ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দোয়া কবুল না হওয়ার ৬টি প্রধান কারণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৬

তসবিহ হাতে মোনাজাত বা দোয়া করছেন একজন মুসলিম

মুমিনের জীবনে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মগজ বলা হয়েছে। আল্লাহর কাছে বান্দার চাওয়া-পাওয়া, বিপদ থেকে মুক্তি কিংবা কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা সবকিছুই দোয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাই মুসলমানদের বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে যে, আমরা দোয়া করি, কিন্তু তা কবুল হয় না কেন? ইসলামী শরিয়তে দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। মূলত ছয়টি কারণে দোয়া কবুল না হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রথমত, নিষ্ঠার সঙ্গে দোয়া না করা। দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আন্তরিকতা থাকা জরুরি। কোনো ধরনের শিরক না করে নিজের অক্ষমতা ও দুর্বলতা স্বীকার করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, তোমরা একনিষ্ঠচিত্তে দোয়া করো (সুরা গাফির: ১৪)।

দ্বিতীয়ত, তওবা না করা। মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। নিজের অন্যায় স্বীকার করে আন্তরিকভাবে তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কোরআনে হজরত মুসা (আ.)-এর তওবা এবং হজরত নুহ (আ.)-এর ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তৃতীয়ত, আল্লাহর আনুগত্যে ত্রুটি থাকা। আল্লাহর অবাধ্যতা ও আনুগত্যে গাফিলতি বান্দার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোরআনে নবী-রাসুলদের আল্লাহর প্রতি বিনীতভাবে ফিরে আসা এবং তাঁর আনুগত্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থত, বিনম্রচিত্তে দোয়া না করা। দোয়ার সময় মনকে পুরোপুরি আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট রাখতে হবে। বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে কিংবা দোয়ার প্রতি যথাযথ মনোযোগ না দিয়ে দোয়া করা থেকে বিরত থাকা উচিত। হাদিসেও দোয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও মনোযোগের গুরুত্ব এসেছে।

পঞ্চমত, নিজের অভাব ও দুর্বলতা প্রকাশ না করা। দোয়া মূলত সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে বান্দার নিজের অসহায়ত্ব ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরা। তাই বিনয়ের সঙ্গে, মিনতি করে এবং নিচু স্বরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে বিনীতভাবে ও গোপনে ডাকো।

ষষ্ঠত, খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হালাল না হওয়া। দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন ও হালাল জীবনযাপনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে এমন এক ব্যক্তির কথা এসেছে, যে সফর করে ধূলিমলিন অবস্থায় আকাশের দিকে দুই হাত তুলে দোয়া করছে। অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম। রাসুল (সা.) প্রশ্ন করেছেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে?

এ ছাড়া গুনাহের কাজে দোয়া করা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য দোয়া করা এবং দোয়া কবুলে তাড়াহুড়ো করাও পরিহার করতে বলা হয়েছে।

তাই দোয়া করার পাশাপাশি নিজের আমল, উপার্জন, খাদ্য-পানীয় ও জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আন্তরিকভাবে দোয়া করতে হবে এবং কবুলে বিলম্ব হলে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দোয়া কবুল না হওয়ার ৬টি প্রধান কারণ

Update Time : ১২:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুমিনের জীবনে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মগজ বলা হয়েছে। আল্লাহর কাছে বান্দার চাওয়া-পাওয়া, বিপদ থেকে মুক্তি কিংবা কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা সবকিছুই দোয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাই মুসলমানদের বেশি বেশি দোয়া করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে যে, আমরা দোয়া করি, কিন্তু তা কবুল হয় না কেন? ইসলামী শরিয়তে দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। মূলত ছয়টি কারণে দোয়া কবুল না হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রথমত, নিষ্ঠার সঙ্গে দোয়া না করা। দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আন্তরিকতা থাকা জরুরি। কোনো ধরনের শিরক না করে নিজের অক্ষমতা ও দুর্বলতা স্বীকার করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, তোমরা একনিষ্ঠচিত্তে দোয়া করো (সুরা গাফির: ১৪)।

আরও পড়ুন  নবীযুগে যিনি পবিত্র কাবার চাবি সংরক্ষণ করতেন

দ্বিতীয়ত, তওবা না করা। মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। নিজের অন্যায় স্বীকার করে আন্তরিকভাবে তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কোরআনে হজরত মুসা (আ.)-এর তওবা এবং হজরত নুহ (আ.)-এর ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তৃতীয়ত, আল্লাহর আনুগত্যে ত্রুটি থাকা। আল্লাহর অবাধ্যতা ও আনুগত্যে গাফিলতি বান্দার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোরআনে নবী-রাসুলদের আল্লাহর প্রতি বিনীতভাবে ফিরে আসা এবং তাঁর আনুগত্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থত, বিনম্রচিত্তে দোয়া না করা। দোয়ার সময় মনকে পুরোপুরি আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট রাখতে হবে। বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে কিংবা দোয়ার প্রতি যথাযথ মনোযোগ না দিয়ে দোয়া করা থেকে বিরত থাকা উচিত। হাদিসেও দোয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও মনোযোগের গুরুত্ব এসেছে।

আরও পড়ুন  স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান নিয়ে কোরআন-হাদিস কী বলে?

পঞ্চমত, নিজের অভাব ও দুর্বলতা প্রকাশ না করা। দোয়া মূলত সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে বান্দার নিজের অসহায়ত্ব ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরা। তাই বিনয়ের সঙ্গে, মিনতি করে এবং নিচু স্বরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে বিনীতভাবে ও গোপনে ডাকো।

ষষ্ঠত, খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হালাল না হওয়া। দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন ও হালাল জীবনযাপনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে এমন এক ব্যক্তির কথা এসেছে, যে সফর করে ধূলিমলিন অবস্থায় আকাশের দিকে দুই হাত তুলে দোয়া করছে। অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম। রাসুল (সা.) প্রশ্ন করেছেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে?

আরও পড়ুন  রাতভর ইবাদতের সওয়াব পেতে ৭টি আমলের ফজিলত

এ ছাড়া গুনাহের কাজে দোয়া করা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য দোয়া করা এবং দোয়া কবুলে তাড়াহুড়ো করাও পরিহার করতে বলা হয়েছে।

তাই দোয়া করার পাশাপাশি নিজের আমল, উপার্জন, খাদ্য-পানীয় ও জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আন্তরিকভাবে দোয়া করতে হবে এবং কবুলে বিলম্ব হলে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।