ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কানপুরে যমজ কন্যা হত্যা, নিজেই পুলিশে ফোন করলেন বাবা Logo এনসিপিতে যোগ দিলেন জুনায়েদ-রাফে-রিফাতসহ ৪৭ নেতা Logo ৭ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস, সিলেটে ঘণ্টায় ৬০ কিমি ঝড়ের আশঙ্কা Logo দীপিকা পাড়ুকোন মা হচ্ছেন আবারও: নতুন অতিথির অপেক্ষায় রণবীর-দীপিকা পরিবার Logo যেকোনো মুহূর্তে আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে—ইরানের সতর্কবার্তা Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু হত্যা: ৬ বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার Logo চীনা মুদ্রায় ইরান থেকে তেল কিনছে ভারত, বদলাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য Logo বিশ্ব বাণিজ্যে ধাক্কা! হরমুজ প্রণালি বন্ধে অনড় ইরান, বাড়ছে তেল সংকটের শঙ্কা Logo একদিনে ৩৪ জন প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছাল বাংলাদেশে Logo আর্জেন্টিনা পাকিস্তান ম্যাচ: মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আলোচনা শুরু

বাংলার জাহাজ আটকানো নিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ১২:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৭

চিত্রঃ হরমুজ প্রণালীতে বাংলার জাহাজ আটকে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন ইরানি রাষ্ট্রদূত

টানা চল্লিশ দিনের যুদ্ধের পর গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলার জাহাজ অনুমতি না পাওয়ার খবর বড় করে প্রকাশিত হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ভুল ধারণা তৈরি হতে শুরু করে। খবরে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে, বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক দুর্বলতার কারণেই জাহাজটি যেতে পারেনি। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল অনেক বেশি জটিল এবং শর্তসাপেক্ষ।


ইরান শুরু থেকেই জানিয়েছিল, জাহাজ চলাচলের অনুমতি পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়। বরং নির্দিষ্ট শর্ত মানা সাপেক্ষেই সীমিত চলাচল চালু করা হয়েছিল। প্রথম শর্ত ছিল, ইসরাইলকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ওই হামলা চলতে থাকায় ইরান প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেয়নি। ফলে ঘোষণার পরও বহু জাহাজ নির্ধারিত সময়ে পার হতে পারেনি। বাংলার জাহাজও সেই আটকে পড়া জাহাজগুলোর একটি ছিল। গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির পর প্রথম সাত দিনে মাত্র চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ পার হতে পেরেছে।
এসবের মধ্যে একটি ছিল চীনের বাণিজ্যিক জাহাজ। অর্থাৎ ঘোষণার পরও চলাচল ছিল সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত।

পরে গত বুধবার রাতে ইসরাইল লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে।এরপর ইরান কিছু সময়ের জন্য প্রণালীতে চলাচল আরও সহজ করে। সেই সুযোগে বাংলার জাহাজ আবারও পার হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দ্বিতীয়বারও জাহাজটি আটকে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর সকালে বিভিন্ন মাধ্যমে আবারও শিরোনাম হয়, বাংলার জাহাজ অনুমতি পেল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এটিকে বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও জুড়ে দেন।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, দ্বিতীয়বার আটকে দেওয়ার পেছনে আলাদা কারণ ছিল। প্রণালী খুললেও সেখানে তিনটি কড়াকড়ি শর্ত কার্যকর ছিল। শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ চলতে পারবে, সামরিক বা যুদ্ধসংশ্লিষ্ট পণ্যবাহী জাহাজ নয়। এছাড়া প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী, কোন জাহাজ কখন যাবে তা নির্ধারণের ক্ষমতা ছিল ইরানের হাতে। এ জন্য বিপ্লবী গার্ড নৌবাহিনীর আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। যে জাহাজ অনুমতি ছাড়া প্রবেশের চেষ্টা করবে তাকে থামানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। বাংলার জাহাজ এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনি বলেই দাবি করা হয়।

