ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত নারী এমপিদের শপথ, সংসদে নতুন অধ্যায়

  • Asrafi Al Nahin
  • Update Time : ১০:০২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • ৫২১

সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি শপথ নিলেন, একটি আসন স্থগিত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার (৩ মে) রাত ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন এই সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে ৪৯টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একটি আসনে প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতা থাকায় সেটির ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে। ফলে ওই আসনের সদস্য শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।

গেজেট অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদীয় আসনসংখ্যার অনুপাতে বণ্টন করা হয়। সে হিসেবে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ জন নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১২ জন এবং স্বতন্ত্রভাবে একজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপি জোট থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরীসহ আরও অনেকে। তারা দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলেন।

জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, নাজমুন নাহার, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগমসহ অন্যান্যরা। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সুলতানা জেসমিন, যা সংরক্ষিত আসনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে একটি আসন নিয়ে আইনি জটিলতা এখনো কাটেনি। জামায়াত জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করলেও আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তার নাম এখনো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত থাকবে। ফলে তিনি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।

সংরক্ষিত নারী আসন বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। সরাসরি নির্বাচনের বাইরে এই আসনগুলো দলগুলোর জন্য একটি সুযোগ তৈরি করে, যাতে তারা অভিজ্ঞ ও যোগ্য নারী নেত্রীদের সংসদে পাঠাতে পারে। নতুন সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে। বিশেষ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়লে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকে।

নবনির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তারা দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংসদের এই নতুন অধ্যায়ে নারীদের উপস্থিতি কেবল সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী এমপিদের শপথ, সংসদে নতুন অধ্যায়

Update Time : ১০:০২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার (৩ মে) রাত ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন এই সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে ৪৯টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একটি আসনে প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতা থাকায় সেটির ফলাফল এখনো স্থগিত রয়েছে। ফলে ওই আসনের সদস্য শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।

গেজেট অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদীয় আসনসংখ্যার অনুপাতে বণ্টন করা হয়। সে হিসেবে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ জন নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১২ জন এবং স্বতন্ত্রভাবে একজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন অধ্যায়

বিএনপি জোট থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরীসহ আরও অনেকে। তারা দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলেন।

জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, নাজমুন নাহার, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগমসহ অন্যান্যরা। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সুলতানা জেসমিন, যা সংরক্ষিত আসনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

আরও পড়ুন  ৪১৯ যাত্রী নিয়ে মধ্যরাতে ঢাকাছাড়বে প্রথম হজ ফ্লাইট

এদিকে একটি আসন নিয়ে আইনি জটিলতা এখনো কাটেনি। জামায়াত জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করলেও আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তার নাম এখনো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত থাকবে। ফলে তিনি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।

সংরক্ষিত নারী আসন বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। সরাসরি নির্বাচনের বাইরে এই আসনগুলো দলগুলোর জন্য একটি সুযোগ তৈরি করে, যাতে তারা অভিজ্ঞ ও যোগ্য নারী নেত্রীদের সংসদে পাঠাতে পারে। নতুন সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনে মুক্ত শিরীন শারমিন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে। বিশেষ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়লে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকে।

নবনির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তারা দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংসদের এই নতুন অধ্যায়ে নারীদের উপস্থিতি কেবল সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।