ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ৮ শ্রমিক নিহত , সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ

  • Masura Akter Shumaya
  • Update Time : ১১:৫৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • ৫০৪

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ৮ শ্রমিক নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ নিয়ে বিস্তারিত জানুন।

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ৮ জন নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। রোববার (৩ মে ২০২৬) ভোরের দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজার এলাকায় এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পিকআপ ভ্যানে করে প্রায় ২০ জন নির্মাণশ্রমিক সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকা থেকে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢালাই কাজ করতে যাচ্ছিলেন। পিকআপে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, বিশেষ করে একটি ঢালাই মেশিনও ছিল।

পিকআপটি তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পিকআপে থাকা শ্রমিকরা ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং বাকিরা গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে আহতদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহও উদ্ধার করে একই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মো. সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার সেতটি গ্রামের মোছা. মুন্নি (৩৫), নুরনগর এলাকার মো. ফরিদুল (৩৫) এবং সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার মো. বদরুল (৩০)। বাকি নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজন জানান, তারা প্রতিদিনের মতো কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে ট্রাকটি দ্রুতগতিতে এসে পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও পিকআপটি ঘটনাস্থলেই রয়েছে এবং সেগুলো জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম জানান, নিহত ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নির্মাণশ্রমিকদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশার মানুষেরা প্রায়ই অনিরাপদ যানবাহনে যাতায়াত করেন, যা তাদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, যানবাহনের অনুপযুক্ত অবস্থা এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এসবই এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ। তারা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই মর্মান্তিক সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে  নিহত শ্রমিকদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ফলে এই দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানিই নয়, অনেক পরিবারের জীবিকাও বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ৮ শ্রমিক নিহত , সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ

Update Time : ১১:৫৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ৮ শ্রমিক নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ নিয়ে বিস্তারিত জানুন।

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ৮ জন নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। রোববার (৩ মে ২০২৬) ভোরের দিকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজার এলাকায় এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পিকআপ ভ্যানে করে প্রায় ২০ জন নির্মাণশ্রমিক সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকা থেকে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢালাই কাজ করতে যাচ্ছিলেন। পিকআপে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, বিশেষ করে একটি ঢালাই মেশিনও ছিল।

পিকআপটি তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পিকআপে থাকা শ্রমিকরা ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং বাকিরা গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন  বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে আহতদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহও উদ্ধার করে একই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মো. সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার সেতটি গ্রামের মোছা. মুন্নি (৩৫), নুরনগর এলাকার মো. ফরিদুল (৩৫) এবং সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার মো. বদরুল (৩০)। বাকি নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে।

আরও পড়ুন  শুক্রবার শুরু হচ্ছে প্রথম হজ ফ্লাইট: উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আহতদের মধ্যে কয়েকজন জানান, তারা প্রতিদিনের মতো কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে ট্রাকটি দ্রুতগতিতে এসে পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও পিকআপটি ঘটনাস্থলেই রয়েছে এবং সেগুলো জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম জানান, নিহত ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নির্মাণশ্রমিকদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশার মানুষেরা প্রায়ই অনিরাপদ যানবাহনে যাতায়াত করেন, যা তাদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।

আরও পড়ুন  বাংলার জাহাজ আটকানো নিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, যানবাহনের অনুপযুক্ত অবস্থা এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এসবই এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ। তারা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হবে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই মর্মান্তিক সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে  নিহত শ্রমিকদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ফলে এই দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানিই নয়, অনেক পরিবারের জীবিকাও বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।