প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে বড় কোনো কাজের জন্য দীর্ঘ সময় বের করা সম্ভব না হলেও কিছু সহজ আমলের মাধ্যমে বিপুল সওয়াব অর্জন করা যায়। কোরআন ও হাদিসে এমন বেশ কিছু আমলের কথা এসেছে, যেগুলো নিয়মিত জীবনের অংশ করা তুলনামূলক সহজ। নামাজ, জিকির, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, জানাজায় অংশ নেওয়া ও কোরআন পাঠ এ ধরনের আমল মুমিনের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের পথ তৈরি করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিন হয়ে পুরুষ বা নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকাজ করবে, আমি নিশ্চয়ই তাকে পবিত্র ও সুন্দর জীবন দান করব এবং তাদের কাজের জন্য সর্বোত্তম পুরস্কারে ভূষিত করব।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৯৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, সৎকাজের মূল্য তার আকারে নয়; বরং আল্লাহর কাছে এর মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ।তাই প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজের পাশাপাশি ছোট ছোট নেক আমল অভ্যাসে পরিণত করা যেতে পারে।
পুরুষের জন্য মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। মহানবী (সা.) বলেছেন, একাকী নামাজের তুলনায় মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের সওয়াব ২৫ গুণ বেশি।(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৭)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি সম্ভব হলে জামাতেও অংশ নেওয়া উচিত।
কোনো মুসলমানের ইন্তেকালে জানাজার নামাজে অংশ নেওয়া এবং দাফন পর্যন্ত সঙ্গে থাকাও গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল।মহানবী (সা.) জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি জানাজায় অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করে, সে এক কিরাত সওয়াব পায়।আর দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সঙ্গে থাকলে সে দুই কিরাত সওয়াব লাভ করে।দুই কিরাতকে তিনি দুটি বিশাল পাহাড়ের সমতুল্য সওয়াব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩২৫)
জিকিরের মাধ্যমেও অল্প সময়ে অনেক সওয়াব অর্জন করা যায়। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর’ দিনে ১০০ বার পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।হাদিসে এর মাধ্যমে সওয়াব অর্জন,গুনাহ মোচন এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার কথা এসেছে।
এ ছাড়া ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী’ ১০০ বার পড়ারও বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৯৩, ৬৪০৫)
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাও অত্যন্ত বরকতময় একটি আমল। বাবা-মা, ভাই-বোন ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে।
মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার রিজিক বৃদ্ধি এবং আয়ু দীর্ঘ হওয়ার প্রত্যাশা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৫)
ব্যস্ততার মধ্যেও একটি ফোনকল বা খোঁজ নেওয়ার মাধ্যমে এই আমল করা সম্ভব।
হাদিসে এমন চারটি আমলের কথাও এসেছে, যেগুলো একই দিনে একত্র করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
সেগুলো হলো নফল রোজা রাখা, জানাজার নামাজে অংশ নেওয়া, দরিদ্র বা অসহায় ব্যক্তিকে খাবার খাওয়ানো এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া।
মহানবী (সা.) বলেছেন, যার মধ্যে একদিনে এই চারটি আমল একত্র হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০২৮)
মানুষের শরীরের প্রতিটি জোড়ার জন্য প্রতিদিন সদকা রয়েছে। তবে এই সদকার দায়িত্ব পালনের সহজ একটি উপায় হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলা সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
এ ছাড়া ভালো কাজের নির্দেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখাও সদকা।
সকালে দুই রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করলে এসব সদকার দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২০)
কোরআন পাঠও প্রতিদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পড়লে একটি নেকি পাওয়া যায় এবং প্রতিটি নেকির প্রতিদান ১০ গুণ।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর নয়; আলিফ একটি, লাম একটি এবং মীম একটি অক্ষর।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০)
তাই প্রতিদিন অল্প কয়েকটি আয়াত হলেও নিয়মিত কোরআন পাঠ ও অর্থ বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে।




























