ঢাকা ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কিনা, যা বললেন স্পিকার Logo বিয়ের আগে বর কনের যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা অবশ্যই করানো উচিত Logo জিপিএফে জমা যত কম, মুনাফা তত বেশি—সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ Logo তারেক রহমানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার বৈঠক Logo বিএনপি আগে ব্যর্থ বিরোধী দল, এখন ব্যর্থ সরকার: আতাউল্লাহ আমীন Logo রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আর নেই Logo রেফারিং নিয়ে বিতর্কের পরও শাস্তি থেকে রক্ষা পেলেন মরিনিও Logo শচিনকে ছাড়িয়ে ২৩ হাজার আন্তর্জাতিক রানের ক্লাবে জো রুট Logo তেলের ডিপোতে চাঁদা দাবি, কৃষক দলের নেতা গ্রেফতার হয়ে বহিষ্কার Logo মেরুদণ্ডে এখনও ৫ আগস্টের গুলির স্প্লিন্টার গেঁথে আছে: নবী হোসেন

শিশুকে নামাজ শেখানো: রাসুল (সা.) কী নির্দেশ দিয়েছেন?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫৩

পরিবার থেকেই শুরু হোক শিশুর দ্বীনি শিক্ষার ভিত্তি। ছবি: সংগৃহীত

শিশুকে নামাজ শেখানো ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক দায়িত্ব। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে নামাজের প্রতি উৎসাহিত করলে তার মধ্যে আল্লাহভীতি, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। তাই ইসলাম শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নামাজের অভ্যাস তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজকে এমন একটি ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মানুষকে অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ।” (সুরা আল-আনকাবুত: ৪৫)। এই আয়াত থেকেই বোঝা যায়, নামাজ শুধু ইবাদত নয়, বরং একজন মানুষের চরিত্র গঠনেরও অন্যতম ভিত্তি।

শিশুকে নামাজ শেখানো সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্তান সাত বছর বয়সে পৌঁছালে তাকে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিতে হবে। আর দশ বছর বয়সেও যদি সে অবহেলা করে, তাহলে শাসনের মাধ্যমে তাকে নামাজে অভ্যস্ত করতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের বিছানা আলাদা করার নির্দেশও দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৫)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, যখন শিশু ডান ও বাম পার্থক্য করতে শেখে, তখন থেকেই তাকে নামাজের শিক্ষা দেওয়া উচিত। অর্থাৎ বয়সের পাশাপাশি শিশুর বোধশক্তির বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম।

সাহাবায়ে কেরামও সন্তানদের ভালো কাজে অভ্যস্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান করতে হবে এবং ভালো কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ ভালো কাজ নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেই মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়।

পবিত্র কোরআনে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর একটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিজের পরিবারকে নিয়মিত নামাজ ও জাকাতের নির্দেশ দিতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব অভিভাবকদের ওপরই বর্তায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি শিশুদের নামাজের খোঁজও নিতেন। হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি একবার জানতে চেয়েছিলেন, “এই শিশু কি নামাজ পড়েছে?” এতে বোঝা যায়, শিশুদের নামাজ আদায়ের বিষয়ে খোঁজ নেওয়াও সুন্নতের অংশ।

আলেমদের মতে, শিশুকে নামাজ শেখানো কখনো ভয়ভীতি দিয়ে শুরু করা উচিত নয়। বরং ভালোবাসা, উৎসাহ এবং নিজের আমলের মাধ্যমে সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মা-বাবা যদি নিজেরাই সময়মতো নামাজ আদায় করেন, তাহলে শিশুরাও সহজেই সেই অভ্যাস গ্রহণ করে।

সন্তানকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া, পরিবারের সবাই মিলে জামাতে নামাজ পড়া, নামাজের পর ছোট ছোট দোয়া শেখানো এবং ইসলামের সুন্দর আদর্শ তুলে ধরা শিশুদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে তারা নামাজকে দায়িত্ব নয়, বরং আনন্দের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে।

বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, শিশুকে কখনো কঠোর ভাষায় নয়, বরং ধৈর্য ও মমতার সঙ্গে নামাজ শেখানো উচিত। ছোট ছোট অর্জনের জন্য প্রশংসা করলে তাদের আগ্রহ আরও বাড়ে। পাশাপাশি নামাজের উপকারিতা ও আল্লাহর ভালোবাসার কথা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, শিশুকে নামাজ শেখানো শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক, সৎ ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। শৈশবেই যদি নামাজের অভ্যাস তৈরি হয়, তাহলে সেই আমল জীবনের প্রতিটি ধাপে একজন মুসলিমকে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কিনা, যা বললেন স্পিকার

শিশুকে নামাজ শেখানো: রাসুল (সা.) কী নির্দেশ দিয়েছেন?

