ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুমার দিনের বিশেষ ৬ আমল ও ফজিলত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৫৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

জুমার দিনে যে আমলগুলো বেশি ফজিলতপূর্ণ

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন। কোরআন ও সহিহ হাদিসে এ দিনের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। এ দিনে কিছু নির্দিষ্ট আমল বেশি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করার নির্দেশনা এসেছে, যা একজন মুসলিমের ইবাদতকে আরও পরিপূর্ণ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ তৈরি করে।

সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। ইহুদিদের জন্য শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য রবিবার নির্ধারিত হলেও মুসলমানদের জন্য শুক্রবারকে শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দিনেই এমন একটি সময় রয়েছে, যখন আল্লাহর কাছে করা বৈধ দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

১. জুমার নামাজ আদায় করা
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সময়মতো জুমার নামাজ আদায় করা। সহিহ হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সংঘটিত সগিরা গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন। তাই খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা জুমার দিনের প্রধান ইবাদত।

২. গোসল, পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি ব্যবহার
জুমার দিন গোসল করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এদিন পরিষ্কার পোশাক পরা, নখ-চুল পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করারও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে, পরিচ্ছন্ন অবস্থায় মসজিদে গিয়ে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনলে আল্লাহ দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের সগিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

৩. মসজিদে আগে যাওয়া
শুক্রবার যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, তত বেশি সওয়াবের ঘোষণা রয়েছে। সহিহ বোখারির হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম দিকে মসজিদে যাওয়া ব্যক্তিদের সওয়াবের তুলনা উট, গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার সঙ্গে করেছেন। তাই অযথা দেরি না করে সময়মতো মসজিদে উপস্থিত হওয়া উত্তম।

৪. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি শুক্রবার সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূরের ব্যবস্থা করা হবে। এ কারণে বহু মুসলিম জুমার দিন বা বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকেই সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের অভ্যাস করে থাকেন।

৫. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) শুক্রবার তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবু দাউদের হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে পাঠ করা দরুদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাই এ দিনে নিয়মিত দরুদ পাঠ করা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।

৬. দোয়া ও জিকিরে সময় কাটানো
জুমার দিনের একটি বিশেষ মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন। বিভিন্ন হাদিসের আলোকে অনেক আলেম আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে দোয়া কবুলের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া, জিকির, ইস্তিগফার ও কোরআন তিলাওয়াত করা উত্তম।

এ ছাড়া জুমার দিনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না দেওয়া, খুতবার সময় সম্পূর্ণ নীরব থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকাও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এসব আমল পালন করলে জুমার দিনের ফজিলত অর্জনের পাশাপাশি একজন মুসলিম আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পান।

নারীদের জন্য জুমার নামাজ ফরজ নয়; তারা ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করবেন। তবে জুমার দিনের অন্যান্য আমল যেমন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, জিকির, গোসল ও পরিচ্ছন্নতা—এসব নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে ফজিলতপূর্ণ। তাই সহিহ হাদিসে বর্ণিত এসব আমল যথাসম্ভব নিয়মিত পালন করলে একজন মুসলিম জুমার দিনের বরকত ও সওয়াব লাভের আশা করতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুমার দিনের বিশেষ ৬ আমল ও ফজিলত

Update Time : ০৩:৫৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন। কোরআন ও সহিহ হাদিসে এ দিনের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। এ দিনে কিছু নির্দিষ্ট আমল বেশি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করার নির্দেশনা এসেছে, যা একজন মুসলিমের ইবাদতকে আরও পরিপূর্ণ করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ তৈরি করে।

সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। ইহুদিদের জন্য শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য রবিবার নির্ধারিত হলেও মুসলমানদের জন্য শুক্রবারকে শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দিনেই এমন একটি সময় রয়েছে, যখন আল্লাহর কাছে করা বৈধ দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

১. জুমার নামাজ আদায় করা
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সময়মতো জুমার নামাজ আদায় করা। সহিহ হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সংঘটিত সগিরা গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন। তাই খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা জুমার দিনের প্রধান ইবাদত।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রক্ষমতা কি অধিকার, না আমানত? ইসলাম কী বলে

২. গোসল, পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি ব্যবহার
জুমার দিন গোসল করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এদিন পরিষ্কার পোশাক পরা, নখ-চুল পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সামর্থ্য থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করারও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে, পরিচ্ছন্ন অবস্থায় মসজিদে গিয়ে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনলে আল্লাহ দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের সগিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

৩. মসজিদে আগে যাওয়া
শুক্রবার যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, তত বেশি সওয়াবের ঘোষণা রয়েছে। সহিহ বোখারির হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম দিকে মসজিদে যাওয়া ব্যক্তিদের সওয়াবের তুলনা উট, গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার সঙ্গে করেছেন। তাই অযথা দেরি না করে সময়মতো মসজিদে উপস্থিত হওয়া উত্তম।

আরও পড়ুন  জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠের ফজিলত ও গুরুত্ব

৪. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি শুক্রবার সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূরের ব্যবস্থা করা হবে। এ কারণে বহু মুসলিম জুমার দিন বা বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকেই সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের অভ্যাস করে থাকেন।

৫. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) শুক্রবার তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবু দাউদের হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে পাঠ করা দরুদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাই এ দিনে নিয়মিত দরুদ পাঠ করা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।

৬. দোয়া ও জিকিরে সময় কাটানো
জুমার দিনের একটি বিশেষ মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন। বিভিন্ন হাদিসের আলোকে অনেক আলেম আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে দোয়া কবুলের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া, জিকির, ইস্তিগফার ও কোরআন তিলাওয়াত করা উত্তম।

আরও পড়ুন  সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করা ব্যক্তিকে বিয়ে করা কি জায়েজ?

এ ছাড়া জুমার দিনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না দেওয়া, খুতবার সময় সম্পূর্ণ নীরব থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা বা কাজ থেকে বিরত থাকাও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এসব আমল পালন করলে জুমার দিনের ফজিলত অর্জনের পাশাপাশি একজন মুসলিম আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ পান।

নারীদের জন্য জুমার নামাজ ফরজ নয়; তারা ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করবেন। তবে জুমার দিনের অন্যান্য আমল যেমন সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, জিকির, গোসল ও পরিচ্ছন্নতা—এসব নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে ফজিলতপূর্ণ। তাই সহিহ হাদিসে বর্ণিত এসব আমল যথাসম্ভব নিয়মিত পালন করলে একজন মুসলিম জুমার দিনের বরকত ও সওয়াব লাভের আশা করতে পারেন।