ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুহাররম মাসের আমলগুলো: রোজা, তওবা ও আত্মশুদ্ধির সেরা সুযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৫০৮

চিত্রঃ মুহাররম মাসের আমলগুলো পালন করে রোজা, তওবা ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের আহ্বান। (সংগৃহীত)

শুরু হয়েছে নতুন হিজরি বছর ১৪৪৮। আর এই নতুন বছরের প্রথম মাসই হলো মুহাররমুল হারাম। মুহাররম মাসের আমলগুলো শুধু কিছু নির্দিষ্ট ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তওবা, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার এক সুবর্ণ সুযোগ। ইসলামের দৃষ্টিতে মুহাররম অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস, যা বছরের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বারো মাসের মধ্যে চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

মুহাররম সেই সম্মানিত মাসগুলোর একটি। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ মাসকে ‘আল্লাহর মাস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা এর ফজিলত ও মর্যাদাকে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তাই একজন মুমিনের জন্য এ মাসের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, নতুন হিজরি বছরের সূচনায় একজন মুসলমানের উচিত নিজের অতীত জীবন পর্যালোচনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য আল্লাহভীরু জীবন গঠনের অঙ্গীকার করা। মুহাররম সেই আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির উপযুক্ত সময়। এ মাসে বেশি বেশি নেক আমল করা যেমন সওয়াবের কারণ, তেমনি গুনাহ থেকে বিরত থাকাও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

 

রমজানের পর সর্বোত্তম নফল রোজার মাস

মুহাররম মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, রমজানের পর নফল রোজার ক্ষেত্রে মুহাররমের মর্যাদা অন্য সব মাসের চেয়ে বেশি। তবে পুরো মাস রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে মাসের বিভিন্ন দিনে নফল রোজা রাখতে পারেন। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি আত্মসংযম ও তাকওয়া বৃদ্ধি পায়। ইবাদতের প্রতি নতুন উদ্দীপনা তৈরিতেও এ রোজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

আশুরার রোজা: গুনাহ মাফের বিশেষ সুযোগ

মুহাররমের ১০ তারিখ ‘আশুরা’ নামে পরিচিত। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজার ব্যাপারে বলেছেন, তিনি আল্লাহর কাছে আশা করেন যে, এই রোজা বিগত এক বছরের সগিরা গুনাহ মাফের কারণ হবে। তবে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু ১০ মুহাররম নয়, এর সঙ্গে ৯ অথবা ১১ মুহাররম মিলিয়ে রোজা রাখা উত্তম। এর মাধ্যমে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অনুকরণ থেকে বিরত থাকা যায় এবং সুন্নতের অনুসরণও পূর্ণতা পায়। তাই আশুরার রোজা পালনকারীদের জন্য ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম একসঙ্গে রোজা রাখা অধিক ফজিলতপূর্ণ।

 

গুনাহ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকার আহ্বান

মুহাররম যেহেতু সম্মানিত মাসগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই এ মাসে গুনাহের কাজ থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব আরও বেশি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, সম্মানিত মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম করো না। ইসলামী ব্যাখ্যায় গুনাহ ও অবাধ্যতাকে নিজের ওপর জুলুম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে এ মাসে ঝগড়া-বিবাদ, হিংসা, বিদ্বেষ, মিথ্যা, গীবত, প্রতারণা ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা একজন মুমিনের কর্তব্য। শুধু বাহ্যিক ইবাদত নয়, চরিত্র ও আচরণেও ইসলামের শিক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত। মুহাররমের প্রকৃত মর্যাদা তখনই রক্ষা পাবে, যখন ব্যক্তি নিজেকে গুনাহ থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট হবে।

 

তওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমল বৃদ্ধির সময়

ইসলামে তওবার দরজা সব সময় খোলা। তবে কিছু সময় ও সুযোগ মানুষের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণা হয়ে আসে। মুহাররম এমনই একটি সময়, যখন অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।এ মাসে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, সদকা, দান-খয়রাত এবং বিভিন্ন নফল ইবাদত বৃদ্ধি করার প্রতি আলেমরা গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, বান্দা যখন নফল আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে, তখন আল্লাহ তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। তাই মুহাররমকে আত্মিক উন্নতির মাস হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

