ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বাড়ছে গোমতীর পানি, ফসল হারানোর শঙ্কায় চরাঞ্চলের কৃষকরা

পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে গোমতী নদীর পানি। ছবি: সংগৃহীত

গোমতী নদীর পানি উজানের পাহাড়ি ঢল আর কয়েক দিনের থেমে থেমে চলমান হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নসহ গোমতী নদীর চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলোর কোথাও কোথাও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এর ফলে চরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসান ও ফসল হারানোর চরম শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

হঠাৎ করেই পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলে আবাদকৃত আগাম মৌসুমের বিভিন্ন সবজি খেত পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য বড় ক্ষতি এড়াতে অনেক অঞ্চলের কৃষক তাদের জমি থেকে অপরিপক্ক সবজি আগেভাগেই তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে কিছু কিছু নিচু এলাকায় পানি দ্রুত প্রবেশ করায় ফসল তোলার মতো ন্যূনতম পরিস্থিতিও আর অবশিষ্ট নেই।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আগাম সবজি চাষে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, যা এখন নদীর পানি বাড়ার কারণে সম্পূর্ণ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যেই চরাঞ্চলের অধিকাংশ ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার খেত পুরোপুরি তলিয়ে গেলে শত শত কৃষক আর্থিকভাবে একবারে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

বিপজ্জনক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরের কৃষকেরা মাঠপর্যায়ে ফসল বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং উপজেলা কৃষি বিভাগও তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। বর্তমানে মাঠে খরিপ-১ মৌসুম চলমান থাকায় সবজি জাতীয় ফসলের পরিমাণ কিছুটা কম রয়েছে, যার ফলে পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি তারা সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে পানি দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধি পেলে এই মৌসুমে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে কৃষকদের চরম সমস্যায় পড়তে হবে, তাই মাঠকর্মীরা কৃষকদের আগাম সতর্কবার্তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধনেপাতা দীর্ঘদিন সতেজ রাখার ৫ কার্যকর ঘরোয়া উপায়

বাড়ছে গোমতীর পানি, ফসল হারানোর শঙ্কায় চরাঞ্চলের কৃষকরা

Update Time : ১২:১৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

গোমতী নদীর পানি উজানের পাহাড়ি ঢল আর কয়েক দিনের থেমে থেমে চলমান হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নসহ গোমতী নদীর চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলোর কোথাও কোথাও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এর ফলে চরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসান ও ফসল হারানোর চরম শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

হঠাৎ করেই পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলে আবাদকৃত আগাম মৌসুমের বিভিন্ন সবজি খেত পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য বড় ক্ষতি এড়াতে অনেক অঞ্চলের কৃষক তাদের জমি থেকে অপরিপক্ক সবজি আগেভাগেই তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে কিছু কিছু নিচু এলাকায় পানি দ্রুত প্রবেশ করায় ফসল তোলার মতো ন্যূনতম পরিস্থিতিও আর অবশিষ্ট নেই।

আরও পড়ুন  উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা: সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, আবহাওয়া সতর্কতা জারি

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আগাম সবজি চাষে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, যা এখন নদীর পানি বাড়ার কারণে সম্পূর্ণ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যেই চরাঞ্চলের অধিকাংশ ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার খেত পুরোপুরি তলিয়ে গেলে শত শত কৃষক আর্থিকভাবে একবারে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

বিপজ্জনক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরের কৃষকেরা মাঠপর্যায়ে ফসল বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং উপজেলা কৃষি বিভাগও তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। বর্তমানে মাঠে খরিপ-১ মৌসুম চলমান থাকায় সবজি জাতীয় ফসলের পরিমাণ কিছুটা কম রয়েছে, যার ফলে পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  পাবলিক পরীক্ষায় বড় সংস্কারের ভাবনা, আসতে পারে নতুন নিয়ম

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি তারা সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে পানি দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধি পেলে এই মৌসুমে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে কৃষকদের চরম সমস্যায় পড়তে হবে, তাই মাঠকর্মীরা কৃষকদের আগাম সতর্কবার্তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।