ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজিএফআইয়ের পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, ফতুল্লায় গ্রেপ্তার ৩

ফতুল্লায় ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র ও ওয়াকিটকিসহ গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) পরিচয় দিয়ে অবস্থানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে ফতুল্লার ভূইঘর সাহেবপাড়া পঞ্চায়েতের মোড় এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার বজর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রায়হান মাহাবুব আলম (৩৬), সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় রহিম মার্কেট এলাকার মৃত দুলাল গাজীর ছেলে মোহাম্মদ সাদ্দাম গাজী (৩০) এবং ফতুল্লার ভূইঘর পূর্বপাড়া এলাকার আ. ছালাম হোসেনের ছেলে নাসির হোসেন (৩৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য বা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফতুল্লার ওই এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পুলিশের কাছে আসে। তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তাদের পরিচয় ও সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে তাদের কথাবার্তায় অসংগতি দেখা যায়।

পুলিশ তাদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা বৈধ কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এরপর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের নামে তৈরি ভুয়া পরিচয়পত্র এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন কি না, সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তারা কোথায় কাজ করেন, কেন ডিজিএফআইয়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন এবং ওই এলাকায় রাতের বেলায় কেন অবস্থান করছিলেন—এসব বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় সেনাবাহিনী, ডিজিএফআই ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়েও ভুয়া সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণায় কখনো ভুয়া পরিচয়পত্র, ইউনিফর্মের ছবি, মোবাইল নম্বর কিংবা বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপ ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়।

ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয় দেওয়ার কারণে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করছিলেন, তাদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং এর মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের প্রতারণা বা অপরাধ করেছেন কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় উদ্ধার করা ভুয়া পরিচয়পত্র ও ওয়াকিটকিও তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিএফআইয়ের পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, ফতুল্লায় গ্রেপ্তার ৩

Update Time : ০৪:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের (প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর) পরিচয় দিয়ে অবস্থানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে ফতুল্লার ভূইঘর সাহেবপাড়া পঞ্চায়েতের মোড় এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার বজর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রায়হান মাহাবুব আলম (৩৬), সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় রহিম মার্কেট এলাকার মৃত দুলাল গাজীর ছেলে মোহাম্মদ সাদ্দাম গাজী (৩০) এবং ফতুল্লার ভূইঘর পূর্বপাড়া এলাকার আ. ছালাম হোসেনের ছেলে নাসির হোসেন (৩৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য বা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফতুল্লার ওই এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পুলিশের কাছে আসে। তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন  উত্তরায় স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার তরুণ রিমান্ডে

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তাদের পরিচয় ও সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে তাদের কথাবার্তায় অসংগতি দেখা যায়।

পুলিশ তাদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা বৈধ কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এরপর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের নামে তৈরি ভুয়া পরিচয়পত্র এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন কি না, সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, সড়কের পাশে মিলল মরদেহ

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে তারা কোথায় কাজ করেন, কেন ডিজিএফআইয়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন এবং ওই এলাকায় রাতের বেলায় কেন অবস্থান করছিলেন—এসব বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় সেনাবাহিনী, ডিজিএফআই ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়েও ভুয়া সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণায় কখনো ভুয়া পরিচয়পত্র, ইউনিফর্মের ছবি, মোবাইল নম্বর কিংবা বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপ ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, নিখোঁজ স্বামী

ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয় দেওয়ার কারণে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করছিলেন, তাদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং এর মাধ্যমে তারা কোনো ধরনের প্রতারণা বা অপরাধ করেছেন কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় উদ্ধার করা ভুয়া পরিচয়পত্র ও ওয়াকিটকিও তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।