ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লামিনে ইয়ামাল: তিন ‘১৯’-এর কাকতালে বিশ্বকাপ জয় Logo ম্যাডোনা: বিশ্বকাপের মঞ্চে নজর কাড়লেন পপসম্রাজ্ঞী Logo পাউ কুবারসি: বিশ্বকাপ জিতে মেসির জন্যও কাঁদলেন স্পেনের তরুণ Logo সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু Logo নাগরিক সেবা মিলবে এক প্লাটফর্মে, যাত্রা শুরু করলো ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ Logo রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হাসপাতাল Logo এপিক হেলথ কেয়ারের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ডাস্টবিন বিতরণ Logo জাবেদের গুলশানের ফ্ল্যাট খুলতেই রোলেক্সের বক্স, বিএমডব্লিউর ৫ চাবি, ৫৩২ টাই, ৩০০ কোট Logo কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো বিরল ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট মাছ Logo কর্মক্ষেত্রে নারীদের পরিপাটি ও স্বচ্ছন্দ লুকের সহজ উপায়

ছাত্রদলের জুলাই আন্দোলন: শক্তিশালী বার্তায় রাকিবুল ইসলামের প্রতিশ্রুতি

আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রদলের জুলাই আন্দোলন নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস ও আত্মত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। এই আন্দোলনের চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রোববার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘স্মরণে জুলাই-ছাত্রদল ও অন্যান্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের এই ত্যাগ ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থের জন্য নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ছিল।

রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা। যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি মনে করেন, এই আত্মত্যাগই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন পরিস্থিতি, পুলিশি বাধা এবং প্রতিপক্ষের হামলার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, গত দুই বছরে সংগঠনটি দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হল বা রুম দখলের রাজনীতি করেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা কিংবা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়—এমন কোনো কার্যক্রমেও ছাত্রদল জড়িত ছিল না। বরং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সংগঠনটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ছাত্রদল ভবিষ্যতেও দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস, দখলদারত্ব বা সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হতে দেবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন এখনো হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই চেতনা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতীতের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ইতিহাসের এই অধ্যায় নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লামিনে ইয়ামাল: তিন ‘১৯’-এর কাকতালে বিশ্বকাপ জয়

ছাত্রদলের জুলাই আন্দোলন: শক্তিশালী বার্তায় রাকিবুল ইসলামের প্রতিশ্রুতি

Update Time : ১১:৫৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ছাত্রদলের জুলাই আন্দোলন নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস ও আত্মত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। এই আন্দোলনের চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রোববার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘স্মরণে জুলাই-ছাত্রদল ও অন্যান্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের এই ত্যাগ ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থের জন্য নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ছিল।

রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা। যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি মনে করেন, এই আত্মত্যাগই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন পরিস্থিতি, পুলিশি বাধা এবং প্রতিপক্ষের হামলার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, গত দুই বছরে সংগঠনটি দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হল বা রুম দখলের রাজনীতি করেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা কিংবা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়—এমন কোনো কার্যক্রমেও ছাত্রদল জড়িত ছিল না। বরং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সংগঠনটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ছাত্রদল ভবিষ্যতেও দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস, দখলদারত্ব বা সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হতে দেবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন এখনো হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই চেতনা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতীতের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ইতিহাসের এই অধ্যায় নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করবে।