ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত ভিসা সমস্যা শিথিল হবে শিগগিরই: প্রতিমন্ত্রী

  • Asrafi Al Nahin
  • Update Time : ০৮:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৫০৯

ভারত ভিসা সমস্যা শিথিল হবে শিগগিরই: প্রতিমন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে চলমান ভিসা জটিলতা শিগগিরই শিথিল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং বর্তমান সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে দূর হবে।

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান ভিসা সমস্যা সাময়িক এবং এটি দ্রুত সমাধানের পথে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই ভারতের সঙ্গে সব ধরনের ভিসা সমস্যা শিথিল হবে। এতে করে দুই দেশের মানুষ আগের মতো সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।” তার এই বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যারা চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা ব্যবসায়িক কারণে নিয়মিত ভারত যাতায়াত করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পশ্চিমবঙ্গে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে। তাই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন আমাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক একটি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এ সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। ফলে একটি আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলাফল এই সম্পর্কের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না বলেই তিনি মনে করেন।

এ সময় পুশইন ইস্যু ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সমস্যাগুলোরও সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, “গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আমরা ইতিবাচক অবস্থানে আছি। আলোচনা চলছে এবং আমরা আশা করছি, উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো যাবে।” এই বক্তব্যে বোঝা যায়, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে ভারত ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা থাকলেও তা সাময়িক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনা মহামারি পরবর্তী সময়, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং নিরাপত্তাজনিত কিছু বিষয় এই জটিলতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুই দেশের সরকার এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তাই ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়া উভয় দেশের জনগণের জন্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ভারতের সঙ্গে ভিসা সমস্যা শিথিল হওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত ভিসা সমস্যা শিথিল হবে শিগগিরই: প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৮:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ভারতের সঙ্গে চলমান ভিসা জটিলতা শিগগিরই শিথিল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং বর্তমান সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে দূর হবে।

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান ভিসা সমস্যা সাময়িক এবং এটি দ্রুত সমাধানের পথে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই ভারতের সঙ্গে সব ধরনের ভিসা সমস্যা শিথিল হবে। এতে করে দুই দেশের মানুষ আগের মতো সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।” তার এই বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যারা চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা ব্যবসায়িক কারণে নিয়মিত ভারত যাতায়াত করেন।

আরও পড়ুন  শত্রুপক্ষকে নতুন ধাক্কা দিতে প্রস্তুত ইরানের নৌবাহিনী: খামেনি পরিবারের বার্তা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পশ্চিমবঙ্গে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে। তাই ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন আমাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক একটি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এ সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। ফলে একটি আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলাফল এই সম্পর্কের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না বলেই তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন  ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইল বাংলাদেশ সরকার

এ সময় পুশইন ইস্যু ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সমস্যাগুলোরও সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, “গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আমরা ইতিবাচক অবস্থানে আছি। আলোচনা চলছে এবং আমরা আশা করছি, উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো যাবে।” এই বক্তব্যে বোঝা যায়, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে ভারত ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা থাকলেও তা সাময়িক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনা মহামারি পরবর্তী সময়, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং নিরাপত্তাজনিত কিছু বিষয় এই জটিলতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুই দেশের সরকার এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ৯ মে লন্ডন যাচ্ছেন চিকিৎসার জন্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তাই ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়া উভয় দেশের জনগণের জন্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ভারতের সঙ্গে ভিসা সমস্যা শিথিল হওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।