ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলনবিলে চায়না দুয়ারি জালে পোনা মাছ নিধন: ভয়াবহ সংকটে জীববৈচিত্র্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৫

চলনবিলে চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে অবৈধভাবে পোনা মাছ শিকার। | ছবি: সংগৃহীত

চলনবিলে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে পোনা মাছ নিধনের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই অসাধু কিছু জেলে নিষিদ্ধ এই জাল ব্যবহার করে ছোট ছোট মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। শুধু পোনা মাছ নয়, একই সঙ্গে অসংখ্য জলজ প্রাণীও এই জালের ফাঁদে পড়ে মারা যাচ্ছে। ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি চলনবিলের জীববৈচিত্র্য এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে।

দেশের সবচেয়ে বড় বিলগুলোর একটি চলনবিল নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। একসময় এই বিল ছিল দেশীয় মাছের অন্যতম নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র। বর্ষার পানিতে বিল ভরে উঠলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ স্বাভাবিকভাবে বংশবিস্তার করত। কিন্তু বর্তমানে নিষিদ্ধ চলনবিলে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের কারণে সেই প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে পুঁটি, টেংরা, শোল, টাকি, কৈসহ বিভিন্ন মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা হচ্ছে।

এই জালের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো এটি শুধু মাছই ধরে না, বরং পানিতে থাকা প্রায় সব ধরনের ছোট প্রাণীকেও আটকে ফেলে। সাপ, কুইচা, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণী প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে গেলে পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব মাছ উৎপাদনের ওপরও পড়বে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও চলনবিলে সহজেই দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন আগের তুলনায় মাছের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারকারী অনেক জেলের দাবি, দারিদ্র্যের কারণে তারা এই পথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রশাসনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানিয়েছেন, চলনবিল ও হালতি বিলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বহু নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে অভিযানের পরও কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবারও অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। জেলেদের সচেতন করা, বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মাছের প্রজনন মৌসুমে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবেই চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

চলনবিল শুধু একটি বিল নয়, এটি বাংলাদেশের মিঠাপানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই চলনবিলে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার বন্ধে প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং জেলেদের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

জনপ্রিয় সংবাদ

চলনবিলে চায়না দুয়ারি জালে পোনা মাছ নিধন: ভয়াবহ সংকটে জীববৈচিত্র্য

Update Time : ১১:৪৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চলনবিলে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে পোনা মাছ নিধনের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই অসাধু কিছু জেলে নিষিদ্ধ এই জাল ব্যবহার করে ছোট ছোট মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। শুধু পোনা মাছ নয়, একই সঙ্গে অসংখ্য জলজ প্রাণীও এই জালের ফাঁদে পড়ে মারা যাচ্ছে। ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি চলনবিলের জীববৈচিত্র্য এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে।

দেশের সবচেয়ে বড় বিলগুলোর একটি চলনবিল নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। একসময় এই বিল ছিল দেশীয় মাছের অন্যতম নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র। বর্ষার পানিতে বিল ভরে উঠলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ স্বাভাবিকভাবে বংশবিস্তার করত। কিন্তু বর্তমানে নিষিদ্ধ চলনবিলে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারের কারণে সেই প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে পুঁটি, টেংরা, শোল, টাকি, কৈসহ বিভিন্ন মাছের পোনা নির্বিচারে ধরা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত লালমনিরহাট সীমান্তে

এই জালের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো এটি শুধু মাছই ধরে না, বরং পানিতে থাকা প্রায় সব ধরনের ছোট প্রাণীকেও আটকে ফেলে। সাপ, কুইচা, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণী প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে গেলে পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব মাছ উৎপাদনের ওপরও পড়বে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও চলনবিলে সহজেই দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন আগের তুলনায় মাছের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহারকারী অনেক জেলের দাবি, দারিদ্র্যের কারণে তারা এই পথে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের চিঠি: ৫টি অসাধারণ বার্তায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা

প্রশাসনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানিয়েছেন, চলনবিল ও হালতি বিলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বহু নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে অভিযানের পরও কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবারও অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি মুক্তির উদ্যোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। জেলেদের সচেতন করা, বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মাছের প্রজনন মৌসুমে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবেই চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

চলনবিল শুধু একটি বিল নয়, এটি বাংলাদেশের মিঠাপানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই চলনবিলে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার বন্ধে প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং জেলেদের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর পথ।