বরিশালে পুকুরে ডুবে মৃত্যুর আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির পর পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) উপজেলার খরকী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো নাহিয়ান (৮) ও ইয়াকুব (৮)। তারা দুজনই খরকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং প্রতিদিন একসঙ্গে বিদ্যালয়ে যেত।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে দুই শিশু যথারীতি বিদ্যালয়ে যায়। দুপুরে বিদ্যালয় ছুটি হলেও তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যার দিকে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত নাহিয়ানের বাবা জাহাঙ্গীর সরদার জানান, বিদ্যালয় ছুটির পর খেলাধুলা শেষে দুই শিশু পুকুরে গোসল করতে নামে। তারা সাঁতার না জানায় পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে পরিবারের ধারণা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই বন্ধু সব সময় একসঙ্গেই চলাফেরা করত। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফেরায় এলাকাবাসীও তাদের খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেন। পরে পুকুর থেকে তাদের উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
খরকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনীল চন্দ্র দাস বলেন, দুই শিক্ষার্থীই সেদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ছুটি হওয়ার পর তাদের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, তাদের মৃত্যুর সংবাদ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নাহিয়ান ও ইয়াকুব দুজনই ভদ্র, মিশুক এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিন উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যালয় ছুটির পর খেলাধুলা শেষে গোসল করতে নেমে সাঁতার না জানার কারণে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—
- শিশুদের সবসময় প্রাপ্তবয়স্কদের নজরদারিতে রাখা।
- ছোট বয়স থেকেই সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা করা।
- পুকুর ও জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- বিদ্যালয় শেষে শিশুদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা।
- শিশুদের একা জলাশয়ের কাছে যেতে নিরুৎসাহিত করা।



























