রাজশাহীতে বন্ধ কারখানা আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরেছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ রাজশাহীর দুটি সরকারি কারখানা চালু করেছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন উৎপাদন ইউনিট চালু হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রায় ২৩ বছর বন্ধ থাকার পর বরেন্দ্র রাজশাহী টেক্সটাইল মিলে এখন দিন-রাত চলছে ব্যাগ উৎপাদনের কাজ। এখানে তৈরি হওয়া ব্যাগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কাছে রপ্তানি হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাজশাহী জুট মিলেও এখন জুতা, তাঁবু ও ছাতা উৎপাদন চলছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ জানিয়েছে, শুধু এই দুটি কারখানাই নয়, রাজশাহীর বিসিক শিল্পনগরের একটি বন্ধ বেসরকারি কারখানাও ভাড়ায় চালু করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে প্রায় এক হাজার কর্মী বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ উৎপাদনে কাজ করছেন। ফলে রাজশাহীতে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কারখানাগুলোতে কাজ করছেন এমন অনেকেই আগে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় তারা এখন পরিবারের সঙ্গে থেকে কাজ করতে পারছেন। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন কমেছে, তেমনি পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগও বেড়েছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে তাদের জুতা ও লাগেজ রপ্তানি বেড়ে ১৭৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯২ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ বাড়তে থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, পরিত্যক্ত সরকারি কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা গেলে নতুন শিল্প স্থাপনের তুলনায় কম সময়ে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়। তবে ঢাকার বাইরে শিল্প পরিচালনায় কাঁচামাল পরিবহন ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।
























