ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির পশু বিক্রি করা যাবে কি? শরীয়ত অনুযায়ী করণীয়

  • Tamanna Akter
  • Update Time : ১১:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৯

কোরবানির জন্য কেনা পশু বিক্রি করা যাবে কি না এবং আর্থিক সংকটে করণীয় কী । ছবি- সংগ্রহীত

কোরবানির জন্য কেনা পশু পরে বিক্রি করা যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে যদি কোনো কারণে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়, তখন বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে জামিয়া বিনোরিয়া আলমিয়া।

একটি প্রশ্নের উত্তরে প্রতিষ্ঠানটির দারুল ইফতা জানিয়েছে, কোরবানি ওয়াজিব হওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্যের ওপর। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধের পর যদি কারও কাছে নির্ধারিত নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ফরজ বা ওয়াজিব নয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

এক ব্যক্তি কোরবানির উদ্দেশ্যে একটি ছাগল কিনেছিলেন। পরে পশুটির শারীরিক ত্রুটি দেখা দিলে তিনি সেটি বিক্রি করেন, যাতে পরে বড় পশু কেনা যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তার আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে—ঋণ, চিকিৎসা খরচসহ নানা সমস্যায় তিনি বিপর্যস্ত হয়ে যান।

শরয়ি দৃষ্টিকোণ কী বলছে

ফতোয়ায় বলা হয়েছে—

  • কোরবানির দিনগুলো শুরু হওয়ার সময় কেউ যদি সচ্ছল থাকেন কিন্তু পরে দরিদ্র হয়ে যান, তাহলে তার ওপর কোরবানি আর বাধ্যতামূলক থাকে না।
  • বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন, তাহলে কোরবানি তার জন্য ওয়াজিব নয়।

পশু বিক্রির টাকা ব্যবহার করা যাবে কি?

এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে—

  • যদি কেউ আগে থেকেই গরিব অবস্থায় কোরবানির নিয়তে পশু কিনে থাকেন, তাহলে সেই পশু বা বিক্রির টাকা সদকা করা আবশ্যক।
  • তবে যদি পশু কেনার সময় তিনি সচ্ছল ছিলেন, কিন্তু এখন আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, তাহলে কোরবানি তার ওপর আর আবশ্যক থাকে না।

এই অবস্থায় নিজের জীবনযাপন, চিকিৎসা বা প্রয়োজন মেটাতে সেই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে—তবে তা নির্ভর করবে তার বর্তমান আর্থিক অবস্থার ওপর।

ইসলামের মূল শিক্ষা

ইসলামী শিক্ষায় ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সামর্থ্য না থাকলে কোরবানি দেওয়ার জন্য জোর করা বা ঋণে জড়ানো বাধ্যতামূলক নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির পশু বিক্রি করা যাবে কি? শরীয়ত অনুযায়ী করণীয়

Update Time : ১১:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কোরবানির জন্য কেনা পশু পরে বিক্রি করা যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে যদি কোনো কারণে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়, তখন বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে জামিয়া বিনোরিয়া আলমিয়া।

একটি প্রশ্নের উত্তরে প্রতিষ্ঠানটির দারুল ইফতা জানিয়েছে, কোরবানি ওয়াজিব হওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্যের ওপর। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধের পর যদি কারও কাছে নির্ধারিত নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ফরজ বা ওয়াজিব নয়।

আরও পড়ুন  হাসছেন ঠিকই, কিন্তু ভিতরে চাপ? চিনে নিন সাইলেন্ট স্ট্রেস

ঘটনার প্রেক্ষাপট

এক ব্যক্তি কোরবানির উদ্দেশ্যে একটি ছাগল কিনেছিলেন। পরে পশুটির শারীরিক ত্রুটি দেখা দিলে তিনি সেটি বিক্রি করেন, যাতে পরে বড় পশু কেনা যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তার আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে—ঋণ, চিকিৎসা খরচসহ নানা সমস্যায় তিনি বিপর্যস্ত হয়ে যান।

শরয়ি দৃষ্টিকোণ কী বলছে

ফতোয়ায় বলা হয়েছে—

  • কোরবানির দিনগুলো শুরু হওয়ার সময় কেউ যদি সচ্ছল থাকেন কিন্তু পরে দরিদ্র হয়ে যান, তাহলে তার ওপর কোরবানি আর বাধ্যতামূলক থাকে না।
  • বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন, তাহলে কোরবানি তার জন্য ওয়াজিব নয়।
আরও পড়ুন  হঠাৎ রেগে যাচ্ছেন? এটি হতে পারে মারাত্মক মানসিক রোগ

পশু বিক্রির টাকা ব্যবহার করা যাবে কি?

এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে—

  • যদি কেউ আগে থেকেই গরিব অবস্থায় কোরবানির নিয়তে পশু কিনে থাকেন, তাহলে সেই পশু বা বিক্রির টাকা সদকা করা আবশ্যক।
  • তবে যদি পশু কেনার সময় তিনি সচ্ছল ছিলেন, কিন্তু এখন আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন, তাহলে কোরবানি তার ওপর আর আবশ্যক থাকে না।
আরও পড়ুন  গরমে এসি ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখার ৬ কার্যকর উপায়

এই অবস্থায় নিজের জীবনযাপন, চিকিৎসা বা প্রয়োজন মেটাতে সেই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে—তবে তা নির্ভর করবে তার বর্তমান আর্থিক অবস্থার ওপর।

ইসলামের মূল শিক্ষা

ইসলামী শিক্ষায় ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সামর্থ্য না থাকলে কোরবানি দেওয়ার জন্য জোর করা বা ঋণে জড়ানো বাধ্যতামূলক নয়।