ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানির পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষেধ: ইসলাম কী বলে?

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ১০:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ৫৫৮

কোরবানির পশুর কিছু অংশ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

কোরবানির পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষেধ, সে বিষয়ে ইসলামি শরিয়তে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। কোরবানি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং আত্মত্যাগের শিক্ষা অর্জন করা হয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া পশু জবাই করার সময় তাঁর নাম স্মরণ করে। ইসলাম শুধু কোরবানি দেওয়ার নির্দেশই দেয়নি, বরং পশুর গোশত খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু বিধান নির্ধারণ করেছে।

ইসলামে কোরবানির পশুর গোশত সাধারণভাবে হালাল হলেও কিছু অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় বলে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাহিত রক্ত সম্পূর্ণ হারাম। জবাইয়ের সময় পশুর শরীর থেকে বের হওয়া রক্ত খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কোরবানির পশুর
কোরবানির পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষেধ

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় আরও কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা পাওয়া যায়। বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত মুজাহিদ (রহ.)-এর বর্ণনায় এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বকরির সাতটি জিনিস খাওয়াকে অপছন্দ করতেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রবাহিত রক্ত, পিত্ত, মূত্রথলি, মাংসগ্রন্থি, নর পশুর গুপ্তাঙ্গ, মাদি পশুর গুপ্তাঙ্গ এবং অণ্ডকোষ। হাদিসটি বায়হাকি শরিফে উল্লেখ রয়েছে।

ইসলামি স্কলাররা বলেন, এসব অংশ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ধর্মীয় নির্দেশনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত কারণেও এসব অংশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে কোরবানির সময় পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কোরবানির মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া, ত্যাগ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই কোরবানির পশুর মাংস বণ্টন ও গ্রহণের ক্ষেত্রেও ইসলামি বিধান মেনে চলা উচিত। ধর্মীয় জ্ঞান অনুযায়ী সঠিক নিয়ম মেনে কোরবানি আদায় করলে ইবাদতের পূর্ণতা লাভ করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষেধ: ইসলাম কী বলে?

Update Time : ১০:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

কোরবানির পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষেধ, সে বিষয়ে ইসলামি শরিয়তে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। কোরবানি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং আত্মত্যাগের শিক্ষা অর্জন করা হয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া পশু জবাই করার সময় তাঁর নাম স্মরণ করে। ইসলাম শুধু কোরবানি দেওয়ার নির্দেশই দেয়নি, বরং পশুর গোশত খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু বিধান নির্ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন  তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি: বিপৎসীমা ওপরে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে

ইসলামে কোরবানির পশুর গোশত সাধারণভাবে হালাল হলেও কিছু অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় বলে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাহিত রক্ত সম্পূর্ণ হারাম। জবাইয়ের সময় পশুর শরীর থেকে বের হওয়া রক্ত খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কোরবানির পশুর
কোরবানির পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষেধ

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় আরও কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা পাওয়া যায়। বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত মুজাহিদ (রহ.)-এর বর্ণনায় এসেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বকরির সাতটি জিনিস খাওয়াকে অপছন্দ করতেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রবাহিত রক্ত, পিত্ত, মূত্রথলি, মাংসগ্রন্থি, নর পশুর গুপ্তাঙ্গ, মাদি পশুর গুপ্তাঙ্গ এবং অণ্ডকোষ। হাদিসটি বায়হাকি শরিফে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন  তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহায়তা, জানুন বিস্তারিত

ইসলামি স্কলাররা বলেন, এসব অংশ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ধর্মীয় নির্দেশনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত কারণেও এসব অংশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে কোরবানির সময় পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কোরবানির মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া, ত্যাগ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই কোরবানির পশুর মাংস বণ্টন ও গ্রহণের ক্ষেত্রেও ইসলামি বিধান মেনে চলা উচিত। ধর্মীয় জ্ঞান অনুযায়ী সঠিক নিয়ম মেনে কোরবানি আদায় করলে ইবাদতের পূর্ণতা লাভ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে : হাইকমিশন