সরকারি চাকরির ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মানবণ্টনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় গ্রেডভেদে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বর্তমান ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ পর্যন্ত করার কথা রয়েছে। ১১–১২তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে ৫০ করার প্রস্তাব থাকায় এটিকে বর্তমানের তুলনায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি বলা হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং গেজেট আকারে কার্যকরও হয়নি।
প্রস্তাব অনুযায়ী ১১ ও ১২তম গ্রেডের পদে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষার ৯০ ও মৌখিক পরীক্ষার ১০ নম্বরের পরিবর্তে লিখিত ১০০ এবং মৌখিক ৫০ নম্বর রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে এই দুই গ্রেডে মোট পরীক্ষার নম্বরও বাড়বে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে চূড়ান্ত নির্বাচনে ভাইভার প্রভাব বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি হবে।
১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের পদেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এসব পদে লিখিত পরীক্ষা ৯০ এবং ভাইভা ১০ নম্বরের হলেও নতুন কাঠামোয় লিখিত ৬০ ও মৌখিক ৪০ নম্বর করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ এই গ্রেডগুলোতেও লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি ভাইভার ফল চূড়ান্ত নিয়োগে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় ৪০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বর রয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় লিখিত ও মৌখিক দুই পরীক্ষাতেই ২৫ নম্বর করে রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ভাইভা একাই অর্ধেক নম্বর বহন করবে। চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশের আশঙ্কা, ভাইভার ওজন এতটা বাড়লে নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রভাবও বেড়ে যেতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যেই পরীক্ষার মানবণ্টন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুক্তি অনুযায়ী, প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে লিখিত পরীক্ষায় অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই প্রার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা যাচাইয়ে মৌখিক পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছে। জনপ্রশাসন সচিবও এই উদ্যোগকে প্রশাসনে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থী ও জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট অনেকের আশঙ্কা, ভাইভার নম্বর বেশি হলে স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত কিংবা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয়েছে। এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সরকার বিষয়টি নিয়ে ধীরে এগোচ্ছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং কাউকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
তাই বর্তমানে যারা ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন মানবণ্টনকে এখনই কার্যকর নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত হয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশের পরই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে যেসব নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেগুলো আগের নিয়মেই শেষ করার কথা। ফলে এখন নজর থাকবে সরকার শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটিতে কী পরিবর্তন আনে এবং কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়।



























