ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবিস্মরণীয় ফেরান তোরেস বিশ্বকাপ ফাইনাল গোল, স্পেনের ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান

ফেরান তোরেসের ঐতিহাসিক গোল উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত।

ফেরান তোরেস বিশ্বকাপ ফাইনাল গোল—এই একটি মুহূর্তই বদলে দিল স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাস। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে বদলি হিসেবে নেমে করা তাঁর একমাত্র গোলেই ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আসা এই শিরোপা স্প্যানিশ সমর্থকদের জন্য ছিল আবেগ, গর্ব এবং আনন্দের এক অনন্য উপলক্ষ।

ম্যাচের ১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর দারুণ ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস বল বাড়িয়ে দেন ডানদিকে। সেখান থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন ফেরান তোরেস। গোলের পর মুহূর্তেই আনন্দে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং স্পেনকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশ্বকাপজুড়ে অবশ্য তোরেসের সময়টা মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে তাঁর একটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়। সেই মুহূর্তে হতাশায় চোখের পানি লুকাতে পারেননি তিনি। এরপর আরও কয়েকটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা পাননি। সমালোচনার তীরও ছুটে আসে তাঁর দিকে। তবে ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নিজের জবাবটা দিয়েছেন মাঠেই।

ফাইনালে ৬২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তোরেস। এরপর ম্যাচের গতি বদলে দেন নিজের উপস্থিতি দিয়ে। অতিরিক্ত সময়ে তাঁর করা গোলটি শুধু স্পেনকে শিরোপাই এনে দেয়নি, বরং তাঁকে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে দিয়েছে। ২০১৪ সালে মারিও গোটশের পর তিনিই প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে গোল করলেন।

এই গোলের পর অনেকেই স্মরণ করছেন ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা। সেবার অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলেই প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ১৬ বছর পর একইভাবে অতিরিক্ত সময়ে আরেকটি জয়সূচক গোল এনে দিয়ে ফেরান তোরেসও এখন স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত তোরেস বলেন, এই গোল কেবল তাঁর নিজের নয়, বরং স্পেনের প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের। বিশ্বকাপজুড়ে গোল না পেলেও শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য অবদান রাখতে পারায় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, কঠোর পরিশ্রমের ফল একদিন না একদিন অবশ্যই পাওয়া যায়।

তোরেসের এই পারফরম্যান্স নতুন করে প্রমাণ করেছে, বড় খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন হয় বড় মঞ্চেই। পুরো টুর্নামেন্টে আলোচনার বাইরে থাকা এই ফরোয়ার্ড ফাইনালের এক গোলেই হয়ে উঠেছেন স্পেনের নতুন নায়ক। ফুটবল ইতিহাসে এমন গল্প খুব বেশি দেখা যায় না, যেখানে একটি মুহূর্ত একজন খেলোয়াড়ের পুরো ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

স্পেনের এই বিশ্বকাপ জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং একটি নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। আর সেই সাফল্যের কেন্দ্রে থাকবেন ফেরান তোরেস, যার জয়সূচক গোল বহু বছর ধরে স্প্যানিশ ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অবিস্মরণীয় ফেরান তোরেস বিশ্বকাপ ফাইনাল গোল, স্পেনের ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান

Update Time : ০৫:২৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ফেরান তোরেস বিশ্বকাপ ফাইনাল গোল—এই একটি মুহূর্তই বদলে দিল স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাস। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে বদলি হিসেবে নেমে করা তাঁর একমাত্র গোলেই ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আসা এই শিরোপা স্প্যানিশ সমর্থকদের জন্য ছিল আবেগ, গর্ব এবং আনন্দের এক অনন্য উপলক্ষ।

ম্যাচের ১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর দারুণ ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস বল বাড়িয়ে দেন ডানদিকে। সেখান থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন ফেরান তোরেস। গোলের পর মুহূর্তেই আনন্দে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং স্পেনকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফি।

আরও পড়ুন  র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১৫ দলের কারো সঙ্গে খেলতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে

বিশ্বকাপজুড়ে অবশ্য তোরেসের সময়টা মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে তাঁর একটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়। সেই মুহূর্তে হতাশায় চোখের পানি লুকাতে পারেননি তিনি। এরপর আরও কয়েকটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা পাননি। সমালোচনার তীরও ছুটে আসে তাঁর দিকে। তবে ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নিজের জবাবটা দিয়েছেন মাঠেই।

ফাইনালে ৬২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তোরেস। এরপর ম্যাচের গতি বদলে দেন নিজের উপস্থিতি দিয়ে। অতিরিক্ত সময়ে তাঁর করা গোলটি শুধু স্পেনকে শিরোপাই এনে দেয়নি, বরং তাঁকে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে দিয়েছে। ২০১৪ সালে মারিও গোটশের পর তিনিই প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে গোল করলেন।

আরও পড়ুন  সঞ্জয় দেবের গাজর দিয়ে বাদ্যযন্ত্র বানিয়ে বাজানোর গল্প

এই গোলের পর অনেকেই স্মরণ করছেন ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা। সেবার অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলেই প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ১৬ বছর পর একইভাবে অতিরিক্ত সময়ে আরেকটি জয়সূচক গোল এনে দিয়ে ফেরান তোরেসও এখন স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত তোরেস বলেন, এই গোল কেবল তাঁর নিজের নয়, বরং স্পেনের প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের। বিশ্বকাপজুড়ে গোল না পেলেও শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য অবদান রাখতে পারায় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, কঠোর পরিশ্রমের ফল একদিন না একদিন অবশ্যই পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন  ফ্রান্স ম্যাচে সব রেফারি আর্জেন্টিনার! ফিফাকে ঘিরে বিতর্ক

তোরেসের এই পারফরম্যান্স নতুন করে প্রমাণ করেছে, বড় খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন হয় বড় মঞ্চেই। পুরো টুর্নামেন্টে আলোচনার বাইরে থাকা এই ফরোয়ার্ড ফাইনালের এক গোলেই হয়ে উঠেছেন স্পেনের নতুন নায়ক। ফুটবল ইতিহাসে এমন গল্প খুব বেশি দেখা যায় না, যেখানে একটি মুহূর্ত একজন খেলোয়াড়ের পুরো ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

স্পেনের এই বিশ্বকাপ জয় শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং একটি নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। আর সেই সাফল্যের কেন্দ্রে থাকবেন ফেরান তোরেস, যার জয়সূচক গোল বহু বছর ধরে স্প্যানিশ ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।