Update Time : ১০:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

শিশুকে নামাজ শেখানো ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক দায়িত্ব। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে নামাজের প্রতি উৎসাহিত করলে তার মধ্যে আল্লাহভীতি, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। তাই ইসলাম শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নামাজের অভ্যাস তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজকে এমন একটি ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মানুষকে অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ।” (সুরা আল-আনকাবুত: ৪৫)। এই আয়াত থেকেই বোঝা যায়, নামাজ শুধু ইবাদত নয়, বরং একজন মানুষের চরিত্র গঠনেরও অন্যতম ভিত্তি।

শিশুকে নামাজ শেখানো সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্তান সাত বছর বয়সে পৌঁছালে তাকে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিতে হবে। আর দশ বছর বয়সেও যদি সে অবহেলা করে, তাহলে শাসনের মাধ্যমে তাকে নামাজে অভ্যস্ত করতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের বিছানা আলাদা করার নির্দেশও দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৫)

আরও পড়ুন  যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য রাসুল (সা.) জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, যখন শিশু ডান ও বাম পার্থক্য করতে শেখে, তখন থেকেই তাকে নামাজের শিক্ষা দেওয়া উচিত। অর্থাৎ বয়সের পাশাপাশি শিশুর বোধশক্তির বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম।

সাহাবায়ে কেরামও সন্তানদের ভালো কাজে অভ্যস্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান করতে হবে এবং ভালো কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ ভালো কাজ নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেই মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়।

পবিত্র কোরআনে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর একটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিজের পরিবারকে নিয়মিত নামাজ ও জাকাতের নির্দেশ দিতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব অভিভাবকদের ওপরই বর্তায়।

আরও পড়ুন  রাখি সাওয়ান্তের স্বীকারোক্তি: ইসলাম পালন ও নামাজ নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য

রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি শিশুদের নামাজের খোঁজও নিতেন। হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি একবার জানতে চেয়েছিলেন, “এই শিশু কি নামাজ পড়েছে?” এতে বোঝা যায়, শিশুদের নামাজ আদায়ের বিষয়ে খোঁজ নেওয়াও সুন্নতের অংশ।

আলেমদের মতে, শিশুকে নামাজ শেখানো কখনো ভয়ভীতি দিয়ে শুরু করা উচিত নয়। বরং ভালোবাসা, উৎসাহ এবং নিজের আমলের মাধ্যমে সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মা-বাবা যদি নিজেরাই সময়মতো নামাজ আদায় করেন, তাহলে শিশুরাও সহজেই সেই অভ্যাস গ্রহণ করে।

সন্তানকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া, পরিবারের সবাই মিলে জামাতে নামাজ পড়া, নামাজের পর ছোট ছোট দোয়া শেখানো এবং ইসলামের সুন্দর আদর্শ তুলে ধরা শিশুদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে তারা নামাজকে দায়িত্ব নয়, বরং আনন্দের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে।

আরও পড়ুন  মুমিনের আত্মায় ঝরে তওবার বৃষ্টি

বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, শিশুকে কখনো কঠোর ভাষায় নয়, বরং ধৈর্য ও মমতার সঙ্গে নামাজ শেখানো উচিত। ছোট ছোট অর্জনের জন্য প্রশংসা করলে তাদের আগ্রহ আরও বাড়ে। পাশাপাশি নামাজের উপকারিতা ও আল্লাহর ভালোবাসার কথা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, শিশুকে নামাজ শেখানো শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক, সৎ ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। শৈশবেই যদি নামাজের অভ্যাস তৈরি হয়, তাহলে সেই আমল জীবনের প্রতিটি ধাপে একজন মুসলিমকে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করবে।