ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন শিশুদের গান, ছবি-ভিডিও প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন Logo গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্রীয় সংস্কার অসম্ভব: মিয়া গোলাম পরওয়ার Logo পুলিশের পোশাকে বড় পরিবর্তন, ফিরছে পরিচিত নীল-খাকি রং Logo সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন উদ্যোগ Logo কোন শাক কেন খাবেন? ১২ শাকের অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগুণ জানুন Logo বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে নতুন চিন্তা, বিষধর প্রাণী নিয়ে সতর্ক জার্মান ফুটবলাররা Logo মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতিতে বদলে যাবে আপনার শরীর ও মন! Logo সংস্কার বাস্তবায়নে ছাড় নয়: এনসিপির কঠোর বার্তা Logo কোলস্ল সালাদ বানানোর সহজ রেসিপি, স্বাদ হবে রেস্টুরেন্টের মতো Logo বেন গিভিরের হুঁশিয়ারি: ‘পুরো লেবানন পুড়িয়ে ফেলার দাবি’

নিরাপত্তার গ্যারান্টি পেলে পরশুই দেশে ফিরবেন সাকিব

সাকিব আল হাসান। ছবি : সংগৃহীত

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে ব্যস্ত থাকলেও, দেশে ফেরা নিয়ে এবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই তারকা অলরাউন্ডার। সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকিব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি অবিলম্বে দেশে ফিরতে প্রস্তুত।

মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম’ লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের সমসাময়িক পরিস্থিতি, নিজের বিরুদ্ধে চলমান মামলা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সাবেক এই অধিনায়ক।

নিরাপত্তা পেলে কালই ফিরবেন সাকিব! সাকিবের বিরুদ্ধে বর্তমানে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দেশে ফিরব, কোর্টে যাব এবং আইনিভাবে সব মামলা লড়ব। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে! আমি তো ভিআইপি প্রটোকল বা সামনে-পেছনে পুলিশের চারটা গাড়ি চাচ্ছি না। আমার চাওয়া শুধু একজন সাধারণ নাগরিকের মতো স্বাভাবিক নিরাপত্তা। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে যেন হয়রানি করা না হয়— এই গ্যারান্টি যদি কাল দেওয়া হয়, তবে আমি পরশুই দেশে ফিরব।”

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও আইনি ভোগান্তি সাকিব দাবি করেন, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করে রাখায় তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। চেক বাউন্সের মতো অতি সাধারণ আইনি বিষয়গুলোও তিনি সমাধান করতে পারছেন না। তার দাবি, গত দেড় বছর ধরে তদন্ত চললেও তার বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দুবাই থেকে কেন ফিরতে হয়েছিল? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, গত অক্টোবরে দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাকিব। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সবকিছু ঠিক আছে জেনেই আমি প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সাথে কথা বলেই রওনা হই। কিন্তু দুবাইয়ে নামার পর দেখি ফোনে মিসড কল। ব্যাক করতেই ওপাশ থেকে জানানো হয়, ‘একটু সমস্যা হয়ে গেছে, আপনি না এলে ভালো হয়।’ আমি বললাম, ঠিক আছে, তাহলে আর কী করার! এরপর দুবাইয়ে একদিন থেকেই ফিরে যাই।”

ক্রিকেট রাজনীতি ও বিশ্বকাপ ইস্যু ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তাদের রাজনীতির কড়া সমালোচনা করেন সাকিব। মুস্তাফিজের আইপিএল ইস্যু বা বিসিসিআইয়ের সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি করে আইসিসির সাথে ঝামেলায় জড়ানোকে তিনি বড় ‘ব্লান্ডার’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে এখানে নিছক পলিটিক্যাল গেম খেলা হয়েছে।

জুলাই আন্দোলন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে নিজের নীরবতা নিয়েও কথা বলেছেন সাকিব। তিনি জানান, ওই সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ছিলেন। দেশের উল্টো পিঠে থাকায় এবং দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা তিনি শুরুতে ঠিকমতো বুঝতে পারেননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সবাই আমার কাছে একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস চেয়েছিল, কিন্তু ওসবে কি খুব বড় পার্থক্য হতো?” তবে আন্দোলনে নিহত সব প্রাণের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, প্রতিটি জীবনের মূল্যই সমান।

