শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ১৪৪৮ হিজরির রবিউল সানি মাসের প্রথম দিন হওয়ায়, রমজান মাসের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। পবিত্র এই মাসটি শুরু হতে আর ১৪৭ দিন বাকি রয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ছিল রবিউল সানি মাসের তৃতীয় দিন। বর্তমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুসারে, ২০২৭ সালের রমজান মাস সোমবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবশ্য এর আনুষ্ঠানিক তারিখ নতুন অর্ধচন্দ্র বা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। রমজান মাস কখনোই পরপর দুইবার একই গ্রেগরিয়ান তারিখে পড়ে না।
ইসলামিক ক্যালেন্ডার মূলত চন্দ্রচক্র অনুসরণ করে এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫৪ দিন, যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট। এ কারণেই পবিত্র মাসটি প্রতি বছর আরও আগে চলে আসে।
সময়ের এই ক্রমিক পরিবর্তনের ফলে মুসলমানরা প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্রে প্রতিটি ঋতুতেই রমজান মাস পালন করার সুযোগ পান।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি (রোববার) সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে।
যদি ওই দিন চাঁদ দেখা যায়, তবে সেই সন্ধ্যায় প্রথম তারাবিহ নামাজ আদায় করা হবে এবং মুসলমানরা পরদিন সকাল থেকে রোজা রাখা শুরু করবেন।
শাওয়ালের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে মাসটি ২৯ বা ৩০ দিন স্থায়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে, বর্তমানে পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৭ সালের ১০ই মার্চ (বুধবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে পারে।
রমজান হলো ইসলামী বর্ষপঞ্জির নবম মাস এবং মুসলমানদের কাছে এটি বছরের সবচেয়ে পবিত্র সময় হিসেবে বিবেচিত। এই মাসেই নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর সর্বপ্রথম পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন।
রমজান মাসজুড়ে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখেন এবং সব ধরনের খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।
এই সময়ে তারা প্রার্থনা, দান-সদকা, আত্মসংযম এবং পরিবার ও সম্প্রদায়ের কল্যাণের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা সত্ত্বেও, ইসলামী রীতি অনুসারে নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমেই রমজান মাসের আনুষ্ঠানিক সূচনা নির্ধারিত হয়ে থাকে।


























