ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষ নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য Logo ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় যা থাকতে পারে Logo ঘুমানো কিংবা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাই চাকরি! পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত ৫টি পেশা, বেতন শুনলে চোখ কপালে উঠবে Logo চন্দনাইশে আগুনে পুড়ল ৬ বসতঘর Logo শাহবাগ অভিযান: প্রতিমন্ত্রীর রাতের ঝটিকা অভিযান, ১০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা Logo টেকনাফে রাতে এলাকা ঘিরে ডাকাতের ফাঁকা গুলি, আতঙ্কে মানুষ Logo সাশ্রয়ী স্মার্টফোনে সুখবর, দাম কমাতে নতুন পরিকল্পনা Logo ছাতকে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় পিকআপচালক নিহত Logo ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ Logo ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন ঘোষণা

ইউএনওকে ফুল দিলেন আসামি ও আ.লীগ নেতারা, ক্ষোভ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:২৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৬

চিত্রঃ বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিতর্কে জড়িয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার। চার্জশিটভুক্ত আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফুল দেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সদর উপজেলা কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয় এবং ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। অনেকেই এটিকে অনৈতিক ও বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে ছিলেন।


বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এমন একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন যা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার কাছে যাওয়াকে অনেকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, পিংকি আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিতর্কিত ব্যক্তি যাদের মধ্যে কয়েকজন মামলার আসামি বলে অভিযোগ রয়েছে।উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন রাসেল মেম্বার যিনি ২০২৩ সালের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।


এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ মেম্বার এবং সিকান্দার মেম্বারসহ আরও কয়েকজনকে সেখানে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বক্তাবলীর বেশ কিছু আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেম্বার আত্মগোপনে ছিলেন। তবে নতুন করে দায়িত্ব প্রদান হওয়ার পর তারা আবারও প্রকাশ্যে সক্রিয় হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রাসেল চৌধুরী এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আমজাদ হোসেনের নাম উঠে এসেছে। রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মারামারি ও হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে যার চার্জশিট ইতোমধ্যে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আমজাদ হোসেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ড শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তারা সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের রাজনৈতিক পোস্ট করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, অতীতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রকাশ্যে মেলামেশা গ্রহণযোগ্য নয়। ফতুল্লার একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, তাদের অনেক সহকর্মী রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের এখন আবার সামনে দেখা যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তারা আরও বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষ করে প্রশাসনের সঙ্গে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনের মতামত জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায়
তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ হতে পারে। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক না ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে
কারা কিভাবে যোগাযোগ রাখছে তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি জনমনে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

তারা মনে করেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিটি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ এসব আচরণ সরাসরি জনগণের আস্থার সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলে। সার্বিকভাবে ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। স্থানীয়রা এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন এ বিষয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো কী পদক্ষেপ নেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপোষ নয়: জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য

ইউএনওকে ফুল দিলেন আসামি ও আ.লীগ নেতারা, ক্ষোভ

Update Time : ০৬:২৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিতর্কে জড়িয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার। চার্জশিটভুক্ত আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফুল দেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সদর উপজেলা কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয় এবং ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। অনেকেই এটিকে অনৈতিক ও বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে ছিলেন।


বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এমন একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন যা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার কাছে যাওয়াকে অনেকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, পিংকি আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিতর্কিত ব্যক্তি যাদের মধ্যে কয়েকজন মামলার আসামি বলে অভিযোগ রয়েছে।উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন রাসেল মেম্বার যিনি ২০২৩ সালের একটি হত্যাচেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

আরও পড়ুন  ছাতকে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় পিকআপচালক নিহত


এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ মেম্বার এবং সিকান্দার মেম্বারসহ আরও কয়েকজনকে সেখানে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বক্তাবলীর বেশ কিছু আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেম্বার আত্মগোপনে ছিলেন। তবে নতুন করে দায়িত্ব প্রদান হওয়ার পর তারা আবারও প্রকাশ্যে সক্রিয় হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রাসেল চৌধুরী এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আমজাদ হোসেনের নাম উঠে এসেছে। রাসেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মারামারি ও হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে যার চার্জশিট ইতোমধ্যে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আমজাদ হোসেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ড শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুন  হাতিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ


অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তারা সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের রাজনৈতিক পোস্ট করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, অতীতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রকাশ্যে মেলামেশা গ্রহণযোগ্য নয়। ফতুল্লার একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, তাদের অনেক সহকর্মী রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের এখন আবার সামনে দেখা যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তারা আরও বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষ করে প্রশাসনের সঙ্গে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনের মতামত জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায়
তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ হতে পারে। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক না ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে
কারা কিভাবে যোগাযোগ রাখছে তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি জনমনে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন  কারামুক্ত আইভীর চোখ এখন নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে

তারা মনে করেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিটি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ এসব আচরণ সরাসরি জনগণের আস্থার সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলে। সার্বিকভাবে ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। স্থানীয়রা এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন এ বিষয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো কী পদক্ষেপ নেয়।