হাম পরিস্থিতি বর্তমানে সারা দেশে উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যু হয়েছে। চলমান হাম পরিস্থিতিতে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সন্দেহজনক উপসর্গে মারা গেছে আরও ১৫ শিশু। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৪৫৬ জন রোগী।
মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা জেলাতেই মারা গেছে ৮ শিশু। এতে করে দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ২৫৯ জনের। আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৩১১ জনে।
এই সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৩ জন। নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৬৭। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৮ হাজার ৮৪২ জন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড় পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি থাকায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। এর ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম সংক্রমণ এবং হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়তি উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছে, শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে।























