ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬: ভোটগ্রহণ শুরু Logo পেটে ভাত পড়তে কাজ করতে হবে : তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল Logo ডায়াবেটিস না থাকলেও খাবারের পর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ জরুরি Logo চালু হয়নি তিন বছরেও, ইজারায় যাচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল অতিথিশালা Logo মেসিই দলকে শেষ ১৬-তে নিয়ে যাবেন Logo নাটোরে শুভসংঘের উদ্যোগে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন Logo নখ কাটার সুন্নত পদ্ধতি কী? ইসলামের সঠিক নিয়ম জানুন Logo ট্রাম্প-সৌদি যুবরাজ দ্বন্দ্বে নতুন মোড়, ইরান যুদ্ধের নেপথ্য কাহিনি Logo পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবু কেন আমদানি? Logo পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই: সড়ক মন্ত্রী

নখ কাটার সুন্নত পদ্ধতি কী? ইসলামের সঠিক নিয়ম জানুন

নখ কাটার সুন্নত পদ্ধতি ও ইসলামি নিয়ম এক নজরে। image created by Riya Anam

নখ ছোট রাখা ও পরিচ্ছন্ন থাকা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। হাদিস অনুযায়ী, হাত-পায়ের নখ নিয়মিত কাটা ফিতরতের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের আগে নখ কাটা, গোসল করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নখ বড় হয়ে গেলে শুক্রবারের অপেক্ষা না করে দ্রুত কেটে ফেলার নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনেও পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনকারীদের প্রতি আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই নখ ছোট রাখা শুধু স্বাস্থ্যগত দিক থেকেই নয়, ধর্মীয়ভাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

হাদিসে এসেছে, সপ্তাহে অন্তত একবার নখ কাটা উত্তম। তবে কোনো অবস্থাতেই ৪০ দিনের বেশি নখ না কেটে রাখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় নখ বড় রাখাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, কারণ এটি পরিচ্ছন্নতার পরিপন্থী।

নখ কাটার ক্ষেত্রে ইসলামের সাধারণ নীতি হলো, ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা। তাই হাত ও পায়ের নখ কাটার সময় প্রথমে ডান হাত এবং পরে ডান পা থেকে শুরু করা সুন্নতের আদব হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফকিহদের বর্ণনা অনুযায়ী, হাতের নখ কাটার একটি সুন্দর ক্রম রয়েছে। প্রথমে ডান হাতের তর্জনী, এরপর মধ্যমা, অনামিকা ও কনিষ্ঠা আঙুলের নখ কাটতে হবে। এ সময় ডান হাতের বুড়ো আঙুলটি শেষের জন্য রেখে দেওয়া উত্তম।

এরপর বাঁ হাতের কনিষ্ঠা আঙুল থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বুড়ো আঙুল পর্যন্ত নখ কাটা হয়। সবশেষে ডান হাতের বুড়ো আঙুলের নখ কাটার মাধ্যমে হাতের নখ কাটার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এই পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে ফিকহের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে।

পায়ের নখ কাটার ক্ষেত্রেও একইভাবে ডান দিক থেকে শুরু করা উত্তম। প্রথমে ডান পায়ের কনিষ্ঠা আঙুল থেকে শুরু করে বুড়ো আঙুল পর্যন্ত নখ কাটা হয়। এরপর বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল থেকে শুরু করে কনিষ্ঠা আঙুল পর্যন্ত নখ কেটে শেষ করার কথা বলা হয়েছে।

তবে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, আঙুলভিত্তিক এই নির্দিষ্ট ক্রমটি সহিহ হাদিসে সরাসরি বর্ণিত হয়নি। এটি ফকিহদের বর্ণিত একটি মুস্তাহাব ও উত্তম আদব। তাই এটিকে আবশ্যিক সুন্নত বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা মনে করা ঠিক নয়।

ইসলামের মূল শিক্ষা হলো, নিয়মিত নখ ছোট রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা। এসব আমল পালন করলে একজন মুসলমান দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যেও সুন্নতের অনুসরণ করতে পারেন।

