বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নতুন নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় অনুমোদনের পর জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মীরবাড়ি ইউনিয়নের নাম হয়েছে বেতগাড়ী ইউনিয়ন, সীমান্ত ইউনিয়নের নাম জগন্নাথপুর ইউনিয়ন এবং দিগন্ত ইউনিয়নের নাম রহবল ইউনিয়ন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৃথক গণশুনানির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়ার পর নতুন নাম চূড়ান্ত করা হয়। সভায় অনুমোদনের পর পরিবর্তিত নামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন এ সিদ্ধান্তের চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
এর আগে গত ২৩ জুন শিবগঞ্জ উপজেলার বেতগাড়ী মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোকামতলা উপজেলার জগন্নাথপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং ভরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে পৃথক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২৫ জুন মোকামতলা উপজেলার রহবল উচ্চবিদ্যালয় মাঠেও আরেকটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত সংগ্রহ করা হয়।
পটভূমিতে রয়েছে গত ১১ জুন প্রকাশিত বগুড়া জেলা প্রশাসনের গেজেট। সেখানে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। শিবগঞ্জে নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছিল মীরবাড়ি। আর মোকামতলায় তিনটি ইউনিয়নের নাম ছিল সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম।
নতুন ইউনিয়নগুলোর মধ্যে মীরবাড়ি, সীমান্ত ও দিগন্ত নাম তিনটি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ি এবং তাঁর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি পরে জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে। নামকরণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিতর্কিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয় এবং সেই প্রক্রিয়া শেষে নতুন নাম নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন নাম ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের দাবি, স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরিবর্তিত নামগুলো সরকারি নথিতে কার্যকর হবে।



























