ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে রোগে আনন্দ ছাড়াই হাসেন রোগী, রহস্যজনক সেই অসুখ কী?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০২

হাসিমুখে দাঁড়িয়ে একটি মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত

আনন্দহীন হাসি শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি একটি বিরল স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। ৩১ বছর বয়সী এক নারী শৈশব থেকেই এমন সমস্যায় ভুগছিলেন। কোনো আনন্দ বা হাসির কারণ ছাড়াই হঠাৎ তাঁর হাসি শুরু হতো। প্রতিদিন অন্তত একবার এমন ঘটনা ঘটত।

হাসি শুরু হওয়ার আগে তাঁর ঘাড় ও বুকে অস্বস্তিকর এক ধরনের অনুভূতি হতো। এরপর কয়েক সেকেন্ড ধরে তিনি অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাসতেন। সেই সময় কথা বলা, খাবার গেলা এমনকি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত। বেশির ভাগ সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এমনটি ঘটত।

শৈশবে তাঁর অবস্থা আরও গুরুতর ছিল। দিনে ছয় থেকে সাতবার পর্যন্ত এমন আক্রমণ হতো এবং কখনো কয়েক মিনিটও স্থায়ী হতো। এমনকি ঘুমের মধ্যেও হাসতেন তিনি। পরিবার তখন বিষয়টিকে রোগ হিসেবে বুঝতে পারেনি। বরং তাঁকে ইচ্ছা করে হাসছেন মনে করে বকা দেওয়া হতো।

পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা তাঁর হাসির ভিডিও দেখে সন্দেহ করেন, এটি সাধারণ হাসি নয়, বরং এক ধরনের খিঁচুনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নাম ‘জেলাস্টিক সিজার’। গ্রিক শব্দ ‘জেলাস্টিকোস’ থেকে আসা এই নামের অর্থ হাসি। এ ধরনের খিঁচুনিতে রোগী নিজের ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই হাসতে বা মুচকি হাসতে পারেন।

আরও পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের গভীরে থাকা হাইপোথ্যালামাসে প্রায় ৫ মিলিমিটার আকারের একটি অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করেন। পরে জানা যায়, এটি ‘হাইপোথ্যালামিক হ্যামারটোমা’। এটি সাধারণত ভ্রূণ অবস্থায় তৈরি হওয়া একটি নিরীহ টিস্যু অস্বাভাবিকতা। তবে এর সঙ্গে খিঁচুনি ও আচরণগত বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

অদ্ভুত বিষয় হলো, এই নারীর ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে সমস্যাটি নিজে থেকেই অনেকটা কমে যায়। খিঁচুনির ওষুধ লেভেটিরাসেটাম ও ল্যামোট্রিগিনও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতে উল্লেখযোগ্য উপকার হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, হাইপোথ্যালামিক হ্যামারটোমার সঙ্গে যুক্ত এমন খিঁচুনির স্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। অর্থাৎ বাইরে থেকে হাসি মনে হলেও, সেই হাসির আড়ালে থাকতে পারে মস্তিষ্কের একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা।

জনপ্রিয় সংবাদ

যে রোগে আনন্দ ছাড়াই হাসেন রোগী, রহস্যজনক সেই অসুখ কী?

Update Time : ০১:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

আনন্দহীন হাসি শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি একটি বিরল স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। ৩১ বছর বয়সী এক নারী শৈশব থেকেই এমন সমস্যায় ভুগছিলেন। কোনো আনন্দ বা হাসির কারণ ছাড়াই হঠাৎ তাঁর হাসি শুরু হতো। প্রতিদিন অন্তত একবার এমন ঘটনা ঘটত।

হাসি শুরু হওয়ার আগে তাঁর ঘাড় ও বুকে অস্বস্তিকর এক ধরনের অনুভূতি হতো। এরপর কয়েক সেকেন্ড ধরে তিনি অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাসতেন। সেই সময় কথা বলা, খাবার গেলা এমনকি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত। বেশির ভাগ সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এমনটি ঘটত।

আরও পড়ুন  জলাবদ্ধতা, বন্যা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কোন রোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

শৈশবে তাঁর অবস্থা আরও গুরুতর ছিল। দিনে ছয় থেকে সাতবার পর্যন্ত এমন আক্রমণ হতো এবং কখনো কয়েক মিনিটও স্থায়ী হতো। এমনকি ঘুমের মধ্যেও হাসতেন তিনি। পরিবার তখন বিষয়টিকে রোগ হিসেবে বুঝতে পারেনি। বরং তাঁকে ইচ্ছা করে হাসছেন মনে করে বকা দেওয়া হতো।

পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা তাঁর হাসির ভিডিও দেখে সন্দেহ করেন, এটি সাধারণ হাসি নয়, বরং এক ধরনের খিঁচুনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নাম ‘জেলাস্টিক সিজার’। গ্রিক শব্দ ‘জেলাস্টিকোস’ থেকে আসা এই নামের অর্থ হাসি। এ ধরনের খিঁচুনিতে রোগী নিজের ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই হাসতে বা মুচকি হাসতে পারেন।

আরও পড়ুন  হামের টিকা: মা হতে ইচ্ছুক নারীদেরও টিকা নেওয়ার পরামর্শ

আরও পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা মস্তিষ্কের গভীরে থাকা হাইপোথ্যালামাসে প্রায় ৫ মিলিমিটার আকারের একটি অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করেন। পরে জানা যায়, এটি ‘হাইপোথ্যালামিক হ্যামারটোমা’। এটি সাধারণত ভ্রূণ অবস্থায় তৈরি হওয়া একটি নিরীহ টিস্যু অস্বাভাবিকতা। তবে এর সঙ্গে খিঁচুনি ও আচরণগত বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

অদ্ভুত বিষয় হলো, এই নারীর ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে সমস্যাটি নিজে থেকেই অনেকটা কমে যায়। খিঁচুনির ওষুধ লেভেটিরাসেটাম ও ল্যামোট্রিগিনও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতে উল্লেখযোগ্য উপকার হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, হাইপোথ্যালামিক হ্যামারটোমার সঙ্গে যুক্ত এমন খিঁচুনির স্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। অর্থাৎ বাইরে থেকে হাসি মনে হলেও, সেই হাসির আড়ালে থাকতে পারে মস্তিষ্কের একটি জটিল স্নায়বিক সমস্যা।

আরও পড়ুন  এপিক হেলথ কেয়ারের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ডাস্টবিন বিতরণ