ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লামিনে ইয়ামাল: তিন ‘১৯’-এর কাকতালে বিশ্বকাপ জয় Logo ম্যাডোনা: বিশ্বকাপের মঞ্চে নজর কাড়লেন পপসম্রাজ্ঞী Logo পাউ কুবারসি: বিশ্বকাপ জিতে মেসির জন্যও কাঁদলেন স্পেনের তরুণ Logo সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু Logo নাগরিক সেবা মিলবে এক প্লাটফর্মে, যাত্রা শুরু করলো ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ Logo রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হাসপাতাল Logo এপিক হেলথ কেয়ারের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ডাস্টবিন বিতরণ Logo জাবেদের গুলশানের ফ্ল্যাট খুলতেই রোলেক্সের বক্স, বিএমডব্লিউর ৫ চাবি, ৫৩২ টাই, ৩০০ কোট Logo কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো বিরল ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট মাছ Logo কর্মক্ষেত্রে নারীদের পরিপাটি ও স্বচ্ছন্দ লুকের সহজ উপায়

৫ বছরে দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম, জানাল ডয়চে ব্যাংক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৬

আগামী ৫ বছরে দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম! কী বলছে ডয়চে ব্যাংক?

বিশ্ববাজারে আগামী পাঁচ বছরে সোনার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে প্রতি আউন্স ৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ডয়চে ব্যাংক। ব্যাংকটির অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক সোনা কেনা, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে কিছু বিশ্লেষক এ পূর্বাভাসকে অত্যন্ত আশাবাদী বলেও মন্তব্য করেছেন।

ডয়চে ব্যাংকের ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন উদীয়মান দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুতগতিতে তাদের স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমান বাজারদরের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ ডলার। এরপর বিভিন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঘটনার প্রভাবে দাম বাড়তে বাড়তে বর্তমানে তা ৪ হাজার ৫০০ ডলারেরও বেশি অবস্থানে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সুদের হার হ্রাস, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় পরিসরে স্বর্ণ কেনা বাজারে দামের প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া স্বর্ণের বার, মুদ্রা এবং অন্যান্য বিনিয়োগ পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগকারীও ঝুঁকি কমাতে তাদের বিনিয়োগের একটি অংশ স্বর্ণে স্থানান্তর করছেন।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক মাইকেল শুয়েহ বলেন, বর্তমানে বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও বড় ক্রেতাদের প্রভাব অনেক বেশি। ফলে গহনা খাতের মতো দাম-সংবেদনশীল ক্রেতাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। তার মতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্বর্ণের শক্তিশালী অবস্থানের অন্যতম কারণ ছিল এই ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা।

তবে সব বিশ্লেষক একই মত পোষণ করছেন না। ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ভুর্টেমবের্গের বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার মনে করেন, স্বর্ণের মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী থাকলেও আগামী পাঁচ বছরে দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো যথেষ্ট চালিকা শক্তি বর্তমানে দৃশ্যমান নয়। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গোল্ড ইটিএফে বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার গতি কিছুটা কমেছে।

অন্যদিকে ডিজেড ব্যাংকের গবেষণা বিশ্লেষক টমাস কুল্পও স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বাজারে বড় ধরনের মূল্য ওঠানামা হতে পারে। তবে আগামী ১২ মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও এটি সরাসরি কোনো আয় তৈরি করে না, তবুও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ডয়চে ভেলে (Deutsche Welle)

জনপ্রিয় সংবাদ

লামিনে ইয়ামাল: তিন ‘১৯’-এর কাকতালে বিশ্বকাপ জয়

৫ বছরে দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম, জানাল ডয়চে ব্যাংক

Update Time : ১১:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্ববাজারে আগামী পাঁচ বছরে সোনার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে প্রতি আউন্স ৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ডয়চে ব্যাংক। ব্যাংকটির অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক সোনা কেনা, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে কিছু বিশ্লেষক এ পূর্বাভাসকে অত্যন্ত আশাবাদী বলেও মন্তব্য করেছেন।

ডয়চে ব্যাংকের ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন উদীয়মান দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুতগতিতে তাদের স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমান বাজারদরের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন  দুবছর কঠিন সময় যাবে, সবাইকে কষ্ট করতে হবে : অর্থমন্ত্রী

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ ডলার। এরপর বিভিন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঘটনার প্রভাবে দাম বাড়তে বাড়তে বর্তমানে তা ৪ হাজার ৫০০ ডলারেরও বেশি অবস্থানে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সুদের হার হ্রাস, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় পরিসরে স্বর্ণ কেনা বাজারে দামের প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া স্বর্ণের বার, মুদ্রা এবং অন্যান্য বিনিয়োগ পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগকারীও ঝুঁকি কমাতে তাদের বিনিয়োগের একটি অংশ স্বর্ণে স্থানান্তর করছেন।

আরও পড়ুন  জব্দ ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ: শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠী সম্পর্কে বড় তথ্য

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক মাইকেল শুয়েহ বলেন, বর্তমানে বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও বড় ক্রেতাদের প্রভাব অনেক বেশি। ফলে গহনা খাতের মতো দাম-সংবেদনশীল ক্রেতাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। তার মতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্বর্ণের শক্তিশালী অবস্থানের অন্যতম কারণ ছিল এই ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা।

তবে সব বিশ্লেষক একই মত পোষণ করছেন না। ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ভুর্টেমবের্গের বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার মনে করেন, স্বর্ণের মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী থাকলেও আগামী পাঁচ বছরে দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো যথেষ্ট চালিকা শক্তি বর্তমানে দৃশ্যমান নয়। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গোল্ড ইটিএফে বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার গতি কিছুটা কমেছে।

আরও পড়ুন  সাংস্কৃতিক আয়ে চমক, জাদুঘর-সার্কাস এগিয়ে, নাটক-থিয়েটার সবচেয়ে পিছিয়ে

অন্যদিকে ডিজেড ব্যাংকের গবেষণা বিশ্লেষক টমাস কুল্পও স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বাজারে বড় ধরনের মূল্য ওঠানামা হতে পারে। তবে আগামী ১২ মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও এটি সরাসরি কোনো আয় তৈরি করে না, তবুও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ডয়চে ভেলে (Deutsche Welle)