 

কুসংস্কার ও বিদআত থেকে সতর্ক থাকা জরুরি

মুহাররম মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সমাজে নানা ধরনের ভিত্তিহীন বিশ্বাস ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। অনেক সময় মানুষ ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে এমন কিছু কাজকে ইবাদত মনে করে, যার কোনো ভিত্তি কোরআন ও সুন্নাহতে নেই। ইসলামের শিক্ষা হলো, ইবাদতের ক্ষেত্রে কেবল সহিহ দলিলের অনুসরণ করা। বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, মুহাররমের মর্যাদা রক্ষার অর্থ হলো সুন্নাহভিত্তিক আমল করা এবং বিদআত ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা। এ মাসকে শোক, বাড়াবাড়ি বা অন্ধ আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নয়; বরং ইবাদত, তওবা এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।

 

আশুরার ঐতিহাসিক তাৎপর্য

আশুরার দিনের সঙ্গে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলের মুক্তির ইতিহাস জড়িত। আল্লাহ তাআলা এই দিনে জালিম ফিরআউনের কবল থেকে তাদের উদ্ধার করেছিলেন। মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখতে পান, ইহুদিরা এই উপলক্ষে রোজা রাখছে। তারা জানায়, এ দিন আল্লাহ হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের রক্ষা করেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর সঙ্গে মুসলমানদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ। এরপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা পালন করেন এবং সাহাবিদেরও তা পালনের নির্দেশ দেন।

 

নতুন বছরের শ্রেষ্ঠ সূচনা হতে পারে মুহাররম

মুহাররম শুধু নতুন বছরের সূচনাই নয়, এটি একজন মুসলমানের জন্য নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ। রোজা, তওবা, ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত, সদকা এবং গুনাহ বর্জনের মাধ্যমে এ মাসকে অর্থবহ করে তোলা সম্ভব। মুহাররম মাসের আমলগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করলে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারেন। নতুন হিজরি বছরের শুরুতে আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের এই বার্তা প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুহাররম মাসের আমলগুলো: রোজা, তওবা ও আত্মশুদ্ধির সেরা সুযোগ

Update Time : ০৩:০৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

শুরু হয়েছে নতুন হিজরি বছর ১৪৪৮। আর এই নতুন বছরের প্রথম মাসই হলো মুহাররমুল হারাম। মুহাররম মাসের আমলগুলো শুধু কিছু নির্দিষ্ট ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তওবা, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার এক সুবর্ণ সুযোগ। ইসলামের দৃষ্টিতে মুহাররম অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস, যা বছরের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বারো মাসের মধ্যে চারটি মাসকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

মুহাররম সেই সম্মানিত মাসগুলোর একটি। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ মাসকে ‘আল্লাহর মাস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা এর ফজিলত ও মর্যাদাকে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তাই একজন মুমিনের জন্য এ মাসের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, নতুন হিজরি বছরের সূচনায় একজন মুসলমানের উচিত নিজের অতীত জীবন পর্যালোচনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য আল্লাহভীরু জীবন গঠনের অঙ্গীকার করা। মুহাররম সেই আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির উপযুক্ত সময়। এ মাসে বেশি বেশি নেক আমল করা যেমন সওয়াবের কারণ, তেমনি গুনাহ থেকে বিরত থাকাও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

 

রমজানের পর সর্বোত্তম নফল রোজার মাস

মুহাররম মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, রমজানের পর নফল রোজার ক্ষেত্রে মুহাররমের মর্যাদা অন্য সব মাসের চেয়ে বেশি। তবে পুরো মাস রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে মাসের বিভিন্ন দিনে নফল রোজা রাখতে পারেন। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি আত্মসংযম ও তাকওয়া বৃদ্ধি পায়। ইবাদতের প্রতি নতুন উদ্দীপনা তৈরিতেও এ রোজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন  বিয়ের ৩০ কুসংস্কার ও ভ্রান্ত রীতি

 