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য স্পষ্ট করে বলেন, “আমি যে দলের খাতায় নাম লিখিয়েছি, তার প্রতি সবসময় অনুগত। আমার পল্টিবাজি করার কোনো অভ্যাস নেই। আজীবন কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না।” ৫ আগস্টের পর তার দেশে ফেরা আটকে দেওয়ার পেছনে পূর্বপরিকল্পিত বা ‘সাজানো মব’ কাজ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তথ্যসূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

জনপ্রিয় সংবাদ

স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন শিশুদের গান, ছবি-ভিডিও প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন

নিরাপত্তার গ্যারান্টি পেলে পরশুই দেশে ফিরবেন সাকিব

Update Time : ০৩:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে ব্যস্ত থাকলেও, দেশে ফেরা নিয়ে এবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই তারকা অলরাউন্ডার। সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকিব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি অবিলম্বে দেশে ফিরতে প্রস্তুত।

মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম’ লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের সমসাময়িক পরিস্থিতি, নিজের বিরুদ্ধে চলমান মামলা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সাবেক এই অধিনায়ক।

নিরাপত্তা পেলে কালই ফিরবেন সাকিব! সাকিবের বিরুদ্ধে বর্তমানে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দেশে ফিরব, কোর্টে যাব এবং আইনিভাবে সব মামলা লড়ব। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে! আমি তো ভিআইপি প্রটোকল বা সামনে-পেছনে পুলিশের চারটা গাড়ি চাচ্ছি না। আমার চাওয়া শুধু একজন সাধারণ নাগরিকের মতো স্বাভাবিক নিরাপত্তা। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে যেন হয়রানি করা না হয়— এই গ্যারান্টি যদি কাল দেওয়া হয়, তবে আমি পরশুই দেশে ফিরব।”

আরও পড়ুন  ঈদের দ্বিতীয় দিনের কোরবানি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও আইনি ভোগান্তি সাকিব দাবি করেন, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করে রাখায় তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। চেক বাউন্সের মতো অতি সাধারণ আইনি বিষয়গুলোও তিনি সমাধান করতে পারছেন না। তার দাবি, গত দেড় বছর ধরে তদন্ত চললেও তার বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দুবাই থেকে কেন ফিরতে হয়েছিল? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, গত অক্টোবরে দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাকিব। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সবকিছু ঠিক আছে জেনেই আমি প্লেনে উঠেছিলাম। তখন যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সাথে কথা বলেই রওনা হই। কিন্তু দুবাইয়ে নামার পর দেখি ফোনে মিসড কল। ব্যাক করতেই ওপাশ থেকে জানানো হয়, ‘একটু সমস্যা হয়ে গেছে, আপনি না এলে ভালো হয়।’ আমি বললাম, ঠিক আছে, তাহলে আর কী করার! এরপর দুবাইয়ে একদিন থেকেই ফিরে যাই।”

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ VS পাকিস্তান টেস্ট: শান্ত সেঞ্চুরিতে ৩০১ রান

ক্রিকেট রাজনীতি ও বিশ্বকাপ ইস্যু ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তাদের রাজনীতির কড়া সমালোচনা করেন সাকিব। মুস্তাফিজের আইপিএল ইস্যু বা বিসিসিআইয়ের সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি করে আইসিসির সাথে ঝামেলায় জড়ানোকে তিনি বড় ‘ব্লান্ডার’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে এখানে নিছক পলিটিক্যাল গেম খেলা হয়েছে।

জুলাই আন্দোলন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে নিজের নীরবতা নিয়েও কথা বলেছেন সাকিব। তিনি জানান, ওই সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ছিলেন। দেশের উল্টো পিঠে থাকায় এবং দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা তিনি শুরুতে ঠিকমতো বুঝতে পারেননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সবাই আমার কাছে একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস চেয়েছিল, কিন্তু ওসবে কি খুব বড় পার্থক্য হতো?” তবে আন্দোলনে নিহত সব প্রাণের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, প্রতিটি জীবনের মূল্যই সমান।

আরও পড়ুন  পুলিশের স্বতন্ত্র পে-স্কেল দাবি: ওভারটাইম ভাতা ও নতুন সুবিধার আশ্বাস

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য স্পষ্ট করে বলেন, “আমি যে দলের খাতায় নাম লিখিয়েছি, তার প্রতি সবসময় অনুগত। আমার পল্টিবাজি করার কোনো অভ্যাস নেই। আজীবন কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে না।” ৫ আগস্টের পর তার দেশে ফেরা আটকে দেওয়ার পেছনে পূর্বপরিকল্পিত বা ‘সাজানো মব’ কাজ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তথ্যসূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম