ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অব্যবহৃত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:২৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৫২৭

চিত্রঃ অব্যবহৃত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণ শেষ হলেও বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোর অকার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদন নজরে আসার পরই তিনি জরুরি ভিত্তিতে এই নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ এপ্রিল জাতীয় এক দৈনিকে “৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ছয়টি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বদলে এসব ভবন অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে।

প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের করের টাকায় নির্মিত হাসপাতাল বছরের পর বছর বন্ধ রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত অবহেলার সুযোগ নেই। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। হাসপাতাল চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। বৈঠকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিষয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে হাসপাতালটি আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এ অবস্থায় পাঁচশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী হতে বাধ্য না হয়।

এছাড়া রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অবকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনাও নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে নীলফামারীতে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল বাস্তবায়নে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। হাসপাতালটি নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসাসেবায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, নীলফামারী সদর উপজেলায় এই হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা, যাতে রাজধানীর ওপর চাপ কমে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহজে উন্নত চিকিৎসা পায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বৈঠকে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলে প্রায় দুই কোটি মানুষ বসবাস করলেও সেখানে উন্নত চিকিৎসা অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা নিতে অনেক সময় ব্যর্থ হন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল চালু হলে এটি উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। জটিল রোগের চিকিৎসা, বিশেষায়িত সেবা ও উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির সুবিধা সেখানে পাওয়া যাবে। ফলে রাজধানীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরতা কমবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো নির্মাণ হলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেক হাসপাতাল ভবন নির্মাণের পর জনবল সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা সরঞ্জামের অভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এতে জনগণের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, শুধু নতুন প্রকল্প নেওয়ার চেয়ে বিদ্যমান অবকাঠামো সচল করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। বিশেষ করে শিশু চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ঘাটতি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা হাসপাতালগুলো চালু হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় জনগণের আস্থা বাড়বে এবং সরকারি বিনিয়োগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়। জনগণ আশা করছে, এবার আর শুধু নির্দেশনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না উদ্যোগ; বরং দ্রুত সময়ের মধ্যেই চালু হবে অব্যবহৃত শিশু হাসপাতালগুলো এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

অব্যবহৃত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ১২:২৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণ শেষ হলেও বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোর অকার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদন নজরে আসার পরই তিনি জরুরি ভিত্তিতে এই নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ এপ্রিল জাতীয় এক দৈনিকে “৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ছয়টি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বদলে এসব ভবন অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে।

প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের করের টাকায় নির্মিত হাসপাতাল বছরের পর বছর বন্ধ রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত অবহেলার সুযোগ নেই। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন  দুই কোটি শিশুকে হামের ভ্যাকসিন দিতে পারবে প্রধানমন্ত্রী

সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। হাসপাতাল চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। বৈঠকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিষয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে হাসপাতালটি আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এ অবস্থায় পাঁচশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী হতে বাধ্য না হয়।

এছাড়া রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসাসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অবকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনাও নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে নীলফামারীতে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  স্থানীয় নির্বাচন এক বছরের মধ্যে শেষ করতে চায় ইসি

এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল বাস্তবায়নে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। হাসপাতালটি নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসাসেবায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, নীলফামারী সদর উপজেলায় এই হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা, যাতে রাজধানীর ওপর চাপ কমে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহজে উন্নত চিকিৎসা পায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বৈঠকে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলে প্রায় দুই কোটি মানুষ বসবাস করলেও সেখানে উন্নত চিকিৎসা অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা নিতে অনেক সময় ব্যর্থ হন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল চালু হলে এটি উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। জটিল রোগের চিকিৎসা, বিশেষায়িত সেবা ও উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির সুবিধা সেখানে পাওয়া যাবে। ফলে রাজধানীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরতা কমবে।

আরও পড়ুন  জরুরি ঘোষণা: ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না এই এলাকাগুলোতে

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো নির্মাণ হলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেক হাসপাতাল ভবন নির্মাণের পর জনবল সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা সরঞ্জামের অভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এতে জনগণের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, শুধু নতুন প্রকল্প নেওয়ার চেয়ে বিদ্যমান অবকাঠামো সচল করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। বিশেষ করে শিশু চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ঘাটতি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা হাসপাতালগুলো চালু হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় জনগণের আস্থা বাড়বে এবং সরকারি বিনিয়োগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়। জনগণ আশা করছে, এবার আর শুধু নির্দেশনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না উদ্যোগ; বরং দ্রুত সময়ের মধ্যেই চালু হবে অব্যবহৃত শিশু হাসপাতালগুলো এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়।