শাহজালাল মাজারের ৭০৭তম ওরস মোবারক উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে একটি গরু প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) বিকেলে সিলেট নগরের ঐতিহ্যবাহী এই মাজার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে উপহারটি হস্তান্তর করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি মাজারের মোতওয়াল্লী সরেকওম ফতেউল্লাহ আল আমানের কাছে গরুটি তুলে দেন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সংক্ষিপ্ত আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও মাজার কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতি বছরের মতো এবারও ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত-আশেকান সিলেটে সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রীর এ উপহার প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, পবিত্র ওরস মোবারক উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই গরুটি উপহার দেওয়া হয়েছে, যা ভক্তদের মাঝে বিতরণ ও ব্যবহৃত হবে। তিনি আরও জানান, ওরসকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং মাজার এলাকায় চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমও সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শাহজালাল (রহ.)-এর ওরসকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। ফলে এ সময় মাজার এলাকায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে, যাতে আগত ভক্তরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারেন।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, মাজার এলাকায় বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওরসকে ঘিরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় এই আয়োজনকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। আগত ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন থাকেন। সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমানসহ মাজার ও ওরস আয়োজনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তারা জানান, ওরস উপলক্ষে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৭ মে থেকে শুরু হবে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৭০৭তম ওরস মোবারক। প্রতি বছর এই ওরস উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে ধর্মীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে কয়েকদিন ধরে চলে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল, জিকির ও দোয়া।
শাহজালাল (রহ.) বাংলার ইসলাম প্রচারের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। তার মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ফলে ওরস শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং এটি সামাজিক ও আঞ্চলিক ঐক্যেরও একটি বড় প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এবারের ওরসকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রদান স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এবারের আয়োজনও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

























