প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। তবে কোনো যোগ্য শিক্ষক যেন অন্যায্যভাবে বঞ্চিত না হন, সে জন্য জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন প্রস্তুতের কাজে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ ধরে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি বন্ধ থাকায় চাকরিবহি সংশোধন, যোগ্যতা যাচাই এবং জ্যেষ্ঠতার ক্রম নির্ধারণে নানা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই সব তথ্য যাচাই করে একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
গত ২ জুন আপিল বিভাগের রায়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সব আইনি বাধা দূর হয়। এর ফলে দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ অত্যন্ত সংবেদনশীল। কোনো ভুল হলে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকরা তাঁদের প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে মাঠপর্যায়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রত্যাশা, প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতি সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন দ্রুত প্রকাশ করা হোক। অনেক শিক্ষক একই পদে ১২ বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে।
শিক্ষকদের মতে, হাজারো বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও পদমর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
তবে পদোন্নতির পাশাপাশি নতুন একটি বড় চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। ৩৬ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেলে সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য হবে। বিদ্যমান শূন্যপদসহ মোট প্রায় ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষক পদ খালি হয়ে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাই প্রাথমিক শিক্ষক পদোন্নতির পাশাপাশি দ্রুত নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি। এতে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট কমবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




























