বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন তারেক রহমান।
বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন প্রতি বছরের মতো এবারও তাদের তালিকা প্রকাশ করেছে।
‘দ্য ১০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল অব ২০২৬’ শিরোনামে প্রকাশিত এই তালিকায় বিশ্বজুড়ে আলোচিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় উঠে আসায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি তারেক রহমানের নামও রয়েছে।
এতে জায়গা পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
তাদের মতো প্রভাবশালী নেতাদের পাশে নাম ওঠায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব বেড়েছে তারেক রহমানের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
টাইম ম্যাগাজিনে তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধ লিখেছেন চার্লি ক্যাম্পবেল।
তিনি ম্যাগাজিনটির সিঙ্গাপুর ব্যুরোর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার লেখায় উঠে এসেছে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক উত্থানের গল্প।
বিশেষ করে গত কয়েক বছরের নাটকীয় পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
লেখায় বলা হয়, মাত্র কয়েক মাস আগেও তিনি লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন।
দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন তার জীবনে বড় মোড় এনে দেয়।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি নতুনভাবে জাতীয় রাজনীতিতে আবির্ভূত হন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন।
এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে শুরু করে।
এই সময় তারেক রহমান বিরোধী রাজনীতির কর্মী থেকে জাতীয় নেতৃত্বের সম্ভাবনায় উঠে আসেন।
তার এই রূপান্তর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর তিনি দেশে ফেরেন।
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভূমিধস জয় লাভ করেন তিনি।
এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়া-এর রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করেছেন।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই সামনে এগোচ্ছেন তারেক রহমান।
এই বিষয়টিও টাইম ম্যাগাজিনের লেখায় গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত জীবনে একটি বড় শোকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
ঢাকায় ফেরার মাত্র পাঁচদিন পরই তার মা খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তখনও শোকাহত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে পরিণত করতে চান।
তিনি বিশ্বাস করেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানান।
তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তার বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি সমস্যায় ভুগছে।
এর পাশাপাশি যুব বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
এই সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কিছু সংকট রয়েছে।
বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অতীতের তুলনায় অবনতির দিকে গেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কূটনৈতিক দক্ষতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সম্পর্ক কীভাবে উন্নত হবে, সেটিও নজরে রয়েছে।।
লেখায় আরও বলা হয়, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
যদিও পরবর্তীতে আদালত সেগুলো খারিজ করে দেয়।
তবুও এই অভিযোগ তার রাজনৈতিক যাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তার সম্ভাব্য সুবিধাজনক সময়কে সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর তিনি সময় নষ্ট করতে চান না।
তিনি দ্রুত কাজ শুরু করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান।
এই তালিকায় আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব স্থান পেয়েছেন।
গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়েছেন এতে।
এছাড়া ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর নামও রয়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের এই তালিকা বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে।
তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবস্থান কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তবে এই স্বীকৃতি তাকে নতুন দায়িত্ব ও প্রত্যাশার মুখে দাঁড় করিয়েছে।





