তৃতীয় শর্ত ছিল, ইরান নির্ধারিত নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করতে হবে। স্বেচ্ছায় অন্য পথে বা নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলাচলের সুযোগ ছিল না। এতে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ হয় বলে তারা জানায়। এই তিন শর্তের যে কোনো একটি ভাঙলেই জাহাজ থামানো হচ্ছিল। ইরানের দাবি, শুধু বাংলাদেশের জাহাজ নয়, একই রাতে ভারতেরসহ আরও কয়েকটি দেশের জাহাজও আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু সংবাদ শিরোনামে সেসব তথ্য তেমনভাবে আসেনি। ফলে মনে হয়েছে শুধু বাংলার জাহাজকেই লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ থেকেই ভুল বোঝাবুঝি আরও বেড়েছে।

এদিকে কিছু সময় পর আবারও হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে আস্থা ফিরেনি।
তাদের অভিযোগ, অবরোধের আড়ালে জলদস্যুতার মতো কর্মকাণ্ড চলেছে। এ কারণে আগের মতো কঠোর নজরদারি ফের চালু করা হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ইরানকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে। এই সমর্থনের বিষয়টি তেহরান সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্রের মর্যাদায় বিবেচনা করা হয় বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ইরান ক্ষুব্ধ—এমন খবর সঠিক নয়। তিনি জানান, বাংলাদেশকে নানা আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বিবেচনা করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক খাতের বড় বাজার। এই কারণগুলো ইরান বোঝে এবং সহানুভূতির সঙ্গে দেখে বলে রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।তাই কোনো বিবৃতি বা অবস্থান নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। দুই দেশের সম্পর্ক বাস্তবে ইতিবাচক বলেও তিনি জানান।

জাহাজ আটকে যাওয়ার বিষয়ে তিনি আরেকটি কারণ তুলে ধরেন। বাংলাদেশ শুরুতে যে তালিকা পাঠিয়েছিল, তাতে কিছু ভুল ছিল বলে জানান তিনি। পরে সংশোধিত তালিকা দেওয়া হলেও ততক্ষণে অন্য দেশের আবেদন আগে জমা পড়ে। ফলে ক্রমানুসারে অনুমতি দিতে গিয়ে বিলম্ব হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় চলাচল চালু থাকায় একটি ধারাবাহিকতা মানতে হয়েছে। যাদের আবেদন আগে এসেছে, তাদের আগে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখানে বাংলাদেশকে আলাদা করে বঞ্চিত করার প্রশ্ন নেই। বরং সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতে ইরান সচেষ্ট ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

সব মিলিয়ে বাংলার জাহাজ আটকে যাওয়ার ঘটনায় যতটা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, বাস্তবতা তার চেয়ে ভিন্ন। নিরাপত্তা, অনুমতি, তালিকা ও আন্তর্জাতিক সংঘাত—সবকিছু মিলিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। গণমাধ্যমে অসম্পূর্ণ তথ্য গেলে জনমনে বিভ্রান্তি বাড়ে, এ ঘটনাও তার উদাহরণ। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই দেশের সমন্বয়ই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

কানপুরে যমজ কন্যা হত্যা, নিজেই পুলিশে ফোন করলেন বাবা

বাংলার জাহাজ আটকানো নিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

Update Time : ১২:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

টানা চল্লিশ দিনের যুদ্ধের পর গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলার জাহাজ অনুমতি না পাওয়ার খবর বড় করে প্রকাশিত হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ভুল ধারণা তৈরি হতে শুরু করে। খবরে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ে যে, বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক দুর্বলতার কারণেই জাহাজটি যেতে পারেনি। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল অনেক বেশি জটিল এবং শর্তসাপেক্ষ।


ইরান শুরু থেকেই জানিয়েছিল, জাহাজ চলাচলের অনুমতি পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়। বরং নির্দিষ্ট শর্ত মানা সাপেক্ষেই সীমিত চলাচল চালু করা হয়েছিল। প্রথম শর্ত ছিল, ইসরাইলকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ওই হামলা চলতে থাকায় ইরান প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেয়নি। ফলে ঘোষণার পরও বহু জাহাজ নির্ধারিত সময়ে পার হতে পারেনি। বাংলার জাহাজও সেই আটকে পড়া জাহাজগুলোর একটি ছিল। গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির পর প্রথম সাত দিনে মাত্র চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ পার হতে পেরেছে।
এসবের মধ্যে একটি ছিল চীনের বাণিজ্যিক জাহাজ। অর্থাৎ ঘোষণার পরও চলাচল ছিল সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত।