আশুরার রোজা: গুনাহ মাফের বিশেষ সুযোগ

মুহাররমের ১০ তারিখ ‘আশুরা’ নামে পরিচিত। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজার ব্যাপারে বলেছেন, তিনি আল্লাহর কাছে আশা করেন যে, এই রোজা বিগত এক বছরের সগিরা গুনাহ মাফের কারণ হবে। তবে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু ১০ মুহাররম নয়, এর সঙ্গে ৯ অথবা ১১ মুহাররম মিলিয়ে রোজা রাখা উত্তম। এর মাধ্যমে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অনুকরণ থেকে বিরত থাকা যায় এবং সুন্নতের অনুসরণও পূর্ণতা পায়। তাই আশুরার রোজা পালনকারীদের জন্য ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম একসঙ্গে রোজা রাখা অধিক ফজিলতপূর্ণ।

 

গুনাহ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকার আহ্বান

মুহাররম যেহেতু সম্মানিত মাসগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই এ মাসে গুনাহের কাজ থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব আরও বেশি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, সম্মানিত মাসগুলোতে নিজেদের ওপর জুলুম করো না। ইসলামী ব্যাখ্যায় গুনাহ ও অবাধ্যতাকে নিজের ওপর জুলুম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে এ মাসে ঝগড়া-বিবাদ, হিংসা, বিদ্বেষ, মিথ্যা, গীবত, প্রতারণা ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা একজন মুমিনের কর্তব্য। শুধু বাহ্যিক ইবাদত নয়, চরিত্র ও আচরণেও ইসলামের শিক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত। মুহাররমের প্রকৃত মর্যাদা তখনই রক্ষা পাবে, যখন ব্যক্তি নিজেকে গুনাহ থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট হবে।

আরও পড়ুন  আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশও ইবাদত, শেখায় ইসলাম

 

তওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমল বৃদ্ধির সময়

ইসলামে তওবার দরজা সব সময় খোলা। তবে কিছু সময় ও সুযোগ মানুষের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণা হয়ে আসে। মুহাররম এমনই একটি সময়, যখন অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।এ মাসে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, সদকা, দান-খয়রাত এবং বিভিন্ন নফল ইবাদত বৃদ্ধি করার প্রতি আলেমরা গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, বান্দা যখন নফল আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে, তখন আল্লাহ তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। তাই মুহাররমকে আত্মিক উন্নতির মাস হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

 

কুসংস্কার ও বিদআত থেকে সতর্ক থাকা জরুরি

মুহাররম মাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সমাজে নানা ধরনের ভিত্তিহীন বিশ্বাস ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। অনেক সময় মানুষ ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে এমন কিছু কাজকে ইবাদত মনে করে, যার কোনো ভিত্তি কোরআন ও সুন্নাহতে নেই। ইসলামের শিক্ষা হলো, ইবাদতের ক্ষেত্রে কেবল সহিহ দলিলের অনুসরণ করা। বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, মুহাররমের মর্যাদা রক্ষার অর্থ হলো সুন্নাহভিত্তিক আমল করা এবং বিদআত ও কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা। এ মাসকে শোক, বাড়াবাড়ি বা অন্ধ আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নয়; বরং ইবাদত, তওবা এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।

আরও পড়ুন  ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, প্রকাশ রোডম্যাপ

 

আশুরার ঐতিহাসিক তাৎপর্য

আশুরার দিনের সঙ্গে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলের মুক্তির ইতিহাস জড়িত। আল্লাহ তাআলা এই দিনে জালিম ফিরআউনের কবল থেকে তাদের উদ্ধার করেছিলেন। মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখতে পান, ইহুদিরা এই উপলক্ষে রোজা রাখছে। তারা জানায়, এ দিন আল্লাহ হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের রক্ষা করেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর সঙ্গে মুসলমানদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ। এরপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা পালন করেন এবং সাহাবিদেরও তা পালনের নির্দেশ দেন।

 

নতুন বছরের শ্রেষ্ঠ সূচনা হতে পারে মুহাররম

মুহাররম শুধু নতুন বছরের সূচনাই নয়, এটি একজন মুসলমানের জন্য নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ। রোজা, তওবা, ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত, সদকা এবং গুনাহ বর্জনের মাধ্যমে এ মাসকে অর্থবহ করে তোলা সম্ভব। মুহাররম মাসের আমলগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করলে একজন মুমিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারেন। নতুন হিজরি বছরের শুরুতে আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের এই বার্তা প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।