প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যাতে দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তিনি মনে করেন, বর্তমান জটিল প্রশাসনিক কাঠামো বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ না হলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং নতুন শিল্প স্থাপনে ধীরগতি দেখা দেয়। তাই যেসব মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক নয়, সেগুলোকে প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কমে আসবে এবং বিনিয়োগের গতি বাড়বে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানাগুলোকে পুনরায় চালু করার জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। এজন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এ ক্ষেত্রে একটি কার্যকর বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে।
বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বন্ধ কল-কারখানার বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে থাকে। এই সমস্যার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাই প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি আধুনিক অর্থনীতির জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অপরিহার্য। তিনি প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপ সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা আস্থা পান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তারা সবাই বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ হলে বাংলাদেশে শিল্পায়নের গতি বহুগুণ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
