ফিকহের কিতাব অনুযায়ী, নখ কাটার এই আদব অনুসরণ করা প্রশংসনীয় হলেও কেউ ভিন্ন ক্রমে নখ কাটলে গুনাহ হবে না। বরং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সময়মতো নখ কেটে ফেলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইসলামে ছোট ছোট সুন্নত আমলেরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তাই নিয়মিত নখ কাটা, পরিচ্ছন্ন থাকা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করার চেষ্টা করলে সাধারণ একটি কাজও ইবাদতের মর্যাদা লাভ করতে পারে।

সূত্র: শরহুস সুন্নাহ, ফাতওয়ায়ে শামি, ফাতওয়ায়ে আলমগিরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬: ভোটগ্রহণ শুরু

নখ কাটার সুন্নত পদ্ধতি কী? ইসলামের সঠিক নিয়ম জানুন

Update Time : ১১:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

নখ ছোট রাখা ও পরিচ্ছন্ন থাকা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। হাদিস অনুযায়ী, হাত-পায়ের নখ নিয়মিত কাটা ফিতরতের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের আগে নখ কাটা, গোসল করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নখ বড় হয়ে গেলে শুক্রবারের অপেক্ষা না করে দ্রুত কেটে ফেলার নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনেও পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনকারীদের প্রতি আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই নখ ছোট রাখা শুধু স্বাস্থ্যগত দিক থেকেই নয়, ধর্মীয়ভাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।

হাদিসে এসেছে, সপ্তাহে অন্তত একবার নখ কাটা উত্তম। তবে কোনো অবস্থাতেই ৪০ দিনের বেশি নখ না কেটে রাখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় নখ বড় রাখাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, কারণ এটি পরিচ্ছন্নতার পরিপন্থী।

নখ কাটার ক্ষেত্রে ইসলামের সাধারণ নীতি হলো, ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা। তাই হাত ও পায়ের নখ কাটার সময় প্রথমে ডান হাত এবং পরে ডান পা থেকে শুরু করা সুন্নতের আদব হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফকিহদের বর্ণনা অনুযায়ী, হাতের নখ কাটার একটি সুন্দর ক্রম রয়েছে। প্রথমে ডান হাতের তর্জনী, এরপর মধ্যমা, অনামিকা ও কনিষ্ঠা আঙুলের নখ কাটতে হবে। এ সময় ডান হাতের বুড়ো আঙুলটি শেষের জন্য রেখে দেওয়া উত্তম।

এরপর বাঁ হাতের কনিষ্ঠা আঙুল থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বুড়ো আঙুল পর্যন্ত নখ কাটা হয়। সবশেষে ডান হাতের বুড়ো আঙুলের নখ কাটার মাধ্যমে হাতের নখ কাটার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এই পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে ফিকহের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে।

পায়ের নখ কাটার ক্ষেত্রেও একইভাবে ডান দিক থেকে শুরু করা উত্তম। প্রথমে ডান পায়ের কনিষ্ঠা আঙুল থেকে শুরু করে বুড়ো আঙুল পর্যন্ত নখ কাটা হয়। এরপর বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল থেকে শুরু করে কনিষ্ঠা আঙুল পর্যন্ত নখ কেটে শেষ করার কথা বলা হয়েছে।

তবে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, আঙুলভিত্তিক এই নির্দিষ্ট ক্রমটি সহিহ হাদিসে সরাসরি বর্ণিত হয়নি। এটি ফকিহদের বর্ণিত একটি মুস্তাহাব ও উত্তম আদব। তাই এটিকে আবশ্যিক সুন্নত বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা মনে করা ঠিক নয়।

ইসলামের মূল শিক্ষা হলো, নিয়মিত নখ ছোট রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ভালো কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা। এসব আমল পালন করলে একজন মুসলমান দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যেও সুন্নতের অনুসরণ করতে পারেন।

ফিকহের কিতাব অনুযায়ী, নখ কাটার এই আদব অনুসরণ করা প্রশংসনীয় হলেও কেউ ভিন্ন ক্রমে নখ কাটলে গুনাহ হবে না। বরং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সময়মতো নখ কেটে ফেলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইসলামে ছোট ছোট সুন্নত আমলেরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তাই নিয়মিত নখ কাটা, পরিচ্ছন্ন থাকা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করার চেষ্টা করলে সাধারণ একটি কাজও ইবাদতের মর্যাদা লাভ করতে পারে।

সূত্র: শরহুস সুন্নাহ, ফাতওয়ায়ে শামি, ফাতওয়ায়ে আলমগিরি।