

Update Time : ০৪:১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে নামাজ, দোয়া, দরুদ পাঠ ও কোরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন নেক আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব আমলের মধ্যে অন্যতম হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত। সহিহ হাদিসে জুমার দিনে এ সুরা পাঠের একাধিক ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। ইসলামি স্কলারদের মতে, নিয়মিত এ আমল একজন মুসলমানকে কোরআনের শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার পাশাপাশি দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার সুসংবাদও বহন করে।

  • জুমার দিন ইসলামে কেন বিশেষ
    হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে শুক্রবারই সর্বোত্তম। এ দিনেই হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং পরবর্তীতে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। কিয়ামতও শুক্রবারেই সংঘটিত হবে বলে সহিহ মুসলিমে উল্লেখ রয়েছে।
  • সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের সুন্নত
    জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমলগুলোর একটি হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। পুরো সুরা পাঠ করা উত্তম। তবে কেউ সম্পূর্ণ তেলাওয়াত করতে না পারলে প্রথম বা শেষ ১০ আয়াত পাঠ করলেও হাদিসে বর্ণিত আমলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করা যায়।
  • দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার সুসংবাদ
    সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, আল্লাহ তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখবেন। এ কারণে ইসলামী চিন্তাবিদরা নিয়মিত এসব আয়াত মুখস্থ ও তেলাওয়াতের প্রতি গুরুত্ব দেন।
  • নূরের সুসংবাদ
    হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূরের ব্যবস্থা করা হবে। এ ফজিলতের বর্ণনা মিশকাতুল মাসাবিহসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।
  • সুরাটির শিক্ষামূলক দিক
    সুরা কাহাফে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে—আসহাবে কাহাফ, দুই বাগানের মালিক, হযরত মুসা (আ.) ও খিজির (আ.), এবং যুলকারনাইনের ঘটনা। এসব কাহিনি ঈমান, ধৈর্য, বিনয়, জ্ঞান ও আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা দেয়।
  • কোরআন তেলাওয়াতে নাজিল হয় প্রশান্তি
    সহিহ মুসলিমে বারা ইবনু আযিব (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করার সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সাকিনা’ বা প্রশান্তি নাজিল হয়েছিল। এ ঘটনা কোরআন তেলাওয়াতের বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
  • কখন তেলাওয়াত করা উত্তম
    ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত যে কোনো সময় সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করলে জুমার দিনের এই সুন্নতের ওপর আমল করা হয়।
  • আমলের মূল উদ্দেশ্য
    আলেমদের মতে, সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের উদ্দেশ্য শুধু ফজিলত অর্জন নয়; বরং কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই একজন মুমিনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন  ইসলামে উৎসাহিত খেলাধুলা: সুস্থতা, দক্ষতা ও আত্মরক্ষার শিক্ষা