পরে গত বুধবার রাতে ইসরাইল লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে।এরপর ইরান কিছু সময়ের জন্য প্রণালীতে চলাচল আরও সহজ করে। সেই সুযোগে বাংলার জাহাজ আবারও পার হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দ্বিতীয়বারও জাহাজটি আটকে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর সকালে বিভিন্ন মাধ্যমে আবারও শিরোনাম হয়, বাংলার জাহাজ অনুমতি পেল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এটিকে বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও জুড়ে দেন।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, দ্বিতীয়বার আটকে দেওয়ার পেছনে আলাদা কারণ ছিল। প্রণালী খুললেও সেখানে তিনটি কড়াকড়ি শর্ত কার্যকর ছিল। শুধু বাণিজ্যিক জাহাজ চলতে পারবে, সামরিক বা যুদ্ধসংশ্লিষ্ট পণ্যবাহী জাহাজ নয়। এছাড়া প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী, কোন জাহাজ কখন যাবে তা নির্ধারণের ক্ষমতা ছিল ইরানের হাতে। এ জন্য বিপ্লবী গার্ড নৌবাহিনীর আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। যে জাহাজ অনুমতি ছাড়া প্রবেশের চেষ্টা করবে তাকে থামানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। বাংলার জাহাজ এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনি বলেই দাবি করা হয়।

তৃতীয় শর্ত ছিল, ইরান নির্ধারিত নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করতে হবে। স্বেচ্ছায় অন্য পথে বা নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলাচলের সুযোগ ছিল না। এতে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ হয় বলে তারা জানায়। এই তিন শর্তের যে কোনো একটি ভাঙলেই জাহাজ থামানো হচ্ছিল। ইরানের দাবি, শুধু বাংলাদেশের জাহাজ নয়, একই রাতে ভারতেরসহ আরও কয়েকটি দেশের জাহাজও আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু সংবাদ শিরোনামে সেসব তথ্য তেমনভাবে আসেনি। ফলে মনে হয়েছে শুধু বাংলার জাহাজকেই লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ থেকেই ভুল বোঝাবুঝি আরও বেড়েছে।

এদিকে কিছু সময় পর আবারও হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে আস্থা ফিরেনি।
তাদের অভিযোগ, অবরোধের আড়ালে জলদস্যুতার মতো কর্মকাণ্ড চলেছে। এ কারণে আগের মতো কঠোর নজরদারি ফের চালু করা হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ইরানকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে। এই সমর্থনের বিষয়টি তেহরান সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্রের মর্যাদায় বিবেচনা করা হয় বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ইরান ক্ষুব্ধ—এমন খবর সঠিক নয়। তিনি জানান, বাংলাদেশকে নানা আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বিবেচনা করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক খাতের বড় বাজার। এই কারণগুলো ইরান বোঝে এবং সহানুভূতির সঙ্গে দেখে বলে রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।তাই কোনো বিবৃতি বা অবস্থান নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। দুই দেশের সম্পর্ক বাস্তবে ইতিবাচক বলেও তিনি জানান।

জাহাজ আটকে যাওয়ার বিষয়ে তিনি আরেকটি কারণ তুলে ধরেন। বাংলাদেশ শুরুতে যে তালিকা পাঠিয়েছিল, তাতে কিছু ভুল ছিল বলে জানান তিনি। পরে সংশোধিত তালিকা দেওয়া হলেও ততক্ষণে অন্য দেশের আবেদন আগে জমা পড়ে। ফলে ক্রমানুসারে অনুমতি দিতে গিয়ে বিলম্ব হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় চলাচল চালু থাকায় একটি ধারাবাহিকতা মানতে হয়েছে। যাদের আবেদন আগে এসেছে, তাদের আগে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখানে বাংলাদেশকে আলাদা করে বঞ্চিত করার প্রশ্ন নেই। বরং সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাতে ইরান সচেষ্ট ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

সব মিলিয়ে বাংলার জাহাজ আটকে যাওয়ার ঘটনায় যতটা রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, বাস্তবতা তার চেয়ে ভিন্ন। নিরাপত্তা, অনুমতি, তালিকা ও আন্তর্জাতিক সংঘাত—সবকিছু মিলিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। গণমাধ্যমে অসম্পূর্ণ তথ্য গেলে জনমনে বিভ্রান্তি বাড়ে, এ ঘটনাও তার উদাহরণ। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই দেশের সমন্বয়ই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।