টেকনাফ সীমান্ত বিস্ফোরণ ঘিরে বুধবার রাতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সীমান্তবর্তী জনপদে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরপর কয়েকটি ভারী বিস্ফোরণের বিকট শব্দে টেকনাফের জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত সাড়ে ৯টার পর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চার দফা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
সীমান্তঘেঁষা শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদী এলাকার বাসিন্দা মো. আনিছুর রহমান বলেন, প্রথম বিস্ফোরণের সময় তারা প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করেন। নাফ নদীর ওপারে আগুনের শিখাও দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষে মর্টারশেল বিস্ফোরণের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক মাস পর আবারও সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, বিস্ফোরণের শব্দে অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার ভেতরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এর বিকট শব্দ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে বিজিবি সদস্যরা কাজ করছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ সীমান্ত এলাকায় শোনা গেলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দেরও সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

























