ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৯ আগস্ট চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে বড় কর্মসূচি Logo বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, রাত পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থান Logo সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে কেন সতর্ক করল সরকার? Logo ঘরেই বানান রেস্টুরেন্ট স্টাইল ক্রিস্পি পটেটো ওয়েজেস Logo সুখবর! সৌদি উপমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখেরেজির ঢাকা সফর এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা Logo ইলিয়াস কাঞ্চন দেশে ফিরলেন: চিকিৎসা শেষে সুখবর, জানালেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা Logo নিষিদ্ধ সংগঠন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মিজানুর রহমানের সহযোগী চন্দনাইশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বর্তমানে সক্রিয় ২ কর্মী গ্রেপ্তার Logo আপেলের উপকারিতা: ৭টি বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য উপকারিতা যা আপনাকে অবাক করবে Logo BTS গ্র্যামি বয়কট: গ্র্যামি থেকে সরানো হলো BTS-এর ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ভিডিও Logo ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার: দুর্গন্ধ দূর করার ৭টি সহজ উপায়

সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে কেন সতর্ক করল সরকার?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে সতর্কতার নির্দেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের

সরকারি দপ্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এআই ব্যবহারের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্ন্যান্স-২ শাখা থেকে গত ২৮ জুলাই এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিটি দেশের সব সিনিয়র সচিব ও সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে সরকারি দাপ্তরিক কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারি দপ্তরগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক কাজ দ্রুত ও সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যথাযথ সতর্কতা ছাড়া এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অসতর্কভাবে এআই টুল ব্যবহার করলে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশিত হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সরকারি দাপ্তরিক কাজে এআই ব্যবহারের সময় তথ্যের ধরন ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে গোপনীয় তথ্য কোনো অনিরাপদ এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

চিঠিতে সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এআই টুল ব্যবহারের আগে তথ্যের সংবেদনশীলতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে যেন সরকারি তথ্য কোনোভাবেই অননুমোদিত ব্যক্তির হাতে না যায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি দাপ্তরিক কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। শুধু কাজের গতি বাড়ানোর জন্য তথ্যের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রম আরও দক্ষ ও আধুনিক করার পাশাপাশি তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোতেও এর ব্যবহার বাড়ছে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এআই প্রযুক্তি সরকারি কাজে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর ব্যবহারে তথ্য সুরক্ষা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি নথি, ব্যক্তিগত তথ্য ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।

৯ আগস্ট চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে বড় কর্মসূচি

সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে কেন সতর্ক করল সরকার?

Update Time : ০৪:০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি দপ্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এআই ব্যবহারের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ই-গভর্ন্যান্স-২ শাখা থেকে গত ২৮ জুলাই এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিটি দেশের সব সিনিয়র সচিব ও সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে সরকারি দাপ্তরিক কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারি দপ্তরগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক কাজ দ্রুত ও সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যথাযথ সতর্কতা ছাড়া এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন  রাইস কুকার নাকি প্রেশার কুকার? কোনটি বেশি উপকারী

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অসতর্কভাবে এআই টুল ব্যবহার করলে সরকারি সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশিত হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সরকারি দাপ্তরিক কাজে এআই ব্যবহারের সময় তথ্যের ধরন ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে গোপনীয় তথ্য কোনো অনিরাপদ এআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

চিঠিতে সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এআই টুল ব্যবহারের আগে তথ্যের সংবেদনশীলতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে যেন সরকারি তথ্য কোনোভাবেই অননুমোদিত ব্যক্তির হাতে না যায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  এজিআই ও ডিজাইনারদের ভবিষ্যৎ: এআই কি চাকরি কেড়ে নেবে?

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি দাপ্তরিক কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। শুধু কাজের গতি বাড়ানোর জন্য তথ্যের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রম আরও দক্ষ ও আধুনিক করার পাশাপাশি তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ব্রাউন রাইস নাকি সাদা ভাত? চিকিৎসকের পরামর্শ জানুন

সরকারের লক্ষ্য হলো তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোতেও এর ব্যবহার বাড়ছে। তাই প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এআই প্রযুক্তি সরকারি কাজে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর ব্যবহারে তথ্য সুরক্ষা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি নথি, ব্যক্তিগত তথ্য ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি তথ্যের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ন রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।